Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৫

নতুন খসড়া শ্রম নীতি প্রকাশ কেন্দ্রের। সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানে জোর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নতুন খসড়া শ্রম নীতি প্রকাশ কেন্দ্রের। সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানে জোর

বুধবার, শ্রমিক ও কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবায় ভারসাম্য রক্ষা করাকে মূল লক্ষ্য ধরে নতুন খসড়া ‘শ্রম শক্তি নীতি-২০২৫’ প্রকাশ করল কেন্দ্র। এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মতামত জানাতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে শ্রমমন্ত্রকের পক্ষ থেকে। সরকারি সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে এই নীতির ভিত্তিতে একটি বিলও আনা হতে পারে।

২০৪৭ সালের বিকশিত ভারত কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে এই নীতি। বিশেষ করে মহিলাদের শ্রম বাজারে অংশগ্রহণ ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। দেশের সমস্ত স্তরের শ্রমিক ও কর্মচারীর কাছে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে মহিলাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। খসড়া নীতিতে দাবি করা হয়েছে, আগামী ২০ বছর ধরে কোটি কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর হার প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা হবে, অর্থাৎ ‘নিয়ার-জিরো ওয়ার্কপ্লেস ফ্যাটালিটিস’ হবে সরকারের এক প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মানসুখ মান্ডাভিয়া বলেছেন, ‘এই নীতি শ্রমজীবনের মর্যাদা ও শ্ৰমধর্মের মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের সুরক্ষা, উৎপাদনশীলতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, কর্মসংস্থান ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

খসড়া নীতিতে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একীভূত করার ব্যাপক পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন, কর্মচারী রাজ্য বীমা কর্পোরেশন, প্রধানমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনা, ই-শ্রম প্ল্যাটফর্ম এবং রাজ্য কল্যাণ বোর্ডগুলোকে মিলিয়ে একটি সর্বজনীন ও স্থানান্তরযোগ্য সামাজিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এতে দেশের সমস্ত শ্রমিকদের তথ্য ও সুবিধাগুলো সহজলভ্য এবং একক প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালিত হবে। এছাড়াও, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য একক-উইন্ডো ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে স্ব-প্রমাণীকরণ এবং সহজ রিটার্ন পদ্ধতির মাধ্যমে এই খাতের ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে সহজতর করা হবে। পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কোডের বাস্তবায়নে ঝুঁকি ভিত্তিক পরিদর্শন এবং লিঙ্গ সংবেদনশীল মানদণ্ড প্রণয়ন ও প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করে শ্রম প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই নীতির বাস্তবায়ন ৩টি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে বলে প্রকাশিত খসড়াতে বলা হয়েছে। প্রথম পর্যায়, যা ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে, সেখানে প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন এবং সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায় ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত, যেখানে দেশের সর্বত্র সামাজিক নিরাপত্তা বিস্তার, দক্ষতা ভিত্তিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থা এবং জেলা পর্যায়ের কর্মসংস্থান সুবিধা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে। এর পরবর্তী বা তৃতীয় পর্যায় ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়কে ‘লং টার্ম ফেজ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কাগজবিহীন শাসন ব্যবস্থা, পূর্বাভাস বিশ্লেষণ এবং নীতির ধারাবাহিক পুনর্নবীকরণ কার্যকর করা হবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই নীতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য বাস্তব সময়ের ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হবে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান নীতি মূল্যায়ন সূচকের মাধ্যমে রাজ্যগুলোর কর্মক্ষমতা তুলনা করা হবে। পাশাপাশি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনা ও মূল্যায়নও নিয়মিত নেয়া হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!