- দে । শ
- ডিসেম্বর ১, ২০২৫
জাতি বিদ্বেষে রক্তাক্ত মহারাষ্ট্র, গ্রেফতার ৬। নিহত তরুণকে বিয়ে প্রেমিকার
জাতপাতের গোঁড়ামির ব্যাধি এখনও আমাদের দেশে এখনও প্রবলভাবে সক্রিয়। আর সেই জাতপাতের জাঁতাকলে পড়ে অকালেই ঝরে গেল একটা তরুণ প্রাণ। মৃত্যুর পরেও অবশ্য প্রেমিকার কাছে বেঁচে রইল তরুণ। বেঁচে থাকল তাঁর ভালোবাসা। মৃত তরুণের শেষকৃত্যে প্রেমিকা কপালে সিঁদুর লাগিয়ে তরুণীর বাড়িতেই থাকার শপথ নিয়েছেন। ঘটনাটা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নান্দেদে।
আঁচল মামিদওয়ার ভালবাসতেন ২৩ বছর বয়সী সক্ষম টেটে নামে এক যুবককে। দুই ভাইয়ের মাধ্যমেই সক্ষম টেটের সঙ্গে আঁচলের পরিচয়। এরপর আঁচলের বাড়িতে সক্ষমের ঘনঘন যাতায়াতের ফলে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। তিন বছর ধরে তাঁরা পরস্পরকে ভালোবেসে আসছিল। কিন্তু জাতপাতের কারণে আঁচলের পরিবার সক্ষমের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা মেনে নিতে পারেনি। বারবার আঁচলের পরিবারের পক্ষ থেকে সক্ষমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য আঁচলের ওপর চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও আঁচল সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যায়।
সম্প্রতি আঁচল বাড়িতে জানান যে, সে সক্ষমকে ভালবাসে এবং তাঁকেই বিয়ে করবেন। এরপরই আঁচলের বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়। আঁচলের ভাই সক্ষমকে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলে। কিন্তু সক্ষমও সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি হননি। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নান্দেদের পুরনো গঞ্জ এলাকায় সক্ষমের ওপর চড়াও হন আঁচলের ভাই হিমেশ। প্রথমে খুব কাছ থেকে সক্ষমের পাঁজরে গুলি করে। এরপর একটা বড় পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আঁচলের প্রেমিক সক্ষমের। ঘটনার পরপরই আঁচলের দুই ভাই হিমেশ ও সাহিল এবং তাঁর বাবা গজানন মামিদওয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরপর উপস্থিত হয় চরম নাটকীয় মুহূর্ত। প্রেমিকের মৃত্যুর কথা জানতে পেরে শুক্রবার আঁচল সরাসরি হাজির হন সক্ষমের বাড়িতে। এরপর যেখানে শেষকৃত্য চলছিল সেই জায়গায় চলে যান। শেষকৃত্য হওয়ার সময় আঁচল সক্ষমের শরীরে হলুদ মাখিয়ে দেন এবং নিজের কপালে সিঁদুর লাগিয়ে সক্ষমের মৃতদেহকে বিয়ে করেন। তারপর তিনি সক্ষমের স্ত্রী হিসেবে সারা জীবন তাঁর বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কপালে সিঁদুর লাগানোর পর আঁচল প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, ‘সক্ষমের সঙ্গে আমার এই বিয়ে আমাদের প্রেমকে অমর করে রাখবে। আজ থেকে আমি টেটে পরিবারের বউ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভালোবাসা জিতে গেছে। এমনকি সক্ষমের মৃত্যুতেও আমার বাবা ভাইরা হেরে গেছে।’ পাশাপাশি তিনি তাঁর ভাইদের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন। আঁচল বলেন, ‘যারা আমার প্রেমিককে খুন করেছে, তাদের ফাঁসি চাই। ওরা ঠান্ডা মাথায় সক্ষমকে মেরে ফেলেছে।’ ইতিমধ্যেই পুলিশ ৬ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেফতার করেছে।
❤ Support Us





