- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ১৫, ২০২৫
বেইজিংয়ে জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক ভারতের বিদেশমন্ত্রী র, পারস্পরিক আস্হা ও স্থিতিশীল সম্পর্কের বার্তা
পূর্ব-লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ৫ বছর পর কিছুটা উষ্ণতা ফিরেছে দিল্লি-বেইজিং সম্পর্কে। আর বরফ গলার আবহেই প্রায় ৬ বছর পর চিন সফরে গেলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে ‘সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’ -এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিঙের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ বৈঠককেই ভবিষ্যতের কূটনৈতিক দিকনির্দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে দু-পক্ষই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়শঙ্কর লিখেছেন, ‘আজ সকালে বেজিংয়ে রাষ্ট্রপতি শি শি জিনপিঙের সঙ্গে এসসিও-র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে একসঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মূ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়েছি। ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছি।’ সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছন জয়শঙ্কর। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিন সফর। তাই কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জয়শঙ্করের সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার তিনি চিনের উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেং-এর সঙ্গেও পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে হান বলেন, ‘গত বছর কাজানে রাষ্ট্রপতি শি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক প্রতিবেশি দু-দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। চিন ও ভারত দুজনেই এই মুহূর্তে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি এবং গ্লোবাল সাউথ-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই বাস্তবতায় একে অপরের সাফল্যের অংশীদার হতেই হয়।’ তিনি আরো বলেন, উভয় দেশের নেতৃত্ব যে সব সমঝোতায় পৌঁছেছেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হব। তাহলেই পারস্পরিক বিশ্বাস ও বাস্তবমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্কের স্থিতিশীল ও সুস্থ বিকাশ ঘটবে।’
Called on President Xi Jinping this morning in Beijing along with my fellow SCO Foreign Ministers.
Conveyed the greetings of President Droupadi Murmu & Prime Minister @narendramodi.
Apprised President Xi of the recent development of our bilateral ties. Value the guidance of… pic.twitter.com/tNfmEzpJGl
— Dr. S. Jaishankar (@DrSJaishankar) July 15, 2025
মঙ্গলবার চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে জয়শঙ্কর জানান, ‘গত ৯ মাসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা রক্ষা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অগ্রগতির জন্য মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এখন আমাদের কাজ সীমান্ত ঘিরে অন্যান্য বিষয়, বিশেষ করে সেনা সরানো ও উত্তেজনা কমানোর দিকে এগিয়ে যাওয়া।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মতে, ‘ভারত-চিন সম্পর্ককে সুস্থ ও গঠনমূলক রাখার একমাত্র পথ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বার্থ রক্ষা আর সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আলোচনা। মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়, প্রতিযোগিতা যেন সংঘাতে না গড়ায়—এ মূলনীতিতেই আমাদের নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।’ জয়শঙ্কর এদিন চিনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণনীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘এ ধরনের বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে ভারত ও চিনের উচিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে কৃত্রিম বাধা না তৈরি করা।’
দু-দেশের মধ্যে গণপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি আর ধর্মীয় যাত্রা পুনরারম্ভ নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় দু-পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা এবং ভারত-চিন সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করা হবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী নদনদীগুলির বিষয়ে তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও চিনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে। এসসিও সম্মেলনের আগে ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থানকে সামনে এনে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থা দমন। আমরা আশাবাদী, গুরুত্বপূর্ণ এ মঞ্চে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করা হবে হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য মূলত পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির দিকেই ইঙ্গিত করে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ডেপসাং ও ডেমচক অঞ্চলে সেনা সরানোর ফলে পূর্ব-লাদাখে দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত অচলাবস্থা অবসান ঘটে। এরপরে শি-মোদি বৈঠক হয়েছিল কাজানে। ওই বৈঠকের পর থেকে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে চিনে আয়োজিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলে সূত্রের খবর।
❤ Support Us






