- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল অভিযুক্ত তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের ভারত সফরের আগে ২৬/১১ মুম্বই হামলার অভিযুক্ত তাহাউর রানা-কে ঘিরে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিল অটোয়া। তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কানাডা সরকার। তবে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ নয়, বরং নাগরিকত্বের আবেদনে ‘ইচ্ছাকৃত ভ্রান্ত তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগেই এ পদক্ষেপ, এমনটাই দাবি সরকারি সূত্রের।
পাকিস্তান-জন্ম, পেশায় ব্যবসায়ী তাহাউর রানা বর্তমানে ভারতের হেফাজতে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈইবার মদতে পরিচালিত সেই নৃশংস হামলার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনি বিচারাধীন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণের পর দিল্লিতে নামামাত্রই তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বিশেষ বিমানে করে তাঁকে নয়াদিল্লিতে আনা হয়।
কানাডার সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল নিউজ’ জানিয়েছে, সে দেশের ইমিগ্রেশন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব দফতর রানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে ২০০১ সালে অর্জিত তাঁর কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৯৯৭ সালে কানাডায় পাড়ি দেওয়া রানা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন ২০০০ সালে। আবেদনপত্রে তিনি দাবি করেছিলেন, আবেদনের আগের ৪ বছর তিনি অটোয়া ও টরন্টোতে বসবাস করেছেন এবং ওই সময়ে মাত্র ৬ দিনের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ-এর অনুসন্ধানে প্রকাশ, সে সময়ের বড়ো অংশই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে কাটিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর একাধিক সম্পত্তি ও ব্যবসা ছিল। একটি অভিবাসন পরামর্শক সংস্থা এবং একটি মুদি দোকান পরিচালনার তথ্যও সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের আবেদনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন এবং দীর্ঘ বিদেশবাসের কথা উল্লেখ করেননি।
ইমিগ্রেশন দফতরের অভিযোগ, এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘উদ্দেশ্যমূলক প্রতারণা”। এই তথ্যভ্রান্তির জেরে কর্তৃপক্ষ ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল যে, তিনি নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক শর্ত পূরণ করেছেন। ২০২৪ সালের ৩১ মে তারিখে পাঠানো এক চিঠিতে রানাকে জানানো হয়, তাঁর ভুল তথ্য উপস্থাপন নাগরিকত্ব প্রদানের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে এবং সে কারণেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে। এখন বিষয়টি গিয়েছে কানাডার ফেডারেল আদালতে। আদালতই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে নাগরিকত্ব প্রতারণা, ভ্রান্ত উপস্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে কি না। রানার আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ অন্যায়, এতে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। সম্প্রতি ফেডারেল আদালতে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে সরকারি কৌঁসুলিরা জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কিছু সংবেদনশীল নথি প্রকাশ না করার অনুমতি চেয়েছেন।
কানাডার ইমিগ্রেশন দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব লাভের ঘটনা প্রমাণিত হলে, তা বাতিল করা নাগরিকত্ব ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, আদালতের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় নাগরিকত্ব বাতিলের নজির অত্যন্ত বিরল। গত এক দশকে হাতে গোনা কয়েকটি ঘটনাই সামনে এসেছে বলে গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লি সফরে আসছেন কার্নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভারত-কানাডা সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন, বিশেষ করে কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর-এর হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিতর্কের পর, এ সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে অবনতি হয়েছিল, কার্নি সরকার সেখানে ‘পুনুরুদ্ধার’-এর বার্তা দিতে চাইছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
❤ Support Us






