- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৬, ২০২৫
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপির প্রস্তুতি, জোর কদমে চলেছে কৌশল নির্ধারণ
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে বড়সড় এক জোট বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিজেপি। সংসদের চলমান বাদল অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার দিনে, মঙ্গলবার, এনডিএ-র সব সাংসদদের নিয়ে সংসদীয় দলীয় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওইদিন সংসদের অডিটোরিয়ামে সাংসদদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে সূত্রের খবর।
বাদল অধিবেশনের এই দ্বিতীয় এনডিএ বৈঠক আপাতদৃষ্টিতে নিয়মমাফিক মনে হলেও, ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিদায়ী উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় গত মাসে পদত্যাগ করেছিলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখালেও, দলীয় মতপার্থক্য যে তাঁর হঠাৎ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিল তা পরবর্তীতে স্পষ্ট হয়।
সাংসদদের বৈঠকের পাশাপাশি, মনোনয়নপত্র জমার দিন এনডিএ-র শীর্ষ নেতাদের এক বৃহৎ সমাবেশও হতে চলেছে, যা জোটের ঐক্যের বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বৈঠকে এনডিএভুক্ত সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। মনোনয়নের জন্য একাধিক সেট কাগজ প্রস্তুত করা হবে, যাতে বিজেপির শরিক দলগুলির নেতারা প্রস্তাবক এবং সমর্থক হিসাবে থাকবেন।
রবিবার সন্ধ্যায় বিজেপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণকারী সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক বসছে দলীয় সদর দপ্তরে, যেখানে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হবে। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উপস্থিত থাকবেন বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ দলের শীর্ষ নেতারা। ইতিমধ্যে ৭ আগস্টের এক বৈঠকে এনডিএ প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব মোদি ও নাড্ডাকে দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বিজেপি এমন একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে, যিনি দলের এবং আরএসএসের আদর্শের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত, যেভাবে আগেরবার জগদীপ ধনখড়কে শুধুমাত্র জাট ভোট টানার লক্ষ্যে মনোনীত করা হয়েছিল, সেরকম নয়। পাশাপাশি, এই মনোনয়ন থেকে একটি আঞ্চলিক এবং সামাজিক বার্তাও দেওয়া হবে। এনডিএ তার প্রার্থীর পক্ষে সর্বাধিক ভোট নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কীভাবে ভোট দিতে হয়, তা শেখাতে সংসদ ভবনে তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালাও আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারের কৌশল নির্ধারকরা বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টাও করবেন, যদিও এটা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা, কারণ বিরোধীরা ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে।
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারে তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে, যেখানে বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের মূল দুই মিত্র – তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর উপর। অন্যদিকে, ওড়িশায় ক্ষমতা হারানোর পর বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবার বিজেপিকে সমর্থন না-ও করতে পারে বলে ধারণা।
❤ Support Us






