Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ১৫, ২০২৫

উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে ধাক্কা খেল বিজেপি, দল বদল জন বার্লার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে ধাক্কা খেল বিজেপি, দল বদল জন বার্লার

তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নেন উত্তরবঙ্গের এই আদিবাসী নেতা। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, চা বলয়ে সংগঠন শক্তিশালী করতেই জনকে দলে নেওয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে সংসদে পৌঁছেছিলেন জন বার্লা। পরে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও হন। তবে ২০২৪-এ বিজেপি তাঁকে টিকিট না দিয়ে মনোনয়ন দেয় মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গাকে। সেই থেকেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। লোকসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি সভায় জনের উপস্থিতি, জল্পনার ইন্ধন দেয়। অবশেষে, বৃহস্পতিবার দলবদল করলেন তিনি। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর সুব্রত বক্সী বলেন, ‘জন বার্লা আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন রাজ্য কমিটিতে। চা বলয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করবেন তিনিই।’ জনের অভিযোগের জবাবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তিনি এখন আই-প্যাকের লেখা স্ক্রিপ্ট পড়ছেন। আমি এ ধরনের অভিযোগের উত্তর দিতে রাজি নই। জন বার্লা আমাকেও নিয়মিত ফোন করতেন।’

তৃণমূলে যোগ দিয়েই তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন। অভিযোগ করেন, সাংসদ থাকাকালীন নিজের লোকসভা কেন্দ্রে হাসপাতাল তৈরি করতে চেয়েছিলেন, তবু রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের আপত্তির কারণে সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। জনের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপেই সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বার্লা বলেন, ‘যে দলে থেকে মানুষের জন্য কাজই করতে পারি না, সেখানে আর থাকার মানে কী?’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘চা বাগানের মানুষ ২০১৪ সাল থেকে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু তারা কী পেয়েছে’ তিনি মমতার ‘চা সুন্দরী’, জমির পাট্টা প্রকল্পের প্রশংসা করে জানান, তৃণমূল সরকারের হাত ধরেই চা বাগানের মানুষ প্রকৃত উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন। জন বলেন, প্রায় ছয়-সাত মাস ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ফোনে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দিদি নিজে ফোন করে কাজ করার কথা বলেন। আমি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে দলে কাজের সুযোগ দিয়েছেন।’

জন বার্লার এই যোগদান উত্তরবঙ্গের চা বাগানে সংগঠন মজবুত করতে তৃণমূলের জন্য বড় হাতিয়ার হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে বিজেপির জন্য এটি উত্তরবঙ্গে বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের দলত্যাগ এবং মাদারিহাটের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পোর জয়ে পদ্মশিবিরে ধাক্কা লেগেছিল। জন বার্লার দলবদল সেই ধাক্কাকে আরো জোরালো করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!