- এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
- ডিসেম্বর ৩, ২০২৫
১৫ বছরেই কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ! বিশ্ব তাকিয়ে বেলজিয়ামের ‘খুদে আইনস্টাইন’-এর দিকে
বয়স মাত্র ১৫। অথচ গবেষণার গভীরতায় বহু পরিণত বিজ্ঞানীকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বেলজিয়ামের কিশোর লরেন্ট সাইমনস-এর মেধা। কোয়ান্টাম মেকানিক্সে পিএইচডি থিসিস সফলভাবে জমা করে ফের শিরোনামে বেলজিয়ামের ‘খুদে আইনস্টাইন’।
বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয় গত সপ্তাহেই জানিয়েছে, বোস পোলারন নিয়ে লরেন্টের গবেষণা পরীক্ষক মণ্ডলীর সর্বসম্মত প্রশংসা কুড়িয়েছে। সুপারফ্লুইড ও সুপারসলিড সিস্টেমে এই জটিল
কোয়াসি-পার্টিকল আচরণ সাধারাণত গবেষণা-জীবনেরও বহু পরে অধ্যয়ন করা হয়। আর সেখানেই এই কিশোরের সাবলীল বিচরণ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলকে বিস্মিত করেছে।
সাইমনস-এর শিক্ষা জীবন ভীষণ চমকপ্রদ। মাত্র চার বছর বয়সে সে স্কুলে ভর্তি হয়। ছয়েই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ। দশের আগেই ইন্দহোভেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক। বারো বছর বয়সে অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে আর-একটি স্নাতক ডিগ্রি, পরে ইজরায়েল, ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বিশেষ স্নাতকোত্তর কোর্সও শেষ করেছেন তিনি। আর এবার পিএইচডিও শেষ করলেন। লরেন্টের আইকিউ ১৪৫। তাঁর শিক্ষকদের কথায়, শিশুকাল থেকেই বিষয়বস্তুর প্রতি তার একাগ্রতা ‘অস্বাভাবিক মাত্রার’। পরিবার জানিয়েছে, শিশু বয়সেই লরেন্টের ফটোগ্রাফিক মেমরির ইঙ্গিত মেলে। তবে প্রতিভা সত্ত্বেও, পুত্রকে নিয়ে সতর্ক তাঁর বাবা-মা— আলেকজান্ডার ও লিডিয়া। চিন ও আমেরিকার একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব তাঁরা নাকচ করেছেন, শুধু ছেলেকে সাধারণ কিশোরের মতো বেড়ে উঠতে দেওয়ার জন্যই।
২০১১ সালে ঠাকুরদা-ঠাকুমাকে হারানোই লরেন্টের জীবন-বোধ পাল্টে দেয়। সে সময়ই সিদ্ধান্ত নেয় মানুষের আয়ু বাড়ানোর জন্য গবেষণা করবে। তাই কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞান— একসঙ্গে দুই মেরুর দুনিয়া জোড়া তাঁর লক্ষ্য। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে চায়, যা মানুষকে দেবে আরো দীর্ঘ, সুস্থ জীবন। তবে রেকর্ড বই বলছে, বয়সের নিরিখে লরেন্ট সর্বকনিষ্ঠ নন। ১৮১৪ সালে জার্মান প্রতিভা কার্ল ভিট্টে ১৩ বছর বয়সে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার প্রেক্ষিতে এই বয়সে কোয়ান্টাম গবেষণায় ডক্টরেট পাওয়া একেবারেই নজিরবিহীন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সাইমনস লিখেছেন, ‘ইট ইজ অফিসিয়াল নাও— ডঃ সাইমনস! সদ্যই পিএইচডি শেষ হলো। সামনে উত্থানের একটাই পথ।’ তাঁর পিএইচডি-র খবর ছড়াতেই ইউরোপ-আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। তবে পরিবারের বক্তব্য, লরেন্টের বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপাতত ইউরোপেই গবেষণা চালিয়ে যাবে কিশোর। ‘বড়ো’ হয়ে ‘সুপারহিউম্যান’ তৈরির স্বপ্নই তাঁকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানের অগ্রভাগে। মানবজীবনের আয়ু বাড়ানোর সে স্বপ্ন একদিন কোথায় পৌঁছয়, সে অপেক্ষাতেই বিশ্বের বিজ্ঞানমহল।
❤ Support Us







