Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২২, ২০২৫

নগদ অনুদান, দেরিতে রিটার্ন— আয়কর ট্রাইব্যুনালে ১৯৯ কোটির করছাড় হারাল কংগ্রেস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নগদ অনুদান, দেরিতে রিটার্ন— আয়কর ট্রাইব্যুনালে ১৯৯ কোটির করছাড় হারাল কংগ্রেস

আয়কর আইনের নিয়ম ভাঙায় প্রায় ২০০ কোটি করছাড় থেকে বঞ্চিত হল কংগ্রেস। সোমবার ‘আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল’ কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে সাফ জানিয়ে দিল, দেরিতে রিটার্ন জমা ও অনিয়মিত নগদ অনুদানের মতো গুরুতর আইনভঙ্গ করে কোনো রাজনৈতিক দল করছাড়ের দাবি করতে পারে না।

আলোচ্য অর্থবর্ষ ২০১৮-১৯। সে সময় কংগ্রেস আয়কর রিটার্ন জমা দেয় নির্ধারিত সময়সীমার প্রায় ১ মাস পর। রিটার্নে সর্বভারতীয় দলটি দাবি করে, তাঁদের ১৯৯.১৫ কোটি আয় সম্পূর্ণ করছাড়ের আওতায় পড়ে। তাই তাদের করযোগ্য আয় ‘শূন্য’। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, ১৪.৪৯ লক্ষ নগদ অনুদান এসেছে একাধিক ব্যক্তির থেকে, যার পরিমাণ আইন নির্ধারিত অর্থের বহুগুণ ঊর্ধ্বে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অর্থবিল অনুযায়ী, ধারা ১৩এ-র অধীনে কোনো রাজনৈতিক দল করছাড়ের সুবিধা পাবে তখনই, যদি অনুদান ২,০০০-এর বেশি হলে তা ব্যাংক চ্যানেল— অ্যাকাউন্ট পে চেক, ড্রাফট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নেওয়া হয়। নগদে নয়। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়েও ছিল আইনি জট। কংগ্রেসের দাবি, যেহেতু ধারা ১৩৯(৪) অনুসারে রিটার্ন দেরিতে জমা দেওয়ার সুযোগ আইনেই আছে, তাই তাদের করছাড় খারিজ করা ঠিক নয়। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য— বিচারপতি সত্যবীর সিং গোদারা ও হিসাবরক্ষক সদস্য এম বালাগণেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘১৩এ ধারার তৃতীয় প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, করছাড় পেতে হলে রিটার্ন জমা দিতে হবে ধারা ১৩৯(১)-এর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই।’ সেই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেস নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে রিটার্ন জমা দিয়েছে, ফলে ধারা ১৩এ-র ছাড় তারা পাবে না— এটা আইন অনুযায়ী পরিষ্কার। অনুদানের বিষয়েও একই কথা প্রযোজ্য।’

বিশেষ ট্রাইব্যুনালে, কংগ্রেসের আইনজীবীরা, বিশেষত প্রবীণ আইনজীবী পি সি সেন ও প্রসন্ন ভল্লা, যুক্তি দেন, যদি পুরো করছাড় না-ও দেওয়া হয়, তাহলে অন্তত ব্যয় বাদ দিয়ে কর নির্ধারণ করা হোক। সে দাবি খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল। সরকারপক্ষের হয়ে সওয়াল করে, অ্যাডভোকেট জোয়েব হোসেন, বিপুল আগরওয়াল ও সঞ্জীব মেনন দাবি জানান, আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেসের উচিত ছিল সময়মতো রিটার্ন দাখিল এবং সমস্ত অনুদান আইন মেনে গ্রহণ করা। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে দিল্লি হাইকোর্ট কংগ্রেসেরই এক মামলায় নির্দেশ দিয়েছিল, করছাড়ের যোগ্যতা না-থাকলে ব্যয় বাদ দিয়ে কর নির্ধারণের সুবিধাও মিলবে না। ট্রাইবুনাল ‘আদালত’-এ সে রায়ই বজায় থাকল। এদিনের রায় কংগ্রেসের জন্য বড়ো ধাক্কা। দলটির দাবি অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে তাদের মোট প্রাপ্তি ১৯৯.১৫ কোটি, ব্যয় ১৯৭.৪৩ কোটি, ফলে উদ্বৃত্ত ছিল মাত্র ১.৭১ কোটি। কিন্তু করছাড় বাতিল হওয়ায় এখন গোটা ১৯৯.১৫ কোটি আয় করযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা কতটা? সে প্রশ্নের জবাবেই যেন কড়া বার্তা শোনাল আয়কর ট্রাইব্যুনাল।

এই পরিস্থিতে, কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে যাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট স্পষ্ট— ‘করছাড়ের দাবির সঙ্গে আইন মেনে চলার শর্ত অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সেখানে কোনো ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!