- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৬, ২০২৫
লালবাজারের অদূরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ! আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছে দমকলের ৫ ইঞ্জিন
লালবাজার চত্বরে ফের অগ্নিকাণ্ড! বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা আগুন লেগে গেছে আর.এন. মুখার্জি রোডের একটি গাড়ির যন্ত্রাংশের গুদামে। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরোতে দেখা যায় তিনতলা একটি ভবনের একতলা থেকে। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। স্থানীয়রা বলছেন, দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যায় যে দু-হাত দূরের মানুষও দেখা যাচ্ছিল না। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয় আশপাশের দোকান ও অফিসপাড়ায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের ৫টি ইঞ্জিন। একদিকে দাউদাউ জ্বলন্ত আগুন, অন্যদিকে ধোঁয়ার তীব্রতা, দুয়ের মধ্যেই বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা। ধোঁয়ার ঘনত্ব এত বেশি যে অক্সিজেন মাস্ক পরে, হাতে সিলিন্ডার নিয়েও ভিতরে ঢোকা যাচ্ছে না ঠিক মতো। একাধিক বার ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেও বাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। তাঁদের চোখ-মুখ জ্বালাপোড়া করছে, অনেকে শ্বাসকষ্টে কাহিল হয়ে পড়েছেন। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন লেগেছে ২১, আর.এন. মুখার্জি রোডে অবস্থিত এক গুদামে। ঘটনাস্থল লালবাজার থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ওই গুদামে রাখা বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ বা এসি মেশিন থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লাগে। আগুন প্রথমে ভবনের একতলায় লাগে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই গোটা তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে বিপুল পরিমাণে কেমিক্যাল মজুত থাকবার সম্ভাবনা রয়েছে। ভিতরে কর্মরত কর্মচারীরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে বলে দমকল সূত্রের খবর। কোনো হতাহতের খবর মেলেনি এ পর্যন্ত।
তবে, উৎকট ধোঁয়ার কারণে দমকলের কাজ ক্রমাগত ব্যাহত হচ্ছে। ভিতরে অক্সিজেনের পরিমাণ এতটাই কম যে, মেশিনের সাহায্যে ধোঁয়া বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জানলার কাচ ভেঙে ধোঁয়ার রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছে। আশপাশের ভবনগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ আপাতত বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আর.এন. মুখার্জি রোডে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দমকলের এক আধিকারিক জানান, ‘আমাদের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটই আগুন লাগার কারণ। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোডাউনের ভিতরে বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থও মজুত ছিল বলে খবর পেয়েছি। সেটাই আগুন নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে।’ গুদামের ভিতরে রাখা অধিকাংশ যন্ত্রাংশ এবং সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগুন যাতে পাশের ভবনগুলিতে না ছড়ায়, সেই চেষ্টাই আপাতত দমকলের মূল লক্ষ্য। ঘটনাস্থলে দমকলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও পৌঁছেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ‘এ চত্বরে অগ্নিকাণ্ড নতুন কিছু নয়। কয়েক মাস আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। অনেক গুদামেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যথাযথ পরিকাঠামো নেই।’ তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। দমকল বিভাগের আধিকারিকদের মতে, আগুন আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়ার ঘনত্ব এখনো প্রবল। গুদামের ভেতরে ঢুকে চূড়ান্ত তদন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। শহরের প্রাণকেন্দ্র লালবাজারের এমন অগ্নিকাণ্ডে ফের প্রশ্ন উঠছে শহরের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো নিয়ে।
❤ Support Us






