- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩১, ২০২৫
আদালতের নজরদারিতেই হোক ‘এসআইআর’, আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী। শুক্রবার আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে আবেদন করেছেন সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি যেন আদালতের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় এবং এতে যেন কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা না থাকে। আদালত এদিন মামলা করবার অনুমতি দিয়েছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহেই এ মামলার শুনানি হতে পারে।
আবেদনকারীর বক্তব্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আদালতের সরাসরি নজরদারি থাকুক। পাশাপাশি তিনি চেয়েছেন, নির্বাচন কমিশন যেন ২০০২ সালের ভোটার তালিকা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে। তার যুক্তি, নাগরিকরা যাতে নিজেদের ভোটার তথ্য যাচাই করতে পারেন এবং কারো ভোটার অধিকার হরণ না হয়, সে জন্য সময়সীমা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এসআইআর আতঙ্কে ২ ব্যক্তির মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেছেন আবেদনপত্রে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই গত ২৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ফর্ম বিতরণ করবেন। এরপর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। ওই তালিকা প্রকাশের পর নাগরিকরা নিজেদের দাবি আর আপত্তি জানাতে পারবেন। সব প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এসআইআর ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ তুঙ্গে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এ প্রক্রিয়ার আড়ালে সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। বিহারে এসআইআর-এর পর লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এত কম সময়ে এমন বিশাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এরপর তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, একজন বৈধ ভোটারের নাম যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে তাঁরা রাজ্যজুড়ে গণ আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে, বিজেপির বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি বা নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া নয়, বরং ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ। তাদের দাবি, মৃত ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে, কিন্তু প্রকৃত ভোটারের নাম কোনোভাবেই বাদ পড়বে না। তারা তৃণমূলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। নির্বাচন কমিশনও বারবার আশ্বস্ত করেছে যে, এ প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসআইআর কেবল নিয়মিত আপডেটের অংশ। কোনো বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার হারাবে না।
❤ Support Us






