- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৭, ২০২৫
বঙ্গ-বিজেপির নেতৃত্ব বদলের সম্ভাবনা ! সভাপতি নির্বাচনে বাংলায় মোদির দূত বিহারের সাংসদ রবিশঙ্কর, শোরগোল বাড়ছে গেরুয়া শিবিরে
বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। শাসকদল তৃণমূল-সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই নিজেদের ভোটকৌশল সাজাতে শুরু করেছে। দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলার অবক্ষয়, তোষণনীতির অভিযোগ তুলে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে জনমত তৈরি করতে চাইছে বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসের মতো প্রধান বিরোধী দলগুলি। পাল্টা তৃণমূলের অস্ত্র উন্নয়নের খতিয়ান আর নিরাপত্তার আশ্বাস। এরই মাঝে রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বঙ্গ বিজেপিতে নেতৃত্ব বদলের সম্ভাবনা রয়েছে? আর তা হলে নতুন সভাপতি কে হচ্ছেন!
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিজেপির সভাপতি পদ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে দলের অন্দরে। অন্তঃকলহের জেরে বারবার পিছিয়ে গিয়েছে নির্বাচনী প্রক্রিয়া। তবে এবার সভাপতি নির্বাচনের দিকেই এগোচ্ছে দল। নতুন নেতার নাম ঠিক হবে ভোটের মাধ্যমে। আর সেই নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হল প্রবীণ নেতা ও পাটনার সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদের হাতে। শুক্রবার তাঁকে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজ্য বিজেপির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। শুধু রাজ্য সভাপতি-ই নয়, জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচনও হবে রবিশঙ্করের তত্ত্বাবধানে। দলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট— সুকান্ত মজুমদারের উত্তরসূরি বেছে নিতে তৎপর বিজেপি নেতৃত্ব।
সুকান্তের উত্তরসূরি কে হবেন? ইতিমধ্যেই এই নিয়ে বিজেপির অন্দরমহলে জল্পনা তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, নতুন সভাপতির দৌড়ে রয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, অগ্নিমিত্রা পালের মতো নেতারা। এঁদের নিয়ে ঘন ঘন বৈঠক করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এ-ও শোনা যাচ্ছে, প্রার্থী না পাওয়া গেলে সুকান্তই দ্বিতীয়বারের জন্য সভাপতির দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, তিনি আরেকটি টার্মে নির্বাচিত হতে পারেন। বিজেপির এক অংশ বক্তব্য, রাজ্য সভাপতির পদে পরিবর্তন আনলে বর্তমান অস্থির পরিবেশে দল আরো ভেঙে পড়তে পারে। জেলার নেতৃত্বে রদবদলের পর বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়েছে। ফলে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে অনেকেই চাইছেন সুকান্ত মজুমদারই যেন সভাপতি হিসেবে বহাল থাকেন। এর আগে দিলীপ ঘোষ পরপর দুইবার রাজ্য সভাপতি পদের দায়িত্ব সামলেছেন। আবার অন্য একাংশ চাইছেন, একটানা ম্রিয়মাণ নেতৃত্বে আর ভরসা রাখা যায় না।
রবিশঙ্কর প্রসাদ বিজেপির অভিজ্ঞ মুখ। অটল বিহারী বাজপেয়ী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদীর জমানা— দুই সময়েই তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। দীর্ঘদিন ছিলেন দলের জাতীয় মুখপাত্রও। বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর পরিষ্কার ধারণা রয়েছে বলে মনে করছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে বাংলায় নির্বাচন করাতে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, বিজেপির জাতীয় রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ এ দিন মহারাষ্ট্রে কিরেন রিজিজু ও উত্তরাখণ্ডে হরিশ মালহোত্রকে নির্বাচনী অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছেন। বাংলাতেও সেই পরিকাঠামোরই অঙ্গ হিসেবে রবিশঙ্কর প্রসাদকে রাজ্য বিজেপির নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে আনা হয়েছে।
❤ Support Us






