- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুন ২৬, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপে ফের চমক! রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই চমক দিয়ে চলেছে ছোটো দলগুলি। এবার আরও একটা অঘটন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর। গ্রুপ ‘ই’–র রোমাঞ্চকর ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে ২–১ গোলে হারিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ইকুয়েডর। নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচে একটাও গোল করতে না পারা ইকুয়েডর এই ম্যাচে বড়ো অঘটন ঘটাতে সক্ষম হয়। ইকুয়েডরের কাছে হারলেও জার্মানির অবশ্য কোনো ক্ষতি হয়নি। প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে আগেই তারা শেষ ৩২–এর টিকিট জোগাড় করে নিয়েছিল।
২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানির বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে খেলতে নেমেছিল ইকুয়েডর। ইকুয়েডরের কোনও অন্ধ সমর্থকও হয়তো নকআউটে খেলার স্বপ্ন দেখেননি। কিন্তু অন্যরকম ভেবেছিলেন ইকুয়েডের ফুটবলাররা। তাঁরা সেরাটা যেন জমিয়ে রেখেছিল জার্মানির জন্যই। যদিও ম্যাচের শুরুটা দেখে মনে হয়নি ইকুয়েডর এই ম্যাচ জিততে পারে। দারুণভাবেই ম্যাচটা শুরু করেছিল জার্মানি। প্রথম মিনিট থেকেই সেই চিরাচরিত আক্রমণাত্মক ফুটবল।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ২ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় জার্মানি। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দুরন্ত কার্লিং শটে গোল করেন লেরয় সানে। এই গোল নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। ইকুয়েডর ফুটবলারদের দাবি, গোলের আগে ফাউল হয়েছিল। তবে রেফারি এড়িয়ে যান। যদিও এই অগ্রগমন খুব বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি জার্মানি। ম্যাচের ৯ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় ইকুয়েডর। বক্সের বাইরে নিলসন অ্যাঙ্গুলোকে পাস বাড়িয়েছিলেন পেড্রো ভিট। ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নুয়ারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যাঙ্গুলো।
এই গোলটি ইকুয়েডর দলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানির আক্রমণের সামনে সমান তালে পাল্লা দিয়ে যায়। জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান দলে পরিবর্তন আনলেও ইকুয়েডরিয়ানরা চাপ বজায় রেখেছিল। বারবার প্রতি আক্রমণে উঠে এসে বেশ কয়েকটা সুযোগ তৈরি করে। তেমনই এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় ইকুয়েডর। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল হেড করেন রড্রিগেজ। সেই বলে পা ছুঁইয়ে দলকে ২–১ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর লিড এনে দেন গঞ্জালো প্লাটা। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের তালিকায় উঠে আসে ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার নকাউটে খেলার সুযোগ পেল ইকুয়েডর।
এই পরাজয়ে জার্মানির অবশ্য কোনো ক্ষতি হয়নি। গ্রুপ ‘ই’–তে শীর্ষে থেকেই নকআউটে পৌঁছেছে। পরবর্তী রাউন্ডে তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের মুখোমুখি হবে নাগলসম্যানর দল। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর এই প্রথম নকআউটে উঠল জার্মানি। আগের দুটি আসরে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিল।
❤ Support Us








