- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ৯, ২০২৬
সরকারি চাকরির দুর্নীতিতে আইনি জটে আরজেডি সুপ্রিমো, ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিল্লি আদালতের
বিহার বিধানসভা ভোটে শোচনীয় ফলাফলের ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারের উপর নেমে এল আরো বড়ো আইনি আঘাত। ‘জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি’ দেওয়ার অভিযোগে আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব, তাঁর স্ত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী, দুই ছেলে তেজস্বী ও তেজপ্রতাপ যাদব, কন্যা মিসা ভারতী-সহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি দিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক বিশাল গোগনে এ মামলায় কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, লালু যাদব ও তাঁর পরিবার কার্যত একটি ‘দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান’ বা অপরাধী চক্রের মতো কাজ করেছে।
শুক্রবার, আদেশ ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক জানান, সিবিআইয়ের চার্জশিটেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, লালু যাদবের রেলমন্ত্রী থাকার সময়, সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি চাকরিকে হাতিয়ার করে জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গঠনের এ পর্যায়ে তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা নথি ও তথ্য ‘সন্দেহের মাপকাঠিতে’ বিচার করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মতো যথেষ্ট উপাদান রয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। এ মামলায় মোট ৯৮ জন জীবিত অভিযুক্তের মধ্যে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ৫২ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন রেলকর্মী ও এমন অভিযুক্ত রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে জমি হস্তান্তরের প্রমাণ মেলেনি বলে আদালত জানিয়েছে। তবে লালু পরিবারের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলেই মনে করছে আইনজীবী মহল।
সিবিআইয়ের অভিযোগ, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত লালুপ্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে অবস্থিত ভারতীয় রেলের পশ্চিম মধ্য জোনে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ করা হয়। ওই নিয়োগের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে লালু যাদবের পরিবারের সদস্য কিংবা ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে জমি উপহার বা হস্তান্তর করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, সেই নিয়োগগুলি নির্ধারিত নিয়ম ও পদ্ধতি লঙ্ঘন করে করা হয় এবং জমি লেনদেনের ক্ষেত্রে বেনামি সম্পত্তির ব্যবহারও হয়েছে বলে অভিযোগ। সিবিআই-এর মামলায় পরে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ সামনে আসায় ইডিও তদন্তে নামে। তদের তল্লাশিতে নগদ এক কোটি টাকা উদ্ধারের দাবি করা হয়। সিবিআই ও ইডি— দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাই ইতিমধ্যেই আলাদা আলাদা চার্জশিট দাখিল করেছে। শুক্রবার সিবিআইয়ের চার্জশিট গ্রহণ করেই আদালত চার্জ গঠনের নির্দেশ দেয়।
বিচারক বিশাল গোগনে তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযোগপত্রে যেভাবে চাকরির বিনিময়ে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, তা এই মামলার অপরাধমূলক চরিত্রকে স্পষ্ট করে। আদালতের মতে, লালু প্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবার একটি সংগঠিত অপরাধী চক্রের মতো কাজ করেছে এবং রেল প্রশাসনের কিছু অংশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াতেও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। এ মামলায় লালু যাদবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে প্রতারণা ও ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে রাবড়ি দেবী, তেজস্বী যাদব, তেজপ্রতাপ যাদব এবং মিসা ভারতী-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৯ জানুয়ারি। ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আদালত সূত্রে খবর।
যদিও লালুপ্রসাদ যাদব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রথম থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন। রাবড়ি দেবীর দাবি, গোটা মামলাই ‘ভুয়ো’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তেজস্বী যাদবও বারবার বলে আসছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, এ মামলায় শেষ পর্যন্ত কি জেলযাত্রার মুখে পড়তে পারে যাদব পরিবার?
❤ Support Us






