Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ২২, ২০২৫

‘আইনি বাধার কারণে তালিকা প্রকাশ করা যায় নি’, শিক্ষামন্ত্রীর বার্তায় হতাশ চাকরিহারা শিক্ষকরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘আইনি বাধার কারণে তালিকা প্রকাশ করা যায় নি’, শিক্ষামন্ত্রীর বার্তায় হতাশ চাকরিহারা শিক্ষকরা

চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসএসসি অফিসের সামনে যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশের দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ করছেন। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও এসএসসি তালিকা প্রকাশ করেনি। কারণ হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আইনি বাধার কথা তুলে ধরেছেন। তালিকা প্রকাশ না হলেও অযোগ্যদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে চাকরিহারাদের একাংশ।

যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশের দাবিতে এসএসসি ভবনের সামনে সোমবার রাত থেকে লাগাতার বিক্ষোভ ও ধর্নায় বসেছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এসএসসি দফতরে ‘বন্দি’ চেয়ারম্যান মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দফতরের ভিতরেও ৮ জন শিক্ষাকর্মী অনশনে বসেছেন। নিয়োগের যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এর পর গভীর রাতে এসএসসি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করতে তারা বাধ্য। তাছাড়া, কমিশন জানিয়েছে, যারা চাকরি পেয়েছেন, তাদের বেতন বর্তমান নিয়মে দেওয়া হবে। তবে, ‘যোগ্য’ ও ‘অযোগ্য’ তালিকা সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। এরপরই চলমান আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করে। এসএসসি ভবন ঘেরাও করে তাদের প্রতিবাদ শুরু করেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘যারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য, তাদের বেতন দেওয়া হবে, তবে যাদের অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের কোনো নির্দেশনা নেই। আমরা রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে এই বিষয়টি শীঘ্রই সমাধান করার চেষ্টা করছি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে সমস্ত ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা রয়েছেন , তাঁদের বেতন দিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে, যাঁরা অযোগ্য, তাদের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট কোনো নির্দেশনা দেয়নি, তাই তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’ আন্দোলনমঞ্চে বাইরে থেকের আসা আন্দোলনকারীরা রয়েছেন, বলে মন্তব্য করেছেন ‘ঘেরাও’ হয়ে ঠ্যাকা এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদা। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে এই আন্দোলনে শুধু শিক্ষকেরা নেই। বাইরে থেকে আসা বহু আন্দোলনকারীও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।’

মঙ্গলবার সকাল থেকে দফায় দফায় ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠেছে আন্দোলন ভূমিতে। আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সমিতি, যাদবপুরের পড়ুয়ারা ও জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন। সোমবার রাতে কমিশনের দফতরের ভিতরে খাবার প্রবেশ করতে দেননি আন্দোলনরত শিক্ষকদের একাংশ। মঙ্গলবার সকালেও চা প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আজ মহাসমাবেশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের আগামী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে জানিয়েছে চাকরিহারা ঐক্যমঞ্চ। ‘যোগ্য’দের তালিকা এখনও প্রকাশ হয়নি। এই অবস্থায় নিজেদের দাবি থেকে কিছুটা সরলেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, কমিশন যদি ‘যোগ্য’দের তালিকা প্রকাশ করতে না পারে, তবে ‘অযোগ্য’দের অবিলম্বে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হোক। এমত অবস্থায়, দুপুরে বিকাশ ভবন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে চাকরিহারাদের পাশে রয়েছেন। বিদ্যালয় শিক্ষাদফতর সবসময় তাঁদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। আমরা রিভিউ পিটিশন করছি। তাই এমন কোনো কিছু করা উচিত নয় যাতে, আপনাদের রিভিউ পিটিশনকে দুর্বল করে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘিত হয় কিংবা আপনাদের বা আমাদের আদালত অবমাননা না হয়, তা আপনাদের বজায় রাখতে অনুরোধ করছি। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যোগ দিতে অনুরোধ করছি উপযুক্ত শিক্ষকদের। বেতনের বিষয়ে আমাদের দফতর কাজ করে যাচ্ছে। এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি। আগামিকালও ডিভিশন বেঞ্চে এসএসসির মামলা রয়েছে। আপনাদের জন্যই এসএএসসি লড়ছে। একমাত্র সরকারই আপনাদের পাশে রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আইনি পরামর্শ নিয়ে প্রতিটি ধাপ এগোচ্ছি। অযোগ্য তালিকার বাইরে ১৭,২০৬ জন রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে ভাগ রয়েছে। সেই অনুসারে আমরা কাজ করছি। আপনারা গিয়ে আপনাদের কাজ করুন।’ অযোগ্য তালিকা প্রকাশের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আইনি পরামর্শ না পাওয়ার কারণে তালিকা প্রকাশ করা যায় নি। কিন্তু কাউকে তো চাকরি থেকে বরখাস্তঅ করা হয় নি, বেতনও আটকানো হয় নি।’ অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘তালিকা তো সুপ্রিম কোর্টই দিয়েছে। আমাদের কিছু করার নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই এটি নির্ধারিত হয়েছে এবং তা পাবলিক ডোমেইনে রয়েছে।” তিনি আরও জানান, “সোমবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা তৃতীয় দফার কাউন্সেলিংয়ের পর বাকি দফার কাউন্সেলিং নিয়ে মন্তব্য করেছেন, কিন্তু কমিশন বা আমরা এরকম কিছু বলিনি। এসএসসি চেয়ারম্যানও এমন কোনো কথা বলেননি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এমন কিছু উল্লেখ নেই। যা বলা হয়নি, তা কল্পনা করে কেন তারা মন্তব্য করছেন, তা আমি জানি না।’

ব্রাত্য বসুর সাংবাদিক সম্মেমনে করা মন্তব্যের পর হতাশা ছড়িয়েছে চাকরিহারাদের মধ্যে। এক চাকরি হারা বলেছেন, ‘১৩ তারিখে বৈঠকে তিনি বলেছিলেন তালিকা দেবেন, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর কথায় আমরা আশা নিয়ে ২১ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। যাঁদের উপর ভরসা রাখা যায়, তাঁদের উপর নির্ভর করে আমরা অনেক সুফল পেয়েছি। এখন আমাদের একটাই দাবি, তালিকা প্রকাশ করতে হবে, অথবা আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ অন্যদিকে, বিধাননগর পুলিশের ডিসি অনীশ সরকার জানিয়েছেন, পুলিশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে কোনও বাধা দিচ্ছে না, তবে পুলিশকর্মীদের কর্তব্য পালনে যাতে কোনো বাধা না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষকদের সতর্ক করেছেন বিধাননগর পুলিশের ডিসি। তিনি বলেন, ‘পুলিশ অফিসারেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে পুলিশকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে, তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যখন পুলিশ তাঁদের কাজ করতে গিয়েছে, তখন ভিতর থেকে বেরোনোর সময়ও তাদের আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশকে ডিউটি করতে বাধা দেওয়া আইন বিরোধী, এভাবে পুলিশকে বাধা দেওয়া উচিত নয়।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!