Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ১২, ২০২৫

ধুলোঝড়ে বিপর্যস্ত দিল্লি, ব্যাহত বিমান পরিষেবা। চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ধুলোঝড়ে বিপর্যস্ত দিল্লি, ব্যাহত বিমান পরিষেবা। চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের

ধুলো ঝড়ে বিপর্যস্ত দিল্লি। টানা কয়েকদিন ধরে তাপপ্রবাহের পর আচমকা ভয়াবহ ধুলোঝড়, কুশায়ার মতো ঢেকে দিয়েছে চারপাশ। শুক্রবার আকস্মিক এ বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত রাজধানী দিল্লি। যার জেরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় দিল্লি বিমানবন্দরে। প্রবল ধুলো ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে রাত থেকে বিমান ওঠানামা ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অন্তত ২০৫টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের তুলনায় গড়ে এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। প্রায় ৫০টি বিমান দিল্লির বদলে কাছাকাছি অন্যান্য বিমানবন্দর– মূলত চণ্ডীগড়, জয়পুর ও লখনৌ-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এরকম পরিস্থিতির কারণে অন্তত ৭ টি বিমান বাতিল করতে বাধ্য হয় এয়ারলাইন্সগুলি। বিমানবন্দরে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে পড়েন যাত্রীরা। হুড়োহুড়িতে ‘পদপিষ্ট’ হবার মতো পরিস্থিতি। ধুলোঝড়ের ধাক্কায় দেওয়াল ভেঙে চাপা পড়ে মৃত্যু ১ ব্যক্তির, আহত অন্তত ২। এর আগের দিনও রাজধানীর কিছু অংশে ধুলোঝড় ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

ধুলিঝড় ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে দিল্লি বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এই দুর্যোগে শত শত যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন। দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩–এ অপেক্ষারত যাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রচণ্ড ভিড় ও সঠিক নির্দেশনার অভাবে পদপিষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। অনেকে জানান, পানীয় জল বা খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না, এবং বিমানের স্টাফরা প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত তথ্যও দেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যাত্রী পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমরা শুধু অপেক্ষা করে গেছি, কখন আমাদের ফ্লাইট ছাড়বে। কিন্তু সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতেই পারেনি। ছোট ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধ যাত্রীদের অবস্থা ছিল আরও করুণ।’ গড়ে এক ঘণ্টা ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দিল্লি বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে-কে বলেছেন, ‘ধুলোঝড়ের কারণে বহু ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেওয়া ও বাতিল করতে হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে । ঘুরিয়ে দেওয়া ফ্লাইটগুলি দিল্লিতে পৌঁছতে সময় লাগায় বিমানবন্দরে ভিড় বেড়ে যায়।’

এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো-র মতো সংস্থাগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্দেশিকা জারি করলেও, বহু যাত্রী তাদের দুর্ভোগের বিবরণ শেয়ার করেছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার এক যাত্রী বলেছেন, ‘আমাদের ৪টায় শ্রীনগর থেকে দিল্লি হয়ে মুম্বই যাওয়ার কানেক্টিং ফ্লাইট ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় দিল্লি পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ঝড়ের কারণে ফ্লাইটটি চণ্ডীগড়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টায় ফ্লাইটটি দিল্লিতে ফিরে আসে। এরপর রাত ১২টায় মুম্বইগামী অন্য একটি ফ্লাইটে উঠতে বলা হয়। আমরা সেই বিমানে চার ঘণ্টা বসে ছিলাম, পরে আবার নামিয়ে এনে নতুন করে সিকিউরিটি চেক করানো হয়। এখন সকাল ৮টা, আমরা এখনও বিমানবন্দরে বসে আছি। ফ্লাইট এখনও ছাড়েনি।’ বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিমানে আটকে থাকা যাত্রীদের ছবি দিয়ে লিখেছেন একজন, ‘বিশ্বমানের বলে দাবি করা দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আসলে অব্যবস্থার শীর্ষে। আমাদের কাছে এতদিন ভুল ছবি তুলে ধরা হয়েছে। বিমানবন্দরের অবস্থা বাসস্ট্যান্ডের চেয়েও খারাপ।’ আরেকজন লেখেন, ‘কলকাতা থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইট সন্ধ্যা থেকে ৬ বার রি- শিডিউল হয়েছে। ইন্ডিগো আপনারা কি যাত্রীদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন? ইতিমধ্যেই ৬ ঘণ্টা দেরি হয়ে গিয়েছে। খাবার ও পানীয়ের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। দিল্লি বিমানবন্দর একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, ‘দিল্লিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু ফ্লাইটে সমস্যা হয়েছে। যাত্রীদের অনুরোধ, সর্বশেষ উড়ান সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

অন্যদিকে, শুক্রবারের এই ধুলিঝড়ের প্রভাবে শুধু বিমান চলাচল নয়, শহরের বহু অংশে জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে। পূর্ব দিল্লির একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের দেওয়াল হাওয়ার ধাক্কায় ভেঙে পড়ে একজন শ্রমিক নিহত হন, আহত হন আরও ২ জন। শহরের একাধিক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করে দেয়, যার জেরে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। অনেক গাড়ি ও বাইক গাছের নিচে চাপা পড়ে। ধুলোঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। গাছের ডাল ও অন্যান্য জিনিস বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় উত্তর দিল্লি ও এনসিআর-এর নরেলা, বাওয়ানা, বাদলি, মঙ্গোলপুরী, রোহিণী-সহ একাধিক অঞ্চলে। গত কয়েক দিন ধরেই দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলে তাপপ্রবাহ চলছিল। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির কিছু অংশে ধুলোঝড় ও মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর বা আইএমডি শুক্রবার রাতে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘লাল সতর্কতা’ জারি করে। তারা জানায়, পরবর্তী দু’এক দিন এই ধরণের আবহাওয়া চলতে পারে। ধুলোঝড়, বজ্রবিদ্যুৎ সহ দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও ধুলিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের পরিস্থিতি কেটে গেলে, আগামী সপ্তাহ থেকে ফের দিল্লিতে গরমের তীব্রতা ফিরে আসবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এ ধরণের ঘন ঘন ধুলিঝড় ও আবহাওয়ার বিপর্যয় রাজধানী ও সংলগ্ন অঞ্চলের অবকাঠামো ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!