Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

উন্নাও কাণ্ডে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উন্নাও কাণ্ডে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে ফের সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক ও দোষী সাব্যস্ত ধর্ষক কুলদীপ সেঙ্গার শর্তসাপেক্ষে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর এবং সেই মামলার নির্যাতিতাকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশের এক মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে গেরুয়া শিবিরের নীরবতাকেই নিশানা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১৭ সালের উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সেঙ্গারকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রহ্মণিয়াম ও বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ সেই সাজায় শর্তসাপেক্ষে স্থগিতাদেশ দেয়। এই খবরে ভেঙে পড়েন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁরা ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, নির্যাতিতা ও তাঁর মাকে টেনে-হিঁচড়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার মধ্যেই নতুন বিতর্ক উসকে দেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভার। নির্যাতিতা ও তাঁর মাকে নিয়ে ঠাট্টা করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু ওঁর বাড়ি তো উন্নাওয়ে, ইন্ডিয়া গেটে কী করছিল!’ এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এই নীরবতাকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ তিনি লেখেন, ‘ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বিজেপির মিত্র উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভার ধর্ষণের শিকার নারীকে নিয়ে উপহাস করেছেন।’ পাশাপাশি ‘বেটি বাঁচাও’ প্রকল্পের বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে অভিষেক লেখেন, ‘আজ বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে “বেটি বাঁচাও”-এর বাস্তব চিত্র এটাই। যখন দোষী সাব্যস্ত ধর্ষকরা অবাধে ঘুরে বেড়ায় আর মন্ত্রীরা উপহাস করেন, তখন প্রতিটি কন্যা, প্রতিটি নারী এবং ন্যায়বিচার খোঁজা প্রতিটি পরিবারই ব্যর্থ হয়।’

উল্লেখ্য, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উন্নাওয়ের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার। সম্প্রতি নির্যাতিতা দাবি করেছেন, মামলার সঙ্গে যুক্ত তাঁর পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এমন একটি মামলায় যদি দোষী জামিন পেয়ে যান, তাহলে দেশের মেয়েদের নিরাপত্তা কে দেবে?’

এই অবস্থায় দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিবিআই। যদিও কবে এই আবেদন করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!