Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ২, ২০২৬

বেঙ্গালুরুর ডে কেয়ারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বেঙ্গালুরুর ডে কেয়ারে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ

একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে মাত্র দু’বছর বয়সি শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । অভিযোগ, কান্নাকাটি করলেই শিশুদের জোর করে ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভিতরে বসিয়ে রাখা হতো, মুখে জেট স্প্রে দিয়ে জল ছেটানো হতো এবং কখনও কখনও শৌচাগারের ভিতর আটকে রেখে শাস্তি দেওয়া হতো । ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে, যা ক্যাপজেমিনির বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসের ভিতরে পরিচালিত হতো । সেখানে কর্মরত বহু অভিভাবক, যাঁদের সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বাড়িতে কেউ নেই, তাঁরা ছোট শিশুদের ওই ডে-কেয়ারে রেখে কাজে যেতেন । অভিযোগ, শিশুদের কান্না থামানোর নামে ডে-কেয়ারের কয়েকজন মহিলা কর্মী তাঁদের ভয় দেখাতেন এবং অমানবিকভাবে নির্যাতন করতেন ।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিশুদের জোর করে একটি ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভিতরে বসিয়ে রাখা হচ্ছে । অন্য একটি দৃশ্যে দেখা যায়, শৌচাগারের ভিতরে বসিয়ে শিশুদের মুখে জেট স্প্রে দিয়ে জল ছেটানো হচ্ছে । অভিযোগ রয়েছে, মাঝেমধ্যেই শিশুদের শৌচাগারের ভিতরে আটকে রেখেও শাস্তি দেওয়া হতো ।

ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে । ইতিমধ্যেই ডে-কেয়ার সেন্টারের পাঁচজন মহিলা কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে । অভিযোগকারী, ডে-কেয়ারের কর্মী এবং অন্যান্য সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে । তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে ।

তবে এখনও স্পষ্ট নয়, ডে-কেয়ারটি সরাসরি ক্যাপজেমিনি পরিচালনা করত, নাকি সংস্থার ক্যাম্পাসে কোনও তৃতীয় পক্ষের সংস্থা এটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে ।

এদিকে ঘটনাটি কর্নাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের নজরেও এসেছে । কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে । আশা করা হচ্ছে, কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করবে ।

ঘটনার পর ক্যাপজেমিনি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ডে-কেয়ারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে । সমাজমাধ্যমে ভিডিওগুলি ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন । অনেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন । বর্তমানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!