- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ১৫, ২০২৫
বিজেপির ‘ত্রিরঙ্গা যাত্রা’-র পাল্টা এবার কংগ্রেসের ‘জয় হিন্দ সভা’
ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বকে কুর্নিশ জানাতে ২০-৩০ মে দেশজুড়ে ‘জয় হিন্দ সভা’ আয়োজন করছে কংগ্রেস। পাশাপাশি, এই সভার মাধ্যমে সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও আমেরিকার হস্তক্ষেপ ইস্যুতে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাতে চায় রাহুল গান্ধীর দল।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের ইস্যুতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি দেশজুড়ে ‘ত্রিরঙ্গা যাত্রা’ শুরু করেছে। এরইমধ্যে, সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব ও সাফল্যকে সম্মান জানাতে এবং একই সঙ্গে সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেশজুড়ে ‘জয় হিন্দ সভা’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। ২০ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-সহ একাধিক শহরে এই কর্মসূচি পালন করবে রাহুল গান্ধীর দল। ‘জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে আমেরিমকার হস্তক্ষেপ’ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হবে, দাবি কংগ্রেসের।
বৃহস্পতিবার, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, জাতীয় কংগ্রেস ‘জয় হিন্দ সভা’র মাধ্যমে ভারতীয় সেনার বীরত্ব ও সাফল্যকে কুর্নিশ জানাবে। যে ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে বারবার দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে, সরকার তাতে ব্যর্থ। বিশেষ করে আমেরিকার ভূমিকা ও সরকারের নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লি, বারমের, শিমলা, হালদ্বানি, পাটনা, জবলপুর, পুনে, গোয়া, বেঙ্গালুরু, কোচি, গুয়াহাটি, কলকাতা, হায়দরাবাদ, ভুবনেশ্বর ও পাঠানকোটে এই সভা আয়োজন করা হবে। প্রাক্তন সেনাকর্মী, প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব, স্থানীয় কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে এই সভা ‘জাতীয়তাবাদী বার্তা’ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে কংগ্রেস।
সূত্রের খবর, ই সভায় শুধু সেনার সাফল্য নয়, পহেলগাঁও হামলা নিয়ে সরকারের ‘ধামাচাপা দেওয়ার’ চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কেন কোনও সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত হননি, তার ব্যাখ্যা কোথায়? এবং আমেরিকার একাধিক প্রতিনিধির সঙ্গে চলমান গোপনীয় বৈঠকগুলি কি ভারতের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ নয়? প্রভৃতি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। বুধবার কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একবাক্যে সেনার পাশে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিটি পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু তা সত্ত্বেও, সরকারের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা আমরা বরদাস্ত করব না।’ তিনি আরো বলেন, পহেলগাঁও হামলার পরে কংগ্রেস সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকার পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, বিজেপি ইতিমধ্যেই ১৩ মে থেকে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ শুরু করেছে, যার মাধ্যমে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সাফল্য উদযাপন করা হচ্ছে। পহেলগাঁও হামলার প্রতিক্রিয়ায়, ওই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়। গত শনিবার ৪ দিনের লড়াইয়ের পর, সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। বিজেপির দাবি, ‘এটাই মোদী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার সক্ষমতার সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ।’ কংগ্রেস অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, এই অভিযানের পিছনের প্রকৃত গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে ফাঁস হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পহেলগাঁও হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবিতে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী। রাহুল বলেন, ‘বিরোধী দলগুলির মধ্যে এই বিষয়ে কোনো বিভেদ নেই। আমরা একযোগে দাবি জানাচ্ছি, দেশের নিরাপত্তা আর সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা হোক সংসদে। অবিলম্বে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।’
বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস এই সভার মাধ্যমে একদিকে সেনার পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারকে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাতে চাইছে। পরিস্থিতি কতটা ঘোরাবে, তা দেখার জন্য দেশ তাকিয়ে আছে আগামী ২০ মে-র দিকে, যেদিন থেকে শুরু হচ্ছে কংগ্রেসের ‘জয় হিন্দ সভা’।
❤ Support Us






