Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ১৪, ২০২৬

ভোটদানে পোশাকবিধি ! আলাদা কাউন্টারে মুখ দেখিয়ে অনুমতি মিলবে পর্দানশীন মহিলাদের। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটদানে পোশাকবিধি ! আলাদা কাউন্টারে মুখ দেখিয়ে অনুমতি মিলবে পর্দানশীন মহিলাদের। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক

যে কোনো মুহূর্তে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হতে পারে পশ্চিমবঙ্গে। ‘এসআইআর’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বহু ভোটাদের বাদ পড়বার আশঙ্কা। তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম সহ সমস্ত দলগুলিই নিজেদের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়ে বিতর্ক নতুন করে মাথাচারা দিয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোট দিতে গিয়ে কী ধরনের পোশাক পরা যাবে—এ নিয়ে বহু ভোটারের মধ্যেই প্রতি বার কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কেউ রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা রঙের পোশাক পরে ভোটকেন্দ্রে গেলে, বা মহিলারা মুখ ঢেকে ভোট দিতে গেলে, বা কেউ যদি মাস্কে মুখ ঢেকে রাখেন, তাহলে তারা কি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন ? না কি আপত্তি জানাতে পারে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ?

কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটারদের ভোটদানের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ‘ড্রেস কোড’ বা বাধ্যতামূলক পোশাকবিধি নেই। অর্থাৎ, সাধারণ পোশাকে যে কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তবে এর পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তও রয়েছে। পোশাকবিধি নিয়ে নতুন এক নিয়ম জারি হওয়াতে এ বিতর্কের পালে হাওয়া লেগেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতে একাধিক নতুন পদক্ষেপের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার তালিকা যাচাই ও পর্দানশীন মহিলাদের ভোটদানের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মুখ ঢেকে ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ালেই ভোট দেওয়া যাবে না। তার আগে ভোটারদের বুথের বাইরে নির্দিষ্ট একটি আলাদা ‘কাউন্টার’-এ যেতে হবে। সেখানে ভোটকর্মীরা সচিত্র পরিচয়পত্রের সঙ্গে ভোটারের মুখ মিলিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে মুখের আবরণ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে তবেই ভোট দেওয়ার অনুমতি মিলবে। বিহারের ভোট ব্যবস্থায় চালু থাকা এই নিয়ম এবার বাংলাতেও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েও কমিশনের ভিতরে আলোচনা চলছে।

নির্বাচনী বিধিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো ভোটার যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক, স্লোগান বা প্রচারমূলক বার্তা লেখা টি-শার্ট, টুপি, স্কার্ফ বা ব্যাজ পরে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তা হলে তা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী বলে গণ্য হতে পারে। এ ধরনের পোশাক বা চিহ্ন ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে ধরা হতে পারে। ফলে নিরাপত্তারক্ষী বা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সে ক্ষেত্রে ভোটারকে ওই প্রচারমূলক চিহ্ন ঢেকে ফেলতে বা খুলে রাখতে বলতে পারেন। কমিশনের যুক্তি, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নিরপেক্ষ ও শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভোটারদের উপর কোনও ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই বিধির মূল লক্ষ্য। তাই রাজনৈতিক দলের পতাকা, প্রতীক, স্লোগান বা নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম লেখা পোশাক বা সামগ্রী ভোটকেন্দ্রে বহন করা নিষিদ্ধ।

তবে সাধারণ রঙের পোশাক— যেমন সাদা, সবুজ, গেরুয়া, লাল বা অন্য যে কোনো রঙ পরার উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কেবলমাত্র সে রঙের সঙ্গে যদি স্পষ্টভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক বা প্রচার বার্তা যুক্ত থাকে, তখনই আপত্তির প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটদানের সময় ভোটারদের পোশাক যেন রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হয়ে না ওঠে। ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী ও এজেন্টদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে তারা দলীয় পতাকা, ব্যানার বা প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন না। নির্বাচনী আচরণবিধির এই অংশ কার্যকর করতে কেন্দ্রগুলিতে মোতায়েন থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটদানের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরপেক্ষ পরিবেশ। পোশাকবিধি সংক্রান্ত এই নিয়ম আসলে সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখারই একটি অংশ।

অন্যদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের বিষয়টি বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আগামী সপ্তাহের শেষে সংশোধিত তালিকার আরেকটি অংশ প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন। তালিকা আংশিকভাবে প্রকাশের পর ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এই ৬০ লক্ষের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়তে পারে, তাঁদের জন্য আবেদন জানানোর বিকল্প ব্যবস্থাও আদালত রেখেছে।

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, বিচারাধীন কোনো ব্যক্তি তাঁর সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন না। তবে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে বিচারকদের কাছে আবেদন করতে পারবেন। বিচারকরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন। যদি বিচারকদের সিদ্ধান্তে আবেদন বাতিল হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে। যদিও এ পর্যন্ত ট্রাইবুনাল কবে গঠন করা হবে তা স্পষ্ট নয়। ফলে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অনেক বিচারাধীন ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন না বলেই মনে করছে কমিশন। এছাড়াও ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থাও চালু করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাঁরা শারীরিক কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন না, তাঁদের বাড়িতেই গিয়ে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!