- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৭, ২০২৫
প্রাথমিক ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানিই হলো না হাইকোর্টে, সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি সৌমেন সেন
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে, প্রাথমিক দুর্নীতি মামলার শুনানি হবার কথা ছিল। কিন্তু এ দিন ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানিই হলো না। সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি সৌমেন সেন, অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী এ মামলা আর ডিভিশন বেঞ্চের আওতায় থাকল না।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের রায়ে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি হারানোর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য তথা দেশ। এই আবহে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে ২০১৬ সালে নিয়োগ হওয়া প্রাথমিক দুর্নীতি মামলার শুনানি হবার কথা ছিল। সেদিকেই আশঙ্কা ও উদ্বেগের সঙ্গে চোখ রেখেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক-সহ গোটা শিক্ষামহল। কিন্তু এ দিন ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানিই হলো না। ব্যাক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি সৌমেন সেন, অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী এ কেস আর ডিভিশন বেঞ্চের আওতায় থাকল না। মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয় আদালত, কৌতুহল বাড়ছে।
সোমবার মামলাটি বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস-এর ডিভিশন বেঞ্চে ওঠবার কথা ছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে বিচারপতি সেনের মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে, মামলাটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে প্রধানবিচাপতির বেঞ্চে স্থানান্তরিত করা হলো। ২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে পুনরায় আবেদন করেছিল রাজ্য সরকার। আরো একটি মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিংহ ২০১৬-এর প্রথমিকে নিয়োগ করা ৪২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেন, বর্তমানে সে মামলায় সুপ্রিমকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী। ২০১৬ সালে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে পর্ষদ। টেট উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে চাকরি দেওয়া হয় ৪২ হাজার ৯৪৯ জনকে। তবে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক ‘ত্রুটি’ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। মামলাকারীদের অভিযোগ, হাইকোর্টের আগের নির্দেশের পর, নম্বর বিভাজন প্রকাশিত হবার পর দেখা গেছে, অপ্রশিক্ষিত ও কম নাম্বার পাওয়া ব্যাক্তিরা অবৈধভাবে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘এই নিয়োগে ব্যপক দুর্নীতি হয়েছে, ঢাকি সমেত সবকিছু বিসর্জন দেব।’ তাঁর আদেশে পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। চাকরি হারান ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মচারী। তবে এই মামলায়, বিচারপতিদের আন্তঃ সম্যার অন্য একটি দিকও রয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ মামলায় বিচারতি সেনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বিচারপতি সেনের বেঞ্চ স্থগিত করে। এমনকি সিবিআইয়ের এফআইআর খারিজও করে দেওয়া হয়। এই নির্দেশে প্রচুর ত্রুটি আছে, তাই সেটি কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
❤ Support Us






