Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিনামূল্যে ‘এইচপিভি’ টিকাকরণ শুরু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সার্ভিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিনামূল্যে ‘এইচপিভি’  টিকাকরণ শুরু

মহিলাদের ক্যান্সার নির্মূলে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। শীঘ্রই দেশের ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য চালু হতে চলেছে একটি জাতীয় ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিনেশন’ কর্মসূচি।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ অভিযানের আওতায় ব্যবহার করা হবে একক ডোজের ‘গার্ডাসিল’, যা চতুর্মুখী ভ্যাকসিন হিসেবে এইচপিভি-১৬ ও ১৮–এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেযবে। এটিই সার্ভিকাল ক্যান্সারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি, এই ভ্যাকসিন প্রকার ৬ ও ১১–এর জন্যও কার্যকর। এই কর্মসূচি বিশেষ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন হিসেবে পরিচালিত হবে, সাধারণ ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–এর সুপারিশ অনুযায়ী এইচপিভি টিকাদানকে সার্ভিকাল ক্যান্সার নির্মূলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘ একাধিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত বয়সের মেয়েদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিনের একক ডোজও স্থায়ী ও কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম। ১৪ বছর বয়স এমন সময়, যখন এইচপিভি–এর সংক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকে এবং প্রতিরোধমূলক সুবিধাও সর্বাধিক।’ বর্তমানে বাজারে চতুর্মুখী গার্ডাসিল-৪ ভ্যাকসিন দুই ডোজের, যা ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য প্রতি ডোজে ৩,৯২৭ টাকা খরচ হয়। ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য তিন ডোজের প্রয়োজন। গার্ডাসিল-৪ তৈরি করে এমএসডি ইন্ডিয়া।

সরকারি সূত্র আরও জানা যাচ্ছে, জাতীয় স্তরে চলা এই প্রোগ্রামের আওতায় ভ্যাকসিনেশন বিনামূল্যে করা হবে। সামাজিক-অর্থনৈতিক স্তরের ভেদাভেদ ছাড়াই সবাই উপকৃত হবে। সঠিক বয়সে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সার্ভিকাল ক্যান্সারের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশ্বব্যাপী ৫ কোটি ডোজেরও বেশি গার্ডাসিল নিরাপদভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে ব্যাপক টিকাদানের ফলে এইচপিভি সংক্রমণ, প্রাক-ক্যান্সার অবস্থার এবং সার্ভিকাল ক্যান্সারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই প্রোগ্রাম চালু হলে ভারত ১৬০ দেশের মধ্যে যোগ দেবে, যারা তাদের জাতীয় ইমিউনাইজেশন সূচিকায় এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করেছে। ‘নারীস্বাস্থ্য’–এর লক্ষ্য অর্জনে একটি বড়ো পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে দেশের মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিরোধ, সুরক্ষা ও সমতার ভিত্তি গড়ে উঠবে।  

উল্লেখ্য, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৮০,০০০ নতুন সার্ভিকাল ক্যান্সার সংক্রমণ ঘটে। প্রায় ৪২ হাজারের বেশি মহিলা প্রাণ হারান। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরণের ক্যান্সারের প্রায় সব ঘটনাই ঘটে এইচপিভি-১৬ ও ১৮–এর সংক্রমণের কারণে। যদিও ভ্যাকসিনেশন ও প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব, কিন্তু দেশের সামাজিক পরিস্থিতি এক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করে। কেন্দ্রের নয়া ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরসহ প্রাথমিক হেলথ সেন্টার–এও হবে। প্রতিটি পরিষেবা কেন্দ্র ২৪/৭ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যাতে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া যায় এবং অভিভাবকরা নিরাপদ বোধ করেন। দেশবাসীর কাছে কেন্দ্রের আহ্বান, ‘দেশের অভিভাবকরা তাদের ১৪ বছর বয়সী কন্যাদের এইচপিভি–এর বিরুদ্ধে টিকা প্রদান নিশ্চিত করুন, একবার প্রোগ্রাম চালু হলে। এটি ভবিষ্যতের ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ধাপ।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!