Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ২০, ২০২৫

‘গণতন্ত্রের কালো দিন’, ‘হিটলারি কায়দার বিল’, সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘গণতন্ত্রের কালো দিন’, ‘হিটলারি কায়দার বিল’, সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

ভারতের গণতন্ত্র কি জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে ? লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে সে আশঙ্কাই তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, ‘এই বিল আসলে গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা। হিটলারি কায়দায় দেশ চালাতে চাইছে মোদি সরকার।’ বুধবার লোকসভার বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৩টি বিতর্কিত বিল পেশ করেন। সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল এবং জম্মু-কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল, ২০২৫। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক উসকে দিয়েছে ১৩০তম সংশোধনী বিল। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে, তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।

এ প্রস্তাব ঘিরেই ছড়িয়েছে রাজনৈতিক আগুন। সংসদের ভিতরে-বাইরে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রবল বাকযুদ্ধ। বিরোধীদের অভিযো, এই ‘কালা বিল’ আসলে এক দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত। বিরোধী শিবিরের নির্বাচিত সরকারগুলিকে ফেলে দিতে আইনকে অস্ত্র করছে কেন্দ্র। বুধবার, বিল পেশ হতেই লোকসভায় তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, ডিএমকে-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সদস্যরা। ওয়েলে নেমে স্লোগান, কাগজ ছিঁড়ে বিক্ষোভ চলে। এমনকি তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিলের কপি ছুড়ে দেন অমিত শাহর দিকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অধিবেশন মুলতুবি রাখতে বাধ্য হয় স্পিকার।

বিল পেশ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘গণতন্ত্রের নামে সর্বনাশের ব্লুপ্রিন্ট পেশ করেছে বিজেপি। এক ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।’ তাঁর অভিযোগ, ‘ইডি-সিবিআইয়ের মতো সংস্থার হাতেই সংবিধানের শ্বাসরোধ করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট যাদের খাঁচাবন্দি তোতা বলেছিল, সেই সংস্থাগুলিকেই ব্যবহার করে নির্বাচিত সরকারগুলিকে ফেলে দেওয়ার রাস্তা তৈরি করছে কেন্দ্র।’ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আরো দাবি, ‘এ বিল আদালতের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিচারব্যবস্থার জায়গা নিয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।’ বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে বিরোধী কণ্ঠস্বর একজোট। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তীব্র আক্রমণ, ‘এই আইনের মাধ্যমে যে কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো যেতে পারে। ৩০ দিন হেফাজতে রাখলেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া যাবে। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।’ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর উদ্ধারে ব্যর্থ কেন্দ্র এখন নিজের দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে শেষ করতে চাইছে। একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ এ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট লিখেছেন, ‘এ বিল শুধুই বিরোধীদের কণ্ঠ রোধের হাতিয়ার নয়, এটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর উপর কুঠারাঘাত। মানুষ যে ভোট দিয়ে সরকার বেছে নেয়, সেই প্রক্রিয়াকেই তছনছ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের এই বিল রুখতেই হবে, নইলে একদিন কেউ আর ভোট দিতে পারবে না।’ এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘মোদিজি কি এখন বিচারপতির ভূমিকায়?’

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিলের নেপথ্যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির ঘটনাই বডড়ো কারণ। আবগারি দুর্নীতিকাণ্ডে দীর্ঘদিন জেলে থেকেও পদত্যাগ করেননি কেজরিওয়াল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই এ বিল আনতে চাইছে কেন্দ্র। এখানেই বিরোধীদের প্রশ্ন, ‘তবে কি এবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরাতে হেফাজতই যথেষ্ট প্রমাণ হয়ে উঠবে?’ কংগ্রেসের তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর অবশ্য বিলের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান থেকে খানিকটা ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ‘কেউ যদি ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়াটা তো স্বাভাবিক। যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে হয়।’ তাঁর এহেন মন্তব্য কংগ্রেস অন্দরেই বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সংসদ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিলের খসড়ায় স্পষ্ট করা হয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর ৫ বছরের বেশি সাজা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, ৩০ দিন হেফাজতের পরে পদত্যাগ করতে হবে। অর্থাৎ, কোনো বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হলেও, শুধু মাত্র অভিযোগ আর হেফাজতের ভিত্তিতে সরিয়ে দেওয়া যাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে। বিরোধীরা বলছে, ‘এটা রাজনীতির নতুন অস্ত্র।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!