Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫

দূষণে জেরবার রাজধানী ! দিল্লির সরকারি স্কুলের ১০ হাজার শ্রেণিকক্ষে বসবে ‘বায়ু শোধক যন্ত্র’, ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দূষণে জেরবার রাজধানী ! দিল্লির সরকারি স্কুলের ১০ হাজার শ্রেণিকক্ষে বসবে ‘বায়ু শোধক যন্ত্র’, ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

রাজধানীর বায়ু দূষণ এই মূহূর্তে চরমসীমা ছাড়িয়েছে, স্কুল পড়ুয়া শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার থেকে শিক্ষামহল। এমন পরিস্থিতিতে বড়ো উদ্যোগ নিতে চলেছে দিল্লি সরকার। আজ দিল্লি শিক্ষা মন্ত্রী অশিষ সুদ ঘোষণা করেছেন, সরকারি স্কুলের ১০ হাজার শ্রেণিকক্ষে ধাপে ধাপে ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ স্থাপন করা হবে। প্রথম পর্যায়ের এই প্রকল্পের জন্য আজই টেন্ডার জারি করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, ‘পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো হবে। আমরা শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে আপোষ করি না। এটি আমাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, শীতকালীন মাসে যখন দিল্লির বায়ু মান প্রায়শই গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন এই পদক্ষেপ শিশুদের ক্ষতিকর কণার সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করবে।

দিল্লি শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়মিতভাবে ‘খুব খারাপ’ বা ‘গুরুতর’ স্তরে পৌঁছায়। দূষণে সবচেয়ে বিপন্ন হয় শিশুরা। শ্বাসনালী সংক্রান্ত রোগ, অ্যাজমা এবং দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের ক্ষতি—এসবের ঝুঁকি তাদের জন্য বেশি। সাম্প্রতিক সপ্তাহে দূষণের মাত্রা বাড়ায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে নির্মাণ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ, যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ‘শ্রেণিকক্ষে ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ বসানো হবে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায়। শিশুরা দিনে কয়েক ঘণ্টা স্কুলের শ্রেণিকক্ষে কাটায়। তাই ইনডোর এয়ার কোয়ালিটি উন্নত করা খুবই জরুরি।’ এয়ার পিউরিফায়ার শুধু ধূলিকণা নয়, পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ কণার সংস্পর্শ কমিয়ে দেয়। ফলে শিশুরা স্বস্তির শ্বাস নিতে পারবে, বিশেষ করে শীতকালীন সময়ে।

তবে, শুধু এয়ার পিউরিফায়ার নয়, দিল্লি সরকার না কি শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। দিল্লির শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘ভলসা ল্যান্ডফিল’, যা বহু বছর ধরে বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হবে। এটি শুধু পরিবেশের জন্য নয়, শহরের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক ঘোষণার সঙ্গে মন্ত্রী আগের সরকারের সমালোচনা করতেও ভোলেননি। তিনি বলেন, ‘আগের আম আদমি পার্টি-শাসিত সরকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। তারা শুধু প্রচার ও পিআর কার্যক্রমেই ব্যস্ত ছিল। রাজধানীর সবুজ এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি মনিটরিং স্টেশনের মাত্র ৩০ শতাংশ স্থাপন করা হয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বায়ু পরিষ্কার করা নয়, কেবল পরিসংখ্যান সুন্দর দেখানো।’

রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার এই পদক্ষেপটি বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ শিশুদের স্কুলে বসলে ক্ষতিকর বায়ু থেকে তাক পড়ুয়াদের রক্ষা করবে, শ্বাসনালী সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। দিল্লি সরকারের আশা, ধাপে ধাপে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সরকারি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ হবে নিরাপদ বাতাসের প্রতীক, যেখানে শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!