- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
এসআইআর শুনানির নথিতে গ্রহণযোগ্য নয় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, জানাল নির্বাচন কমিশন
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নথি যাচাই সংক্রান্ত নিয়মে বড়োসড়ো রদবদল। মাধ্যমিক বা সমতুল দশম শ্রেণির পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড আর বৈধ নথি হিসেবে গণ্য হবে না, এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত নির্দেশিকার বাইরে গিয়ে কোননো নতুন নথিকে যাচাইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, সেখানে কোন্ কোন্ নথিকে বৈধ বলে গণ্য করা হবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। ওই তালিকায় মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের কোনো উল্লেখ নেই। সে কারণেই রাজ্যে কমিশনের তরফে পাঠানো প্রস্তাব গ্রহণ করা যাচ্ছে না বলে জাতীয় কমিশন স্পষ্ট করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেটকে ভোটারের জন্মতারিখ ও জন্মসালের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত থাকে, ফলে সেটি প্রামাণ্য নথি হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বীকৃত বোর্ড বা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া শিক্ষা সংক্রান্ত শংসাপত্রও বৈধ নথির তালিকায় রাখা দরকার। তবে অ্যাডমিট কার্ডে ওই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকায়, সেটিকে যাচাইয়ের নথি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অভিমত।

এই সিদ্ধান্তে প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা, বিশেষ করে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত পড়ুয়া ও তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড দেখানোর চল ছিল। নতুন নির্দেশিকার ফলে এখন আবেদনকারীদের আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র কিংবা পাসপোর্টের মতো নির্দিষ্ট নথির উপরই নির্ভর করতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে, ইতিমধ্যেই যাঁরা ‘এসআইআর’ শুনানিতে হাজির হয়ে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? কমিশনের নয়া ফতোয়ায় সেসব আবেদনকারীদের ফের অতিরিক্ত নথি দিতে হবে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সারা দেশে একরকম নিয়ম বজায় রাখাই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা তৈরির মূল শর্ত। কোনো রাজ্যে একটি নথি বৈধ আর অন্য রাজ্যে অবৈধ, এমন পরিস্থিতি এড়াতেই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা নির্ভুল করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তার অঙ্গ হিসেবেই এই নির্দেশিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের মুখে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার ঢেউ তুলেছে।
❤ Support Us






