Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১৪, ২০২৬

১৪ ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত, ধানের দাম বাড়ল কুইন্টাল প্রতি ৭২ টাকা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১৪ ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত, ধানের দাম বাড়ল কুইন্টাল প্রতি ৭২ টাকা

২০২৬-২৭ বিপণন মরশুমের আগে কৃষকদের স্বস্তি দিতে ১৪টি খরিফ শস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, কৃষিকাজে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, সেচ, জমির ভাড়া-সহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনা করেই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ২০১৮-১৯ সালের বাজেট অনুযায়ী উৎপাদন খরচের অন্তত দেড়গুণ দামে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের নীতি অনুসরণ করেই এবার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোন ফসলে কত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ল :
সবচেয়ে বেশি ন্যূনতম সহায়ক মুখ্য বৃদ্ধি করা হয়েছে সূর্যমুখী বীজে। গত বছরের তুলনায় কুইন্টাল প্রতি ৬২২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এই ফসলের সহায়ক মূল্য।
এরপরেই রয়েছে তুলো, যেখানে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বেড়েছে কুইন্টাল প্রতি ৫৫৭ টাকা।
রামতিলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে কুইন্টাল প্রতি ৫১৫ টাকা এবং তিলের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ৫০০ টাকা।

ধানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কমন ও গ্রেড-এ— দুই ধরনের ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৭২ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ মরশুমে:

কমন ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হয়েছে কুইন্টাল প্রতি ২৪৪১ টাকা
গ্রেড-এ ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হয়েছে কুইন্টাল প্রতি ২৪৬১ টাকা

এছাড়াও জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা, অড়হর ডাল, মুগ-সহ একাধিক ডালশস্য ও তৈলবীজের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।সরকার জানিয়েছে, উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকদের বেশি লাভ নিশ্চিত করতেই এই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন হারে মুগ ডালে উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ বেশি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, বাজরা ও ভুট্টায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেশি । অড়হর ডালে প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এর ফলে ডালশস্য, তৈলবীজ এবং পুষ্টিকর শস্য উৎপাদনে কৃষকরা আরও উৎসাহ পাবেন।

ধান সংগ্রহে বড় বৃদ্ধি :

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে মোট ৮,৪১৮ লক্ষ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ সময়কালে এই পরিমাণ ছিল ৪,৫৯০ লক্ষ মেট্রিক টন।
একইভাবে, ১৪টি খরিফ শস্য মিলিয়ে সংগ্রহের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪: ৪,৬৭৯ লক্ষ মেট্রিক টন
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬: ৮,৭৪৬ লক্ষ মেট্রিক টন
কৃষকদের প্রদেয় অর্থেও রেকর্ড বৃদ্ধি

ধান সংগ্রহের জন্য:
২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত কৃষকদের দেওয়া হয়েছিল প্রায় ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার কোটি টাকা
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ ৮ হাজার কোটি টাকা

অন্যদিকে, ১৪টি খরিফ শস্যের জন্য:
২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪: ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬: ১৮ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির ফলে অতিরিক্ত প্রায় ২.৬ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছাবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!