Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ১০, ২০২৫

রাজধানীতে বুলডোজার রাজ ! কালকাজীর ভূমিহীন ক্যাম্পে উচ্ছেদ-বিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেফতার দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাজধানীতে বুলডোজার রাজ ! কালকাজীর ভূমিহীন ক্যাম্পে উচ্ছেদ-বিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেফতার দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশি

বিজেপি শাসিত দিল্লিতে চলছে, উত্তরপ্রদেশের কায়দায় বুলডোজার রাজ। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত অভিবাসীদের গড়ে তোলা, প্রায় তিন দশকের পুরনো এই ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলিকে এখন ‘অবৈধ দখল’ বলে চিহ্নিত করছে দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আজ কালকাজীর ভূমিহীন ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে আবারো উত্তাল রাজধানীর তপ্ত বাতাস। মঙ্গলবার সকালে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেত্রী অতিশিকে বিক্ষোভস্থল থেকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।গত ৩ জুন দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির গোবিন্দপুরীর ভূমিহীন ক্যাম্পে বুলডোজার চালানোর উপর স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। আবেদনকারীরা কোর্টে দাবি করেছিলেন, ডিডিএ স্বেচ্ছাচারী আর অবৈধ পদ্ধতিতে তাদের ঝুগি-ঝোপড়ি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। তাদের যুক্তি ছিল, এই আগ্রাসন বস্তি ও জেজে পুনর্বাসন ও স্থানান্তর নীতি-২০১৫ এর পরিপন্থী।

নতুন করে ভাঙচুরের আশঙ্কায়, মজুর শ্রমিকদের বাসঅঞ্চলে ব্যাপক পুলিশ আর সিআরপিএফ মোতায়েন নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অতিশি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘এক বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের উচ্ছেদ। কাল বিজেপি ভূমিহীন ক্যাম্পে বুলডোজার চালাতে চলেছে। আজ যখন বস্তিবাসীরা প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিলেন, তখন বিজেপি সরকার সেখানে হাজার হাজার পুলিশ ও সিআরপিএফ পাঠিয়েছে।’ জানা যাচ্ছে, দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা ডিডিএ আগেই ওই বস্তি অঞ্চলের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে। যাতে বলা হয়েছিল ৩ দিনের মধ্যে তাঁরা জায়গা খালি না করলে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে। অতিশির প্রশ্ন, ওই অঞ্চলে মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের বাসস্থান। মানুষগুলো যাবে কোথায় ?

ওই পোস্টে তিনি দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী রেখা গুপ্তর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘রেখা গুপ্তা জি, আপনি তো বলেছিলেন কোনো বস্তি ভাঙা হবে না ? তাহলে এত পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করছেন কেন?’ এদিকে এক বিবৃতিতে দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে ডিডিএ উচ্ছেদ চালাচ্ছে। বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো বাসিন্দাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হবে না।’ এই ঘটনা রাজধানীতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অতিশির গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে আপ নেতারা দিল্লি পুলিশ ও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এর আগে বারাপুল্লার কাছে মাদ্রাসি ক্যাম্পে উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। ভূমিহীন ক্যাম্পের বাসিন্দারা দিন কাটছে মাথার উপর ছাদ হারানোর আতঙ্কে। প্রশ্ন উঠছে, বছরের পর বছর ধরে বসবাসরত মানুষদের পুনর্বাসনের কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ করে তাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা মানবিক ?

উল্লেখ্য, দিল্লির যমুনা প্লাবনভূমিও যেন এখন আতঙ্কের আরেক নাম। একদিকে প্রকৃতির বারংবার আঘাত, অন্যদিকে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ—দুয়ের মাঝে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন প্রায় ৩০,০০০ বস্তিবাসী। উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে দিল্লি সরকার। অভিযোগ, যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার তাগিদেই এই উচ্ছেদ অভিযান। গত ২১ মার্চ, পাটপরগঞ্জে বুলডোজার নিয়ে হাজির হন ডিডিএ-র কর্মীরা। কার্যত চোখের সামনে নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে পড়েছিল গোটা একটি জনপদ। শেষ মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করেন এলাকার বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্র নেগি। বন্ধ হয় অভিযান। কিন্তু সবার ভাগ্যে এমন পরিত্রাণ নেই। উত্তর দিল্লির সীলামপুর বস্তিতে ৫ মার্চ চলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ। উচ্ছেদ হয় প্রায় ৭০-৮০টি পরিবার। দীর্ঘদিনের বসবাস, আত্মীয়তা গড়ে ওঠা সব এক লহমায় নিশ্চিহ্ন। বুলডোজারের আওয়াজে চাপা পড়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের জীবনের গল্প, তাদের স্বপ্ন, তাদের বাস্তুতন্ত্র।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!