- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১৭, ২০২৬
অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব মিনাকে তামিলনাড়ুতে পর্যবেক্ষক করে পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন
বিধানসভা ভোট ঘোষণার পরপরই রাজ্যের প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই প্রেক্ষিতেই অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনা-কে এ বার ভিন্রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে তামিলনাড়ু-র একটি বিধানসভা কেন্দ্রে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গভীর রাতে মিনাকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে মুখ্যসচিব পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তী-কে। তাঁর জায়গায় নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় দুষ্মন্ত নারিওয়ালা-কে এবং নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয় সংঘমিত্রা ঘোষ-কে।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কমিশনের পদক্ষেপকে “মধ্যরাতে গুপ্ত-তাণ্ডব” বলে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, “রাত সাড়ে ১২টায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হল! এটা মগের মুলুক?”
শুধু প্রশাসন নয়, সোমবার রাজ্য পুলিশের শীর্ষপদেও বদল আনে কমিশন। ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে নতুন আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে চিঠি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই রদবদল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন যে শুধু সরানোই যথেষ্ট নয়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানো উচিত। ঘটনাচক্রে, তার পরের দিনই মিনাকে ভিন্রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচন কমিশন অন্য রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য রাজ্যের ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিককে দিল্লিতে প্রশিক্ষণ দেয়। ওই তালিকায় জগদীশপ্রসাদ মিনা ছিলেন। যদিও এই তালিকায় নন্দিনী চক্রবর্তীর নাম ছিল না, ফলে তাঁকে অন্য রাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠানোর সম্ভাবনা কম বলেই কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোট ঘোষণার পর প্রশাসনিক এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
❤ Support Us






