- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৮, ২০২৬
নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে তপ্ত বাকযুদ্ধ ! বিতর্কে সরব তৃণমূল, ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’-এর পাল্টা অভিযোগ জ্ঞানেশ কুমারের
ভোটের আগে কমিশন বনাব তৃণমূলের বাকযুদ্ধে উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল। বুধবার, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বৈঠক শেষ হলো চূড়ান্ত তিক্ততার আবহে। উঠল গুরুতর অভিযোগ-প্রতিআরোপ। ডেরেক ও-ব্রায়েনদের অভিযোগ, মিটিং চলয়াকালীন, ৭ মিনিটের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাকি তৃণমূল প্রতিনিধিদের ‘গেট লস্ট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। যদিও কমিশনের দাবি, প্রতিনিধিদলের তরফেই ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। দলের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ জানাতেই তাঁরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও-ব্রায়েনসরাসরি অভিযোগ তোলেন, ‘৭ মিনিটের মধ্যে আমাদের বলা হয়, ‘গেট লস্ট’। আমরা বেরিয়ে আসি। আমরা সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল।’ ক্ষুব্ধ সাংসদের মতে, এ আচরণ নজিরবিহীন। তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো একাধিক চিঠি নিয়ে এদিন তাঁরা বৈঠকে যান। সে চিঠিতে ভোট পরিচালনা সংক্রান্ত নানা অভিযোগ ও আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে, নির্বাচনী আধিকারিকদের একাংশের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাসকদল।
বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ছাড়াও, মেনকা গুরুস্বামী, সাগরিকা ঘোষ ও সাকেত গোখলে। ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম, এ ভাবে আধিকারিকদের বদলি করে কী ভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? তার জবাব না দিয়ে আমাদের ‘গেট লস্ট’ বলা হয়।’ তিনি কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বৈঠকের অডিও বা ভিডিও প্রকাশ করা হোক। তবে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তাদের বক্তব্য, বৈঠকের সময় তৃণমূল প্রতিনিধিরাই উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন। সে প্রেক্ষিতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শালীনতা বজায় রাখার অনুরোধ জানান। তাঁদের দাবি, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনের ঘরে এরকম চিৎকার-চেঁচামেচি বা অশোভন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়’।
ঘটনার পরপরই নির্বাচন কমিশনের তরফে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়, এ বারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হবে ‘ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, ভীতি-মুক্ত এবং প্রলোভনমুক্ত’। বুথ দখল, ভয় দেখানো বা অনিয়ম কোনো কিছুই বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া সুরে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাগরিকা ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে কমিশনের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘কমিশনের তরফে আমাদের দুটি কথাই বলা হয়েছে—প্রথমত, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী কোথায়? দ্বিতীয়ত, ‘গেট লস্ট’।’ সাকেত গোখলের বক্তব্য, ‘কমিশন যদি দাবি করে অন্য কিছু হয়েছে, তা হলে বৈঠকের সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ করুক। নইলে আমরা তা প্রকাশ করতে বাধ্য হব।’
এ আবহেই সামনে আসছে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ। ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের অভিযোগ, এর আড়ালে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। দলের দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে। ফলে মোট ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ভোটের মুখে কমিশন ও রাজ্যের শাসকদলের প্রকাশ্য সংঘাত নির্বাচনী আবহকে আরও তপ্ত করে তুলল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। ফল ঘোষণা ৪ মে। তার আগে কমিশন বনাব ঘাসফুল শিবিরের এ সংঘাত যে আরও রাজনৈতিক তরজা বাড়াবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
❤ Support Us





