- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
‘রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ’, ৭ এইআরও-র সাসপেনশন নিয়ে উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ৭ জন এইআরও-কে (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) সাময়িক বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উত্তাপ ছড়িয়েছে । রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে সরাসরি এই পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—কোনও রাজ্য সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে কি নির্বাচন কমিশন সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে?
মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়েই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নির্বাচন কমিশনকে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এটি ‘ওয়ান পার্টি, ওয়ান তুঘলকি কমিশন’। তাঁর অভিযোগ, “বিএলও, ডিএম, ইআরওদের ভয় দেখানো হচ্ছে । রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করছে কমিশন । দিল্লির জমিদারদের কথায় চলছে তুঘলকি কমিশন । রাজনীতির নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।”
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তুলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করা হচ্ছে । তাঁর কথায়, “সর্বনাশী খেলা চলছে ।” তিনি কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, “গণতন্ত্র মেনে কাজ করুন ।” একই সঙ্গে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ তুলে কটাক্ষের সুরে বলেন, “গায়ে নেই কম্বল, কবিতার ভাষায় ভোম্বল—এটা একটা প্রবাদ, আমি বানালাম এক্ষুনি।” এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “যাঁদের ডিমোশন করবে, তাঁদের আমরা প্রোমোশন দেব।”
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানান, সমস্ত পদক্ষেপই আইন মেনেই করা হয়েছে । তাঁর বক্তব্য, “লাগামছাড়া ক্ষমতা কাউকেই দেওয়া হয়নি । এইআরও-দের সাসপেন্ড করা হয়েছে আইন মেনেই।”
সিইও দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ৭ জন এইআরও এসআইআর গাইডলাইন লঙ্ঘন করেছিলেন । তাঁদের অনিয়ম না করার জন্য আগে থেকেই মাইক্রো অবজার্ভার ও অবজার্ভারদের তরফে সতর্ক করা হয়েছিল । কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অনিয়ম চালিয়ে যাওয়ায় কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে কমিশন ।
কমিশনের তরফে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই একমাত্র রাজ্য সরকার এই ৭ জনের সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে পারে—অন্য কোনও পদ্ধতি নেই। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে সরাসি সাসপেনশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএলও থেকে ইআরও—সব স্তরের আধিকারিকদের নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয় । আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা । সম্প্রতি এ সংক্রান্ত শুনানির কাজও শেষ হয়েছে । এই প্রেক্ষাপটেই ফের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী ।
তিনি আরও দাবি করেন, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং সেসব বিষয় চাপা থাকেনি । সব মিলিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে সরব থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী, এবং বিহার ও বাংলার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন ।
❤ Support Us





