Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫

১১ সেপ্টেম্বর জলপাইগুড়িতে জনসভা । তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফর মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর জলপাইগুড়িতে জনসভা । তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফর মুখ্যমন্ত্রীর

তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে মঙ্গলবার দুপুর ৩টের সময় দমদম বিমান বন্দর থেকে বাগডোগরা রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নেপালের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। একই সঙ্গে কেন্দ্রের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, যাতে নেপালের সীমান্তের দিকে সতর্ক নজর রাখা হয়। তাঁর কথায়, “নেপালের সংঘর্ষের আঁচ যেন ভারতের মাটিতে না পড়ে, সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

এদিন SIR নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “আমরা সবসময়ই SIR-এর বিরোধিতা করে এসেছি।” তবে আধার সংযুক্তিকরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদের আধার আছে, তারা চিন্তা করবেন না। যাদের নেই, তাদের নতুন আধার তৈরি করতে হবে। সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”

উত্তরকন্যায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক 

বিকেল ৩টেয় দমদম থেকে বিশেষ বিমানে রওনা হয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে মুখ্যমন্ত্রী যান উত্তরকন্যায়। সেখানে ‘কন্যাশ্রী’ ভবনে রাত্রিবাস করবেন তিনি। সরকারি সূত্রে খবর, জলপাইগুড়িতে উত্তরকন্যা সচিবালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা।

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, সেই প্রেক্ষিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন ও ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেবেন দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের।

পানীয় জল প্রকল্প ও জমির পাট্টা প্রদান 

জলপাইগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী ১৫০ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় জল প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিস্তা নদী থেকে জল সংগ্রহ করে প্রায় ১৯,০০০ পরিবারকে জলপাইগুড়ি শহরে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। দীর্ঘদিনের জলসংকট সমাধানে এটি এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেবেন এবং জনসেবা বিতরণ কর্মসূচিতে সরকারি পরিষেবাগুলি সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেবেন।

এই সফরের একটি রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করবেন। জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর—এই চারটি জেলা নিয়ে দলীয় কৌশল, সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি ও প্রচার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে তৃণমূল ভালো ফল করলেও, বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

১১ সেপ্টেম্বর জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরবেন সাধারণ মানুষের সামনে এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। এই সভা উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জনভিত্তি মজবুত করতে সহায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!