Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

নিজেই নিজেকে শুনানির নোটিস ধরালেন বিএলও, স্ত্রীর হাতেও পৌঁছল শমন। মুর্শিদাবাদ, কাটোয়ায় চমকপ্রদ ঘটনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিজেই নিজেকে শুনানির নোটিস ধরালেন বিএলও, স্ত্রীর হাতেও পৌঁছল শমন। মুর্শিদাবাদ, কাটোয়ায় চমকপ্রদ ঘটনা

শমসেরগঞ্জ ও কাটোয়া ব্লকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ার নজিরবিহীন এক ঘটনায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ বিস্মিত। বুথ স্তরের কর্মকর্তা নিজেই নিজের হাতে শুনানির নোটিস ধরেছেনএমনকি তার স্ত্রী ও শ্বশুরকেও নোটিশ পৌঁছেছে। শমসেরগঞ্জের চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের বিএলও আবু ওবায়দা বিন জাররাহ নিজেই তাঁর হাতে নোটিস ধরার ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘বিএলও দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে২০২৫ সালের তালিকাতেও রয়েছে। তারপরও কেন আমাকে শুনানির জন্য ডাকা হলোতা বোঝা যাচ্ছে না।’ তবে নিয়ম মেনে তিনি বিডিও অফিসে হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আবু ছাড়াও তাঁর বুথে প্রায় ৩০০ জন ভোটার নোটিস পেয়েছেন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ওসিকুল আলমও বাদ যাননি। শমসেরগঞ্জের এই গণ-শুনানি’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কেতুগ্রামের ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। তিনি নিজেই নিজেকে, স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের এবং শ্বশুরের নথিতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ধরা পড়ায় কমিশনের নোটিস ধরিয়েছেন। দেবশঙ্কর পেশায় শিক্ষকভোমরকোল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত হলেও বর্তমানে কাটোয়া শহরের চৌরঙ্গি এলাকায় স্ত্রী ও পুত্র সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। জানা যাচ্ছে, এই নোটিসের কারণ দুই: তাঁর বাবার নামের পদবিতে বানান ভুল এবং স্ত্রীর বয়স ও বাবার বয়সের মধ্যে ৫০ বছরের ফারাক। দেবশঙ্কর জানিয়েছেন, “বিএলও হলেও আমি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতে বাধ্য। নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও আইনের চোখে সবাই সমান। এখানে কোনো প্রাধান্য নেই।” স্ত্রী অনিন্দিতাও স্বামীর সরকারি দায়িত্ব মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা ওঁর সরকারি কাজ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যা করেছেনতা পুরোপুরি নিয়ম মেনে করা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে কাটোয়া মহকুমা শাসক অনির্বাণ বোস বলেন, ‘বিএলও হোক বা আধিকারিক বা সাধারণ ভোটারসকলের ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশনের নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য। নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও ভিন্ন আচরণ অনুমোদিত নয়।’ তবে এই ধরনের নোটিস বিতরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালেই কেতুগ্রামে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। একাধিক বুথে একসাথে ৩০০ জনের মতো ভোটার নোটিস পেয়েছেন। বিএলও-দের অভিযোগকাজের চাপ দিন দিন বেড়ে চলেছেভোটারদের হুমকি-হুঁশিয়ারির মুখেও পড়তে হচ্ছে। মঙ্গলকোটে বিএলও-রা স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বিডিও দফতরে। প্রশাসন জানিয়েছেতাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। তবে, শমসেরগঞ্জের আবু ওবায়দা কিংবা কেতুগ্রামের দেবশঙ্করউভয়েই জানিয়েছেননিজের দায়িত্বকে যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসেবে এ ঘটনাগুলো দেখানো চ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নিয়ম মানার পাশাপাশিসাধারণ মানুষকে তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!