- Uncategorized দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৬, ২০২৬
দেশজুড়ে গেরুয়া হাওয়া, ২০-র বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শাসন ক্ষমতায় পদ্ম জোট
ভারতের রাজনীতিতে গত এক দশকে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি-র উত্থান এক কথায় অভূতপূর্ব। ১৯৯০-এর দশকে দলটির উত্থানের সূচনা হলেও প্রকৃত আধিপত্যের যুগ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি প্রথমবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ভারতের শাসন ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে ধাপে ধাপে বিজেপি ও তার জোট এনডিএ মিলিয়ে প্রায় ২০–২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই মুহূর্তে ক্ষমতা বিস্তার করেছে, যা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, শক্তিশালী ও কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব দলটির সবচেয়ে বড় সম্পদ। নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং উন্নয়নমুখী ভাবমূর্তি ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, দলটির সাংগঠনিক কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী, যার পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ না আরএসএস-এর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। এই সংগঠন বুথস্তর পর্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করে এবং যার ফলে নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে থাকে।
তৃতীয়ত, বিজেপি একটি সুস্পষ্ট আদর্শিক অবস্থান—হিন্দুত্ব ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ—প্রচার করেছে, যা একটি বৃহৎ ভোটব্যাংক তৈরি করতে সাহায্য করেছে বিজেপিকে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সমন্বয়, যেমন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরাসরি সুবিধা প্রদান, সাধারণ মানুষের মধ্যে “সরকার কাজ করছে” এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডেটা-নির্ভর প্রচার কৌশল বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস-এর দুর্বলতা বিজেপির উত্থানকে সহজ করেছে। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের সংকটে ভুগছে এবং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক রাজ্যে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দলত্যাগের প্রবণতা বেড়েছে। জোট রাজনীতিতেও কংগ্রেস কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারেনি, ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী ঐক্য গড়ে ওঠেনি।
পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যেও বিজেপির উত্থান এই বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের শাসনের ফলে তৈরি হওয়া অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি, প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ, এবং বিরোধী ভোটের একত্রীকরণ বিজেপির পক্ষে কাজ করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আগ্রাসী প্রচার এবং নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিজেপির আধিপত্য শুধুমাত্র একটি দলের সাফল্যের গল্প নয়; এটি ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। শক্তিশালী নেতৃত্ব, সংগঠন, আদর্শ এবং আধুনিক প্রচারের সমন্বয়ে বিজেপি আজ দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে নিজেদের পুনর্গঠন করে এই আধিপত্যের মোকাবিলা করা। সেটা আগামীদিনে কতটা সম্ভব সেটা দেখার।
এই মুহূর্তে যেখানে বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় :-
- অরুণাচল প্রদেশ
অসম
ছত্তিশগড়
গুজরাট
হরিয়ানা
মধ্যপ্রদেশ
রাজস্থান
ত্রিপুরা - মণিপুর
উত্তরপ্রদেশ
উত্তরাখণ্ড
পশ্চিমবঙ্গ (২০২৬-এ প্রথমবার জয়)
যেখানে বিজেপি জোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় (এনডিএ) :
- বিহার
মহারাষ্ট্র
গোয়া - অন্ধ্রপ্রদেশ
- নাগাল্যান্ড
- সিকিম
- মেঘালয়
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (UT) যেখানে বিজেপি/এনডিএ ক্ষমতায় :-
দিল্লি (২০২৫-পরবর্তী পরিবর্তন অনুযায়ী)
জম্মু ও কাশ্মীর (প্রশাসনিক কাঠামো ভিন্ন, কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ বেশি)
পুদুচেরি (২০২৬-এ বিজেপি জোট ক্ষমতায় আসে)
মোট (রাজ্য + কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে): প্রায় ২০–২১টি এলাকায় বিজেপি/এনডিএ ক্ষমতায়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল—নির্বাচনের ফল অনুযায়ী এ তালিকা বদলাতে পারে।
❤ Support Us








