Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুলাই ১৫, ২০২৪

মানব পাচার, দেহ ব্যবসার অভিযোগ। আট বছরের কারাদন্ড ডি ক্যাপ্রিওর প্রাক্তন বান্ধবীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মানব পাচার, দেহ ব্যবসার অভিযোগ। আট বছরের কারাদন্ড ডি ক্যাপ্রিওর প্রাক্তন বান্ধবীর

প্রাক্তন ব্রাজিলিয়ান মডেল ও ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সার , সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ ক্যাট টরেস আট বছরের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মানবপাচার ও -দেহ ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর সঙ্গে থাকা দুই মহিলা আচমকা নিখোঁজ হলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে নামে। তখন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে।

ঘটনার খোঁজ খবর করতে গিয়ে সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে কয়েকজন মহিলা জানিয়েছেন, ক্যাটের ‘র‍্যাগস টু রিচেস’ ঘটনার প্রতি তাঁরা ভীষণ আকৃষ্ট হয়। ওই কাহিনিতে ক্যাট ব্রাজিলের একটি দরিদ্র পল্লী থেকে বর্তমানে হলিউডের তাবড় তাবড় তারকাদের সঙ্গে তাঁর ওঠা বসার কাহিনি ব্যক্ত করেছিলেন। সে ঘটনা অনুপ্রাণিত করে বেশ কিছু মহিলাকে। পরবর্তীকালে তাঁরা টরেসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। । তাঁদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হত।

একসময়ে টরেসের সঙ্গে নাম জড়ায় হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর। গুজব রটেছিল টাইটানিক ছবির নায়কের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল তাঁর। ব্রাজিলিয়ান দূরদর্শনের পরিচিত মুখ টরেস তাঁর অনুগামীদের জানান, তিনি তাঁর ঐশ্বরিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ বাতলে দিতে পারেন। বেশ কিছু মহিলা তাঁর মিথ্যার মায়াজালে ধরাও দেন।

অ্যানা নামক একজন মহিলা জানিয়েছেন, টরেসের ছবি একসময় ম্যাগাজিনের কভারে নিয়মিত দেখা যেত। লিওনার্দোসহ বিভিন্ন নামী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর ছবি বিভিন্ন ম্যাগাজিনে দেখা যেত, যা দেখে অনেকেই বুঝতে পারেন অ্যানা বাস্তবিকই অনেক বড় সেলিব্রিটি!

নিউইয়র্কে থাকাকালীন টরেসের এক রুমমেট বিবিসিকে একটি বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, টরেসের ফিল্মিপাড়ার বন্ধুরা তাকে ‘আয়াহুয়াস্কা’ নামক হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগের সঙ্গে পরিচয় করায়। এই ড্রাগ ব্যবহারের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে একজন লাইফ কোচ ও হিপনোটিস্টরূপে আবিষ্কার করেন।

শীঘ্রই টরেস একটি ওয়েলনেস ওয়েবসাইট তৈরি করে। তাতে গ্রাহক পরিষেবা চালু করেন। তাঁর গ্রাহকদের তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ভালোবাসা , অর্থ ও আত্মসম্মান— যার জন্য আপনি সবসময় স্বপ্ন দেখেছেন।

টরেস ব্যক্তিগত সহায়তা পাওয়ার জন্য একটি সেলফ হেল্প ভিডিও তৈরি করেন , যেখানে তিনি দাবি করেন,সম্মোহন, ধ্যান ও শরীরচর্চার মাধ্যমে সম্পর্ক, ভাল থাকা, ব্যবসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ‘সব মুশকিল আসানে’র জন্য তিনি সেখানে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত পরিষেবা প্রদান করে থাকেন। ভিডিও কন্সাল্টেশন খরচ মাত্র ১৫০ ডলার ।

২০১৯ সালে অ্যানা টরেসের গৃহ-সহায়িকার কাজ করার জন্য ব্রাজিল থেকে নিউ ইয়র্কে পাড়ি দেন।২০০০ ডলার মাসিক বেতনের বিনিময়ে তাঁর কাজ ছিল টরেসকে ব্যক্তিগত সহায়তা প্রদান,তাঁর পোষ্যদের দেখাশোনা করা ইত্যাদি। অ্যানা ব্যক্তিগত জীবনে মোটেও সুখি ছিলেননা। তাই এক প্রকার ভাগ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে একাই নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন তিনি।। তবে টরেসের বাড়িতে কাজ করা ছাড়াও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুষ্টিবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি।

তবে নিউ ইয়র্ক পৌঁছে হতভম্ব হয়ে যান অ্যানা। টরেসের বাড়ি পৌঁছে দেখেন , তাঁর গোটা বাড়ির চারিদিকে জঞ্জাল ছড়িয়ে আছে। এমনকি যে সোফায় তাঁকে ঘুমোতে দেওয়া হয় তা বেড়ালের বর্জ্যে পরিপূর্ণ। ঘুমনোর সময় বাদ দিয়ে সবসময় টরেসের জন্য কাজ করে যেতে হত তাঁকে। বিল্ডিঙের জিমে লুকিয়ে ঘুমোতে যেতেন তিনি। তাঁকে কখন তাঁর প্রাপ্য বেতন দেননি টরেস।
অ্যানা বুদ্ধি করে একসময় পালিয়ে যান। টরেস তারপর আরও দুই মহিলাকে কাজের জন্য নিযুক্ত করেন। তাঁদের নাম দেজাইর ও লেতিসিয়া। তাঁরা টরেসের সঙ্গে টেক্সাসে চলে যান। তাঁদের দুজনের জীবনে দুঃস্বপ্নের রাত ঘনিয়ে আসে।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, দেজাইরকে স্থানীয় স্ট্রিপ ক্লাবে কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ টরেস তাঁর ওপর যাদুবিদ্যা প্রয়োগ করেন। । দুই মহিলাকে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিল । তাদের ঘর ছেড়ে যাওয়ার এমনকি বাথরুম ব্যবহার করার জন্য অনুমতি চাইতে হত। এইভাবে একদিন দেজাইরকে দেহব্যবসায় রাজি করিয়ে ফেলেন টরেস। তার জন্য নির্দিষ্ট ‘টার্গেট’ বেঁধে দেন টরেস, যা কখনই ছুঁতে পারেননি দেজাইর। তাঁর রাতে ফেরারও অনুমতি ছিলনা।
শীঘ্রই ওই দুই মহিলার পরিবারের লোকজন সমাজমাধ্যমে তাঁদের খোঁজার জন্য প্রচার শুরু করেন। বিপদ বুঝে দুজনকে টেক্সাস থেকে মেইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় । যদিও তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ইন্সটাগ্রামে তাঁদের পরিবারের তরফে অনুসন্ধান পর্ব বন্ধ করার জন্য আবেদন করা হয়।

২০ জনেরও বেশি মহিলা টরেসের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। তাঁদের মধ্যে এখনও অনেকেই মনরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসারত রয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!