- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২, ২০২৩
কেষ্টর পাশেই দল, তিহাড় জেলে অনুব্রত ও সুকন্যার সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস দোলা,অসিতের।মুখ খুললেই বাড়বে বিপদ, তাই এতো অনুব্রতকে বাড়তি গুরুত্ব, কটাক্ষ সুজনের
বীরভূমের “কেষ্ট” এখনও যে তৃণমূলের বাঘ সেটা শুক্রবার আবার প্রমাণ হল। শুক্রবার অনুব্রত, সুকন্যাকে দেখতে তিহাড় জেলে গেলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন ও বীরভূমের সাংসদ অসিত মাল। শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল অনুব্রতর পাশে থাকার বার্তাই যে দিল, দোলা-অসিতের তিহাড় জেলে গিয়ে অনুব্রত-সুকন্যাকে দেখে আসা সেটাই আরও দৃঢ় ভাবে প্রমাণ করল।
নিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক দুর্নীতিতে গ্রেফতারের পরই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় দিন কয়েক আগে আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর শরীর খারাপ, জেলে ডাক্তার ডাকলে দশ দিন পরে আসে। আমি মরে গেলে কার বিচার হবে? আমায় তিনশো দিন বিনা বিচারে জেল বন্দি করে রাখা হয়েছে। পার্থর পাশে কিন্তু দল দাঁড়ায়নি। উল্টে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পার্থর এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বহীন ভাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তাহলে কেন অনুব্রতর পাশে দল গ্রেফতারির পর থেকেই দাঁড়িয়ে আছে? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
দোলা সেন শুক্রবার তিহাড় জেলে অনুব্রত ও সুকন্যাকে দেখে বেরিয়ে বলেন, “কেষ্টদা মানে অনুব্রতদা ও তাঁর কন্যা বিচারাধীন বন্দি, অভিযুক্ত। তাঁরা রাজ্যের বাইরে আছে। তাই তাঁদের দেখতে এসেছিলাম। ওরা বলেছে ভালো আছে। শরীর খারাপ লাগলে জেলের চিকিৎসকদের বলবেন। আমরা ওদের সঙ্গে দেখা করে এলাম।
আসলে কেন্দ্রের সরকারের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ওরা। অনুব্রতদার মেয়ে সুকন্যাতো রাজনীতি করে না, তাও তাঁকে কেন জেলে নিয়েছে?”
আসলে দোলা সেন ও অসিত মালের তিহাড় জেলে গিয়ে কেষ্ট ও তাঁরা মেয়ের সঙ্গে দেখা করে দল বার্তা দিচ্ছে যে বন্দি কেষ্টর উপরনদলের আস্থা আছে।
আর তাই কেষ্ট মণ্ডল তিহাড় জেলে থাকলেও তিনিই এখনও বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি। তৃণমূল দল এই সিদ্ধান্তই নিয়েছে। তৃণমূল দল আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কেষ্ট মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূম দেখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। এই জেলার জন্য ৯জনের একটি কোর কমিটি গঠন করাও হয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, কেষ্ট নেই, বীরভূূম জেলা তৃণমূল সংগঠনকে আরও মজবুত করতে হবে।
অনুব্রত-হীন বীরভূম নিয়ে আগেই ২৪ মার্চ সাংগঠনিক বৈঠক করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কালীঘাটে ওই দিন আসতে বলা হয়েছিল বীরভূমের জেলা থেকে ব্লক স্তরের সমস্ত নেতাদের। পঞ্চায়েত ভোটের আগে রণকৌশল ঠিক করতেই সেই বৈঠক হয়েছিল। এর আগের বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী জানিয়েছিলেন, জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব থাকবে তাঁর হাতে। এছাড়া বীরভূম জেলার জন্য ৫ জনের কোর কমিটিও গঠন করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। ওই বৈঠকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি পদে থাকছেন গরুপাচারকাণ্ডে ধৃত বীরভূমের প্রবল পরাক্রমশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তবে ২৪ মার্চের কালীঘাটের বৈঠকে ৭ থেকে বেড়ে বীরভূমে ৯জনের কোর কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বেশি কথা বলবে না বলে কাজল শেখকে ওই বৈঠকে ধমক দেন তৃণমূলনেত্রী। দলের হয়ে যা বলার বলবেন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী এটাও তৃণমূল নেত্রী ঠিক করে দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, প্রত্যেক সপ্তাহে কোর কমিটিকে বৈঠকে বসতে হবে।
তবে বীরভূম জেলা থেকে বহু দূরে তিহাড় জেলে থেকেও অনুব্রত প্রমাণ করলেন বীরভূমে, তৃণমূল আর অনুব্রত মণ্ডল সমার্থক। তাঁর প্রতি দলীয় নেতৃত্বের এতটাই ভরসা যে, জেলবন্দি হওয়ার পরও জেলা তৃণমূল সভাপতির পদে বহাল আছেন অনুব্রত।
আগেই বীরভূমের লাল মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বীরভূমের মানুষ ভয় পাবেন না। অনেককে ভয় দেখানো হচ্ছে এজেন্সি আসবে। অনেককে ভয় দেখানো হচ্ছে, বিজেপি আসছে। কিচ্ছু না, নাথিং, চ্যালেঞ্জ নিলাম, বীরভূম আমি নিজে দেখব। আমার ২-১ জন নেতাকে জেলে পুরে রাখলেও, মনে রাখবেন ভোট দেয় মানুষ, ইলেকশনের সময় এমনিতেই তাঁকে ঘরের বাইরে বের হতে দিতেন না, এই জেলা আমি নিজে দেখব। ববি আমাকে সাহায্য করব। ৭ সদস্য রয়েছে।’’
অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে বীরভূমে সংগঠন কে দেখবেন, সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। অনুব্রতহীন বীরভূম জেলা তৃণমূলের দায়িত্ব চন্দ্রনাথ সিংহ, বিকাশ রায়চৌধুরী, অভিজিৎ সিংহ ও আশিস বন্দ্যোপাধ্যয়ের হাতে উপর ছেড়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁদের সঙ্গে বীরভূমে অনুব্রত-বিরোধী গোষ্ঠীর বলে পরিচিত কাজল শেখ, শতাব্দী রায় ও অসিত মালেরও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চ্যালেঞ্জ নিলাম, ববি আমার সাথে থাকবে, চাঁদু থাকবে, অভিজিৎ থাকবে, অভেদানন্দ থাকবে।
এদিকে অনুব্রত মণ্ডলকে দল কেন জেলে থাকার পরও এতো গুরুত্ব দিচ্ছে? কেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মাণিক ভট্টাচার্যের প্রতি দল নির্লিপ্ত? এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “অনুব্রত এখনও টাকা দিতে পারে। সে মুখ খুললে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্যায় পড়বেন। তাই অনুব্রতকে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কই মাণিক ভট্টাচার্য তো সপরিবারে নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে, তাঁকে তো দল এখনও বহিস্কার করেনি। তাঁর পাশে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে তো দল নেই, আসলে পার্থ, মাণিক এখন দলকে টাকা দিতে পারবে না, অনুব্রত পারবে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল অনুব্রতর পাশে আছে। অনুব্রত এখনও দলের সম্পদ।” তৃণমূল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে অনুব্রতকে মাথায় তুলে রেখেছে কারণ, অনুব্রত মুখ খুললে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপদে পড়বেন,তাই এতো কিছু।
❤ Support Us






