Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫

দিল্লি-সহ দেশজুড়ে নাশকতার ছক? গত চব্বিশ ঘণ্টায় বিস্ফোরক, অস্ত্র সমেত ধৃত ৫ আইএসআইএস জঙ্গি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লি-সহ দেশজুড়ে নাশকতার ছক? গত চব্বিশ ঘণ্টায় বিস্ফোরক, অস্ত্র সমেত ধৃত ৫ আইএসআইএস জঙ্গি

দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এক ঐতিহাসিক অভিযানে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে আইএসআইএসের একটি সন্ত্রাসী মডিউল। দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে বিপুল অস্ত্র, বিস্ফোরক সহ গ্রেফতার ৫ সন্দেহভাজন জঙ্গি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে আশরফ দানিশ এবং দিল্লি থেকে আফতাব কুরেশিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে নানান তথ্য। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এই ২ জন ছাড়াও আরো ৩জন সন্দেহভাজন সক্রিয় রয়েছে, যাদের খোঁজে শুরু হয় বিশেষ তল্লাশি। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশ ও তেলঙ্গানায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। এর ফলে এ পর্যায়ে সন্ত্রাসী দলের মোট ধৃতের সংখ্যা ৫ পৌঁছে গেল। তদন্তে জানা গেছে, এই ৫জন সদস্য পরস্পরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। পুলিশের সন্দেহ, তারা ‘আল-কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ বা আকিউআইএস মডিউলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। ধৃতদের মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন আশরফ দানিশ পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং সীমান্তপার থেকে ভারতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য নির্দেশনা পেতেন। গোয়েন্দাদের দাবি, এই জঙ্গি চক্রটি দেশের যুব সমাজকে মগজধোলাই করে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করত। তারা যে শুধু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা করত তাই নয়, একই সঙ্গে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং নিয়োগের দায়িত্বও ছিল এদের হাতে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি এবং তার নিকটবর্তী এনসিআর এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড়ো ধরনের নাশকতার ছক কষছিল এই দল। পুলিশের হাতে এসেছে বিস্ফোরক, অস্ত্র এবং আইইডি তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যা নির্দেশ করে তারা সত্যিই রাজধানীতে ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করছিল। এই হামলার পরে ধৃতরা বিদেশে পালানোর চেষ্টা করত বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

ঘটনার পর, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে। এনআইএ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সন্দেহভাজনদের ডিজিটাল তথ্য, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করছে। এসব তথ্য থেকে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিস্তার, অর্থায়ন এবং পরিকল্পনার সম্পর্কে বড়ো ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি ও ঝাড়খণ্ড ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানায় জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছিল, সেইমতো ওই রাজ্যগুলিতে একযোগে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর এই জোরালো অভিযান শুধু আইএসআইএস-এর চক্র ভেঙে ফেলল তাই নয়, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকার তথ্যও উঠে এল। গোয়েন্দারা বলছেন, এ ধরনের মডিউল দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করে বারবার। কিন্তু আমরা সতর্ক, যে কোনো সমস্যার মোকাবিলা করতে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান। তদন্ত এখনো চলমান। গোয়েন্দারা আশা করছেন, ধৃতদের থেকে উদ্ধার হওয়া প্রমাণাদি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য দেবে এবং ভবিষ্যতে এরকম হামলার পরিকল্পনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!