Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • জুলাই ৩, ২০২৫

হলিউডের রাজপথে দীপিকা ! প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রীর ‘ওয়াক অফ ফেম’ সম্মান প্রাপ্তি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হলিউডের রাজপথে দীপিকা ! প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রীর  ‘ওয়াক অফ ফেম’ সম্মান প্রাপ্তি

বলিউডের মাটি থেকে উঠে হলিউডের আকাশে জ্বলে উঠলো দীপিকা পাড়ুকনের নাম। প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ‘হলিউড ওয়াক অফ ফেম’-এর তারকা সম্মান পেলেন দীপিকা। ২০২৬ সালের জন্য মনোনীতদের তালিকায় ‘পদ্মাবতী’র নাম ঘোষণা করেছে হলিউডের চেম্বার অফ কমার্স।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম গৌরবময় স্বীকৃতি এই ‘ওয়াক অফ ফেম’। দীপিকা সে জায়গায় পৌঁছে গেলেন ভারতীয় সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করে। এর আগে কোনো ভারতীয় অভিনেত্রীর নাম ওই তালিকায় ওঠেনি। গত ২০ জুন ওয়াক অফ ফেমের নির্বাচন কমিটি চলতি বছরের মনোনীতদের বেছে নেয়। চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে ২৫ জুন, হলিউড চেম্বার অফ কমার্স-এর বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের তরফে। ৩ জুলাই, লস অ্যাঞ্জেলসের ওভেশন হলিউডে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দীপিকার নাম ঘোষিত হয়। দীপিকার সঙ্গে তালিকায় রয়েছেন এমিলি ব্লান্ট, র‌্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস, টিমোথি চ্যালামেট, মাইলি সাইরাস, গর্ডন রামসে, ইতালীয় অভিনেতা ফ্র্যাঙ্কো নেরোর মতো তারকারা।

২০২৩ সালে ওয়াক অফ ফেম-এর সম্মান পেয়েছিলেন ভারতীয় বংশভূত আর-এক অভিনেত্রী, লেখিকা ও নির্মাতা মাইন্ডি ক্যালিং। তিনিই প্রথম দক্ষিণ এশীয় মহিলা, যিনি এই বিশেষ সম্মান পেয়েছিলেন। দীপিকা পাড়ুকোন ইতিমধ্যেই ‘এক্সএক্সএক্স : রিটার্ন অফ জেন্ডার কেজ’-এর মতো আন্তর্জাতিক ছবিতে অভিনয় করে হলিউডে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। পাশাপাশি, কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারক হিসেবে, কিংবা অস্কার মঞ্চে ভারতীয় ছবির সম্মান জানান দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতীয় সিনেমার মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। এর আগে, ২০১৮ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির একজন হিসেবে মনোনীত করেছিল। তিনি টাইম ১০০ ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। কাতারে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন করে ইতিহাস লিখেছিলেন বলিউডের লাস্যময়ী এই অভিনেত্রী।

প্রসঙ্গত, ‘ওয়াক অফ ফেম’-এর খেতাব প্রাপ্তির অনুষ্ঠান হয় জনসমক্ষে। অংশ নিতে কোনো টিকিট বা প্রবেশমূল্য লাগে না। প্রতিটি অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়— সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ১৫ পর্যন্ত। হলিউড বুলেভার্ড ও ভাইন স্ট্রিট জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ১৫ ব্লকের জায়গায় প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি ‘তারকা’র নাম খোদাই করা হয়েছে, প্রতিটি নাম, একেকটি কীর্তির প্রতীক।। অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক-গায়িকা, লেখক কিংবা কাল্পনিক চরিত্র— সকলেই পেয়েছেন সে জায়গা। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ও সিনেমা প্রেমিরা তারকাখচিত অঞ্চল দেখতে আসেন। এটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে হলিউড চেম্বার অফ কমার্স। তারকা স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাবদ মনোনীত সেলিব্রিটি বা তাদের পৃষ্ঠপোষক সংস্থা দেয় ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার। হলিউডের রাজপথে দীপিকার নাম— বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সিনেমাপ্রেমীদের কাছে নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত।

তবে, দীপিকা কিন্তু প্রথম ভারতীয় ব্যক্তি নন যিনি আন্তর্জাতিক এ সম্মান পেলেন। এর আগে ‘ওয়াক অফ ফেম’ পেয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য অধ্যায় লিখে গেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিনেতা সাবু দস্তগীর। ১৯৩৭ সালে রবার্ট ফ্ল্যাহার্টির ‘এলিফ্যান্ট বয়’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে হলিউডে প্রবেশ, আর তারপর থেকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি। মহীশূরের এক সাধারণ হাতি মাহুতের ছেলে সাবু, আজও স্মরণীয় তাঁর অনন্য অভিনয় আর অনবদ্য ক্যারিয়ারে। ১৯২৪ সালে জন্ম নেওয়া সাবু মাত্র ১৩ বছর বয়সে হলিউডে পাড়ি দেন। ১৯৩৮ সালে ‘দ্য ড্রাম’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র দুনিয়ায় তাঁর অভিষেক ঘটে। তবে ১৯৪০ সালে ‘দ্য থিফ অফ বাগদাদ’ ছবিতে ‘আবু’ চরিত্রে অভিনয়ের পর সাবু হয়ে ওঠেন হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা। ‘মোগলি’, ‘অ্যারাবিয়ান নাইটস’, ‘হোয়াইট স্যাভেজ’ এবং ‘কোবরা ওম্যান’-এর মতো হিট ছবিতে সাবুর অসাধারণ অভিনয় ছিল আলোচনার বিষয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি, ১৯৪৪ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করে সাবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যোগ দেন আমেরিকান বিমান বাহিনীতে। যুদ্ধের পর তাঁর ক্যারিয়ার কিছুটা স্লো হয়ে যায়। ১৯৫০-এর দশকে তিনি বেশিরভাগ সময় ইউরোপীয় সিনেমায় অভিনয় করেন, যেগুলি সেভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি। ১৯৫২ সালে তিনি ‘হ্যারিঙ্গে সার্কাস’ ছবিতে হাতির চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে ১৯৫৭ সালে মেহবুব খানের কালজয়ী ছবি ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবির জন্য সাবু দস্তগীরকে বিরজু চরিত্রে প্রথমে নির্বাচিত করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় ভারতে তাঁর কাজের অনুমতি বাতিল হয়, ফলে চরিত্রটি চলে যায় সুনীল দত্তর কাছে। ১৯৬০ সালের দিকে, হলিউড ওয়াক অফ ফেমে স্থান পাওয়ার পর সাবু আরো একবার খ্যতিতে ফিরতে শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি ‘র‍্যাম্পেজ’ সিনেমায় রবার্ট মিচামের বিপরীতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন, এবং ১৯৬৪ সালে ‘টাইগার ওয়াকস’ ছবিতে ব্রায়ান কিথের সঙ্গে শেষবারের মতো স্ক্রিন শেয়ার করেন। ১৯৬৪ সালের ১২ মার্চ মাত্র ৩৯ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি অভিনেতা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর তিন মাস আগে মুক্তি পায় তাঁর শেষ ছবি ‘টাইগার ওয়াকস।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!