Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১, ২০২৬

বারুইপুর এনকাউন্টার-কাণ্ডে তদন্তকারী সংস্থা বদলের দাবি, হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বারুইপুর এনকাউন্টার-কাণ্ডে তদন্তকারী সংস্থা বদলের দাবি, হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের

বারুইপুরের সূর্যপুরে পুলিশের গুলিতে বন্দি প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে নতুন জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র এই মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যে পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, সেই পুলিশের অধীনস্থ সংস্থার মাধ্যমে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন প্রভাস মণ্ডল। পুলিশি অভিযানে তিনি নিহত হন। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি পুলিশের হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার স্বার্থেই পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। তবে সিআইডির তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলাকারী তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এনকাউন্টারের সঙ্গে যুক্ত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে যেখানে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে একই পুলিশ ব্যবস্থার অধীনে তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এর আগে বারুইপুর এনকাউন্টার-কাণ্ড নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। নতুন মামলাটি যুক্ত হওয়ায় এই সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাগুলির শুনানি চলছে। ইতিমধ্যেই আদালত রাজ্যের কাছে ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছে। আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। নতুন মামলার ক্ষেত্রেও রাজ্যের রিপোর্ট দেখার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।

আদালতে মামলাকারীর পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় কেন গভীর রাতে প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কেন সেই প্রক্রিয়ার কোনও ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে, পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানা হয়নি। হাই কোর্ট এ বিষয়ে রাজ্যের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দকে ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করে হলফনামা আকারে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানতে চেয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাতের সময় কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময় ঠিক কী কী ঘটেছিল।

রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, জেরার সময় প্রভাস মণ্ডল অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন। সে কারণেই তাঁকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। বারুইপুরের যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনায় পুলিশ মোট চার জনকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের মধ্যে প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হন। বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!