- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জানুয়ারি ২, ২০২৫
অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে বিএসএফের সমালোচনা । রেয়াত নয় দুর্নীতিকে, সরকারি প্রকল্পের বকেয়া কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
নতুন বছরের শুরুতেই আজ নবান্ন সভাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা-প্রশাসনিক বৈঠক। প্রশাসনিক দফতরের কাজের পর্যালোচনার বৈঠকে বিভিন্ন দফতর সামলানো মন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমস্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ প্রতিটা দফতরের শীর্ষ কর্তারা। সরকারি প্রকল্পগুলির অবস্থা এখন ঠিক কী? দফতর ধরে নিলেন খোঁজ।
বৈঠকের শুরুতেই মালদায় তৃণমূল কর্মী বাবলা সরকারের নৃশংস খুনের জন্য মালদার এসপিকে দায়ী করলেন তিনি। ডিএম-এসপি-বিডিওদের কড়া বার্তা দিলেন।নবান্নর বৈঠক থেকে আজ তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনে কোনোরকম গাফিলিতি মেনে নেবেন না। সরকারি জমি অবৈধ দখল, বেআইনি নির্মাণ, বালি ও মাটি মাফিয়াদের একই সঙ্গে প্রশাসনের যারা তাদের সাহায্য করে কাউকেই নিস্তার দেবেন না বলে জানালেন মূখ্যমন্ত্রী। চক্রে যুক্ত কোনো অফিসার অবসর গ্রহণ করলেও বন্ধ হবে পেনশন, আনা হবে আইনের আওতায়। আইএএস, আইপিএস, ডব্লুবিসিএস অফিসারদের নিয়ে গঠিত হবে মনিটারিং কমিটি। তৈরি হবে বিশেষ অ্যাপ ও পোর্টাল।
গতকাল রাজ্য প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, “প্রতিবেশী বাংলাদেশে অশান্তির পর পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলি পুলিশের গোয়েন্দা এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এছাড়াও, জাল পরিচয় এবং পাসপোর্ট রাখার জন্য লোকেদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল যা আমাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করেছে। এই পরিস্থিতিতে, প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বছরের শুরুতে রাজ্য পুলিশ বাহিনীকে একটি বার্তা দিতে পারেন।”
আজ বৈঠকে বিএসফের বিরুদ্ধে রাজ্যে অনুপ্রবেশ ঘটানো ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে গুন্ডা পাঠানো হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে ঢুকে খুনিরা খুন করে চলে যাচ্ছে। এর পিছনে বিএসএফের হাত রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারেরও একটা ব্লুপ্রিন্ট আছে। না থাকলে এটা হতো না।” দফতরগুলোতে কিছু লোক কাজ না করে গল্পগাছা করে সময় কাটায়, কেউ দেখবার নেই, ক্ষুব্ধ মমতা। মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ আসছে, সেসব দ্রুত সমাধান করতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরকে।
বেআইনি নির্মাণ ও জমিদখল রুখতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা শাসকদের ৬ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিএলআরো থেকে জেলার যেসব আধিকারিকরদের বিরুদ্ধে অবৈধ কাজে মদত যোগানোর অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নেওয়ার কথা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। সরকারি পুকুর, নয়ানজুলি, খাল-বিল ভেরি কারা দখল করছে, কীভাবে করছে তা নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ দলের বিরুদ্ধে ওটা নানা দুর্নীতির অভিযোগ সরিয়ে স্বচ্ছ ভবমূর্তি গঠন করতে যে বদ্ধ পরিকর তৃণমূল সুপ্রীমো, আজকের বৈঠকে তা স্পস্ট। সরকারি পরিষেবা যাতে মানুষ স্বচ্ছভাবে পায় তার জন্য বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলিকে ঠিকঠাক পরিষেবা দেওয়ার কথাও আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ঠাণ্ডা ঘরে বসে নয়, কাজ করতে হবে ফিল্ডে নেমে – স্কুলকলেজ, রাস্তা, মিডডেমিল, রেশনব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আলোচনায় উঠে এলো ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের কথা। ১২ লাখ ভোক্তার মধ্যে ৮ লাখ মানুষের কাছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রথম কিস্তির টাকা ইতিমধ্যে পৌছে গেছে। চলতি বছরে আরো ১৮ লাখ মানুষকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলে সন্দেশখালির সভা থেকে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, আজও সেকথা আবারও বললেন তিনি। শুধু এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৫০,০০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করতে চলেছে। এছাড়াও কর্মশ্রী প্রকল্পের আওয়ায় এলাকার মানুষদের নিয়ে আসা হবে।
বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছে, ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে সেই খামতি শুধরে নিতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন । ভোটার লিস্ট সংশোধন থেকে শুরু করে জায়গা জমির মিউটেশন সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জলস্বপ্ন প্রকল্প, পথশ্রী ইত্যাদি প্রকল্পের কাজ নিয়েই এদিন নবান্নর বৈঠক থেকে সরকারি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি । স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের অপব্যবহার রুখতে কড় পদক্ষেপের কথা এদিন তিনি বলেছেন । দেউচা পাচামি, অশোকনগরে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে যাতে কোনোভাবেই অঞ্চলের আবাসিকদের ক্ষতি না হয়, এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের কথা এদিন তিনি বলেছেন । তিনি এদিন সন্দেশখালির হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নতির কাজ দ্রুত শুরুর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যসচিবকে। পাশাপাশি রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রসাশনকে সৎভাবে কাজ করার কথাও বলেন। এদিন তিনি বলেছেন, ‘কাজ করলে তবেই মানুষ মনে রাখবে’ ।
২৪ সালে মার্চ -জুন লোকসভা নির্বাচন ও জুন-জুলাইয়ে উপনির্বাচনের কারণে সরকারের নানান গুরুতবপূর্ণ প্রকল্প থেমে গেছিল নির্বাচন বিধিনিষেধে। তাছাড়াও বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।সামনে বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে তড়িঘড়ি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে চলেছে সরকার। প্রতিটা দফতরকে কাজে গতি আনবার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর। একই সাথে আজ, প্রশাসনিক মিটিংয়ে দুর্নীতির বিরদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নানান সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতেই কি মমতার এই পদক্ষেপ ?
❤ Support Us






