Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১, ২০২৫

শিক্ষক নিয়োগের নতুন পরীক্ষাবিধি নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিক্ষক নিয়োগের নতুন পরীক্ষাবিধি নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্য

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন এসএসসি-র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হল? কেন পুরনো নিয়োগ বিধি মেনে পদক্ষেপ না নিয়ে নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হল?—এই প্রশ্নেই মঙ্গলবার আদালতে চাপে পড়ল রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন । কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায়ে স্পষ্ট নির্দেশ, আগামী সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে রাজ্য ও কমিশনকে।

২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক পদ। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, একই বছরের নিয়ম মেনে ফের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী গত ৩০ মে এসএসসি নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইনে আবেদনের শেষ দিন ১৪ জুলাই। পরীক্ষা, স্ক্রুটিনি, ইন্টারভিউয়ের পর আগামী ১৫ নভেম্বর প্যানেল প্রকাশ করা হবে। সেই অনুযায়ী কাউন্সেলিং হবে ২০ নভেম্বর থেকে। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও উল্লেখ নেই, ২০১৬-র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের অর্থাৎ যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে বা আদালতের রায়ে চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁদের নতুন নিয়োগে আবেদন করতে বাধা রয়েছে না কি নেই। এখানেই আদালতের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কেন অযোগ্যদের ফের সুযোগ দেওয়া হলো! কেন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হলো না সবকিছু!

এদিনের শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য এসএসসি-কে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও বলা নেই যে যাঁদের নাম বাতিল হয়েছে, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন না। আমার মতে, এটা বিজ্ঞপ্তির বড়ো একটি ত্রুটি। শীর্ষ আদালত যেখানে বলছে পুরনো নিয়মে নিয়োগ করতে, সেখানে নতুন নিয়ম চালু করে কেন জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে?’ নতুন নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে ৫৫ থেকে ৬০ করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য নম্বর কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৫ থেকে ১০-এ। নতুন সংযোজন হিসাবে এসেছে শিক্ষকতার পূর্ব অভিজ্ঞতা (১০ নম্বর) এবং ‘লেকচার ডেমনস্ট্রেশন’ (১০ নম্বর)। সব মিলিয়ে ২০ নম্বর রাখা হয়েছে এই দুই মানদণ্ডে। অভিযোগ, এই নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা ২০১৬ সালের নিয়মের পরিপন্থী। মামলাকারীদের তরফে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে করা হয়েছে। এমনকি বয়সে ছাড় সম্পর্কেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশ নেই।

মামলার শুনানির পরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিপিএম নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই জটিলতা পরিকল্পিত। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে যাতে আদতে নিয়োগ না করতে হয়। এটাই তাঁদের উদ্দেশ্য।’ চাকরি হারানো একাধিক প্রার্থীদেরও প্রশ্ন, ‘যাদের চাকরি দুর্নীতির কারণে বাতিল হয়েছে, তারা কীভাবে আবার নতুন নিয়োগে আবেদন করতে পারেন? আমরা যারা পরীক্ষায় স্বচ্ছ উপায়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম, আমাদের সঙ্গে কি বঞ্চনা আর অন্যায় আচরণ চলতেই থাকবে?’

২০১৬-র প্যানেল বাতিল হওয়ার পরে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগের প্রত্যাশায় ছিলেন বহু চাকরি প্রার্থী। কিন্তু নতুন নিয়োগ বিধিকে ঘিরে ফের একবার জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে এসএসসি। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্নের মুখে পড়ে স্পষ্ট, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবারও নিস্পত্তির পথে এগোচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট স্বচ্ছ নিয়োগের রাস্তায় হেঁটে স্বচ্ছতা ফেরানোর বার্তা দিয়েছে, সেখানে রাজ্য এবং এসএসসি কি সেই আদেশকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে? আজ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে আগামী সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে হলফনামা সহ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেদিকেই তাকিয়ে থাকবেন লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!