- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১, ২০২৫
বেনজির সিদ্ধান্ত ! জনস্বার্থ মামলার আর শুনানি হবে না হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতির এজলাশে
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম আর জনস্বার্থ মামলা শুনবেন না। নজিরবিহীন এ সিদ্ধান্তে আদালতের রোস্টারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। জনস্বার্থ মামলাগুলি এখন থেকে বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের বেঞ্চে শোনা হবে।
কলকাতা হাইকোর্টে এক বেনজির সিদ্ধান্ত। এখন থেকে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম আর জনস্বার্থ মামলা শুনবেন না। আদালতের তরফে বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাগুলি বা নতুন করে দাখিল হওয়া পিআইএল–এর শুনানি আর হবে না প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। এই মামলা শোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চকে। কলকাতা হাই কোর্টের ইতিহাসে যা এক নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে সাধারণত প্রধান বিচারপতি নিজেই জনস্বার্থ মামলা শুনতেন। যদিও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিষয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ‘মাস্টার অফ দ্য রোস্টার’ হিসেবে কোন বিচারপতি কোন মামলা শুনবেন, তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার প্রধান বিচারপতির হাতে। সেই অধিকার থেকেই তিনি এই প্রশাসনিক রদবদল করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
আইনজীবী মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে, কিছু আইনজীবী বলছেন যে, প্রধান বিচারপতি হয়তো নিজের অনুপস্থিতির কারণে বা অন্য কোনও কারণে জনস্বার্থ মামলা শুনতে চাননি, তাই তিনি অন্য বিচারপতিদের কাছে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘হয়তো তিনি শুনতে পারছেন না, তাই অন্য বিচারপতিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এতে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। তবে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার মনে পড়ছে না।’ অন্যদিকে, রাজ্যের কৌঁসুলি অর্ক নাগ উল্লেখ করেছেন যে, জনস্বার্থ মামলা বিষয়টি ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের অংশ, যা প্রথম সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পিএন ভাগবতী শুরু করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে জনস্বার্থ মামলার রুল তৈরি হওয়ায় এটা কার্যকর হয়, যার পর কলকাতা হাই কোর্টেও এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে, বর্তমানে এই ধরনের মামলা মুলত ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহার হওয়ার কারণে প্রধান বিচারপতির অসন্তোষ প্রকাশিত হয়েছে।
শুধু জনস্বার্থ মামলাই নয়, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত সব মামলাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ থেকে। এখন থেকে এই মামলাগুলির শুনানি হবে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের বেঞ্চে। একইসঙ্গে, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন, পুলিশ সংক্রান্ত মামলায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের কোনো রায় চ্যালেঞ্জ করা হলে, তা কেবল বিচারপতি চক্রবর্তীর বেঞ্চেই করা যাবে। এই পরিবর্তনও আদালতের রোস্টারে আরো সুবিন্যস্ত ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করবে। ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় জনস্বার্থ মামলাগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এ ধরনের মামলা সাধারণত সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে দায়ের করা হয়। তবে এ ধরনের মামলা কখনো কখনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাবেও বিবেচিত হয়, যা আদালতের কাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বহুবার প্রধান বিচারপতি জনস্বার্থ মামলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেই পটভূমিতেই সম্ভবত এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানমের এই সিদ্ধান্ত অনেকেই তার অবসর গ্রহণের সঙ্গে সংযুক্ত করছেন, কারণ তিনি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অবসর গ্রহণ করতে চলেছেন। ২০২১ সালে বিচারপতি শিবজ্ঞানম মাদ্রাজ হাই কোর্ট থেকে কলকাতা হাই কোর্টে বদলি হয়ে আসেন। ২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। তাঁর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই হাই কোর্টে একাধিক প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটেছে। অবসরের প্রাক-মুহূর্তে তাঁর এই সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহ্যের ইতিহাসে নয়া সংযোজন করতে পারে।
❤ Support Us






