- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২৪, ২০২৫
বইমেলা ২০২৫ এ থাকছে না বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টল। গিল্ডের সীদ্ধান্তই বহাল হাইকোর্টে।
কলকাতা বইমেলায় স্টল করতে চেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট। গিল্ডের তরফে জানানো হয়, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন বইয়ের বিষয় নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বইগুলি অত্যন্ত বিতর্কিত।’
কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ স্টল দিতে পারবে না বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের তাঁদের এবছর জায়গা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। গিল্ডের সেই সীদ্ধান্তকেই কার্যত মেনে নিয়েছেন আদালত। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিংহ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মামলা খারিজ করে দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, হাই কোর্টে এই মামলা সঠিক পদ্ধতিতে দায়ের করা হয়নি। গিল্ড যেহেতু বেসরকারি সংস্থা, তাই তার বিরুদ্ধে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এর আগে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা কমিটি বা এপিডিয়ারের মামলাও খারিজ করেছে আদালত। গিল্ডের তরফে জানানো হয়, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্টলে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন বইয়ের বিষয় নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। বইগুলি অত্যন্ত বিতর্কিত।’
প্রতিবছর আরএসএস এর শাখা সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিওষদের বড় স্টল দেখতে পাওয়া যায় বইমেলায়। নিজেদের মতাদর্শের নানান বইপত্র বিক্রি করেন তাঁরা। কিন্তু বিগত বছরগুলিতে ভিএচপিকে কেন্দ্র করে নানারকম ঝামেলা হতে দেখা গেছিল। বছর তিনেক আগে বামপন্থী ছাত্রদের সঙ্গে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে। সেইমতো ৬০০ বর্গফুটের স্টল চেয়ে গিল্ডের কাছে আবেদন করেছিল ভিএইচপি। কিন্তু তাঁদের স্টল দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি ইমেলের উত্তর। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে।
গিল্ডের বক্তব্য, সঠিকভাবে আবেদন জানানো হয় নি। তাছাড়া হিন্দু পরিষদের প্রকাশিত ‘স্পর্শকাতর’ বইগুলি উত্তেজনা ছড়াতে পারে, তাঁরা মেলায় কোনোরকমের ঝামেলা চান না। গিল্ডের আইনজীবি বলেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বি প্রকাশ করে না, বই প্রকাশিত হয় হিন্দুবার্তা নামের পত্রিকা সংস্থা থেকে। তাঁরা চাইলে স্টল দিতে পারেন। উল্টো দিকে হিন্দু পরিষদের আইনজীবীর প্রশ্ন করেন, বিশ্ব হিন্দু বার্তা তাদেরই সংস্থা। ২০১১ সাল থেকে তারা বইমেলায় স্টল দিয়ে আসছে। তাহলে এখন বাঁধা দেওয়া হচ্ছে কেন?’
গত শুনানিতে গিল্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি সিনহা। সেদিন তিনি গিল্ডের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, আপনারা কি জানেন না বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নিজস্ব পাবলিকেশন আছে?’ বিচারপতি জানতে চান, ‘এত বছর ধরে অনুমতি দিয়ে আসছেন, তখন মনে হয়নি তাদের লেখা বই স্পর্শকাতর? তাহলে কেন অনুমতি দিলেন?’ শুক্রবার গিল্ডের সিদ্ধান্তই বহাল সেই মামলাই খারিজ করে দিলেন বিচারপতি। তবে কী কারণে এই মামলা খারিজ করা হলো তা ষ্পষ্ট করেন নি বিচারপতি।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে জানানো হয়েছে, ‘কলকাতা বইমেলায় প্রতি বছর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বই বিক্রির সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। তাতে ভয় পেয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে হিন্দু জাগরণের আতঙ্কে তারা কলকাতা বইমেলা থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে দূরে রাখার চক্রান্ত করছে। কিন্তু হিন্দুত্বের আন্দোলনকে এভাবে আটকে রাখা যায়নি। সিঙ্গল বেঞ্চের রায় চ্যালেঞ্জ করা হবে কি না তা আইনজীবীরা আলোচনা করে ঠিক করবেন।’
❤ Support Us






