- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ৫, ২০২৬
‘এসআইআর’-এ বাদ মতুয়াদের নাম ! বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবসে পদ্ম শিবিরকে বিঁধলেন মমতা। ৬ মার্চ ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী
‘এসআইআর’-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে মতুয়া সমাজকে ঘিরে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রশ্নে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটমুখী বাংলায়। মতুয়া মহাসংঘের ‘বড়মা’ বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মতুয়া সমাজকে নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাকে ঘিরে রাজ্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া-সহ একাধিক জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আবার অনেকের নাম ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকত্বের প্রশ্নে উদ্বেগে থাকা এ সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সর্বতভাবে মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার বড়মার প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মমতা লেখেন, হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর-এর দেখানো পথেই মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন মানবিক সমাজ গঠনের যে আন্দোলন মতুয়া মহাসংঘ শুরু করেছিল, বড়মা সারাজীবন সে আদর্শকেই লালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বড়মার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বড়মার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মিক ও পারিবারিক। চিকিৎসা বা অন্য কোনো প্রয়োজনের সময় বড়মা যখনই ডাক দিয়েছেন, তিনি ছুটে গিয়েছেন। সে স্মৃতি তাঁর জীবনের এক মূল্যবান প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বড়মাকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মতুয়া সমাজের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও এদিন তুলে ধরেন মমতা। তিনি জানান, মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ঠাকুরনগরে স্থাপিত হয়েছে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ইউনিভার্সিটি। কৃষ্ণনগরে গড়ে তোলা হচ্ছে তার সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস। গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর দাবি, ঠাকুরনগরকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এবং মতুয়া সমাজের সার্বিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
তবে এই আবেগঘন বার্তার মধ্যেই ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তে মতুয়া সমাজকে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ দেশে বসবাস করছেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠনে অংশ নেন, তাঁদেরই নতুন করে নাগরিকত্বের প্রশ্নে দাঁড় করানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে আসলে রাজনৈতিক খেলা চলছে এবং পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন, বাংলার মানুষের অধিকার খর্ব করার কোনো চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। মতুয়া সমাজ-সহ রাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়াই চলবে বলেও জানান তিনি।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রতিশোধমূলক আচরণ করছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিজেপি অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, ভুয়ো, মৃত এবং অনুপ্রবেশকারী ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তৃণমূলের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর চাপ তৈরি করতেই এই ধর্না কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও কটাক্ষ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে বিরোধী নেত্রী হিসেবেও মমতাকে ধর্নায় বসতে হতে পারে, তাই এখন থেকেই তিনি তার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়ো রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
❤ Support Us






