Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ২, ২০২৬

দুই যুবকের দেহ উদ্ধার ঘিরে ফের অশান্ত মণিপুর ! পথে বিক্ষোভকারীরা, নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দুই যুবকের দেহ উদ্ধার ঘিরে ফের অশান্ত মণিপুর ! পথে বিক্ষোভকারীরা, নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ

মণিপুরে অশান্তি থামার কোনো লক্ষণ নেই। মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের মধ্যেই এ বার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে। দুই নিখোঁজ কুকি-জো যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে কাংপোকপি জেলা। রবিবার রাত থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ, নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। চলে লাঠিচার্জও। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জেলায় চলতে থাকা বন্‌ধের মেয়াদ আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি’ (কোটু)। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার আর ন্যায়বিচারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত রবিবার সকালে পার্শ্ববর্তী সেনাপতি জেলার পাহাড়ি এলাকার কলাবাগান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দুই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদের নাম টি চংলোই (২১) এবং পাওগিনলাল হাংসিং (২০)। গত ২৯ অক্টোবর কাংপোকপি জেলার তাফৌ কুকি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাঁরা। নিখোঁজ যুবকদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় দেহ দু-টি উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার রাতেই বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জও করা হয়।

বিক্ষোভের জেরে একাধিক জায়গায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। কোথাও গাছের গুঁড়ি, কোথাও পাথর ফেলে অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ কয়েকটি রাস্তা থেকে অবরোধ সরিয়ে দেয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট উত্তপ্ত। নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন ও লোসি দিখো। কিপগেনের বক্তব্য, দুই যুবকের নিরাপদে ফিরে আসার আশায় দিন গুনছিলেন তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে অপেক্ষার পরিণতি হয়েছে মর্মান্তিক। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্য উপমুখ্যমন্ত্রী দিখোও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। তাঁর বলেছেন, কোনো অভিযোগ, ক্ষোভ কিংবা মতপার্থক্যই একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার যুক্তি হতে পারে না। নতুন করে হিংসার পরিস্থিতিতে মণিপুরের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিংহ। রবিবার তিনি বলেছেন, রাজ্যে স্থায়ী শান্তি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য সব সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিনের সংঘাত কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি।

অন্যদিকে, দেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ‘নাগা পিপলস অর্গানাইজেশন’ (এনপিও)। সংগঠনের সভাপতি কুবা পিটারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রমাণ বিকৃত করা কিংবা ইচ্ছাকৃত ভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর যে কোননো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, কোনো হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পাশাপাশি ঘটনার প্রমাণ নিয়ে কারচুপি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এদিকে, ‘কাংপোকপিভিত্তিক কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি’ (কোটু) এ ঘটনার জন্য উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখোর পদত্যাগ দাবি করেছে। পাশাপাশি তাফৌ কুকি গ্রামকে সেনাপতি পুলিশ সুপারের অধীন থেকে সরিয়ে কাংপোকপি পুলিশ সুপারের অধীনে আনার দাবিও তুলেছে তারা। ‘কোটু’-র স্পষ্ট বক্তব্য, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত নিহত দুই যুবকের দেহ শেষকৃত্যের জন্য গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে না।

এ আবহেই সোমবার, ২ নভেম্বর কাংপোকপি জেলায় চলতে থাকা বন্‌ধের মেয়াদ আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে ‘কোটু’। সংগঠনের অভিযোগ, এমন হত্যাকাণ্ডের পরেও রাজ্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ। একটি বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের ‘লজ্জাজনক সিদ্ধান্তহীনতা, অগ্রহণযোগ্য নীরবতা এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতা’র কথা উল্লেখ করেছে তারা। এর আগে ২৪ ঘণ্টা বন্‌ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এ বার আরও ৪৮ ঘণ্টা তা চলবে। তবে সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা পরিষেবা, সংবাদমাধ্যম এবং বিমানবন্দরে যাতায়াতকে বন্‌ধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ‘কোটু’-র বক্তব্য, নিহতদের পরিবার এবং বৃহত্তর কুকি-জো সম্প্রদায় এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, শোকস্তব্ধ একটি সম্প্রদায়ের ধৈর্যকে দুর্বলতা বলে মনে করা উচিত নয়। ন্যায়বিচারের দাবিকে অবজ্ঞা করাও অনুচিত। প্রশাসনিক অজুহাত কিংবা দীর্ঘ আলোচনার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পদক্ষেপ করতে হবে। সংগঠনের হুঁশিয়ারি, বর্ধিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে কুকি-জো সম্প্রদায়ের মানুষ বৃহত্তর গণসমাবেশের আয়োজন করবেন। সেখানে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি স্থির করা হবে।

জানা যাচ্ছে, দুই যুবকের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কাংপোকপি-সেনাপতি সীমানা বরাবর তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল মণিপুর পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজ়ার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) এবং অসম রাইফেলস। পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য পুলিশ, কোবরা, সিআরপিএফ, অসম রাইফেলস এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের যৌথ দল জাতীয় সড়ক ২-এর পূর্ব দিকে এসপি রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। মণিপুরে এ ধরণের মৃত্যু এই প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে তামেংলং, নোনে, কামজং, উখরুল এবং কাংপোকপি জেলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েক ডজন বাড়ি। এর পাশাপাশি ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে জাতিগত সংঘাত শুরু হয়েছিল, তার ক্ষতও এখনো শুকোয়নি। ইম্ফল উপত্যকার মেইতেই এবং পার্বত্য এলাকার কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ৪৯ জন। ঘরছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

রাজ্যে একের পর এক হিংসার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, তখনই মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা। সোমবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তাঁরা। আলোচনায় উঠে এসেছে রাজ্যের অব্যাহত হিংসা, নিরাপত্তাহীনতা, শান্তি ফেরাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ। পাশাপাশি ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও নির্বাচনী কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মণিপুর কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা কে মেঘচন্দ্র, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও ইবোবি সিংহ, মণিপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘এআইসিসি’ নেতা সপ্তগিরি শঙ্কর উলাকা-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে মেঘচন্দ্র জানান, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অব্যাহত হিংসা এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মণিপুরে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মেঘচন্দ্র। তাঁর দাবি, মণিপুরের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। রাজ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোই দলের প্রধান অগ্রাধিকার। বৈঠকের পর বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করেন খাড়্গে। তাঁর অভিযোগ, মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় নিতে চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব। সংকট যত গভীর হচ্ছে, ততই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে শাসকদল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মণিপুরে বিজেপি শাসনের অবসান ঘটিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি আর উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে কংগ্রেস কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন খাড়্গে।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপালও বিজেপিকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, তা বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে সরকারবিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন। মণিপুর এবং উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যেও সেই অসন্তোষ রয়েছে বলে তাঁর দাবি। প্রসঙ্গত, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন মণিপুরের কংগ্রেস নেতারা। সেখানে ‘মণিপুর বাঁচাও’ স্লোগানও তোলা হয়েছিল । ওই সমাবেশে বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়ম, ভোটার তালিকার সংশোধনকে কেন্দ্র করে সরব হন বিরোধী দলের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, ‘চুরি করা’ জনাদেশের ভিত্তিতে কেন্দ্র, বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি।

দুই মৃতদেহ ঘিরে অশান্তির, দু-দিন আগেই একগুচ্ছ দাবি নিয়ে পথে নেমেছিল একাধিক নাগা ও নাগরিক সংগঠন। কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘর্ষবিরতি চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সীমান্তের দায়িত্ব থেকে অসম রাইফেলসকে সরানো এবং রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) চালুর দাবিতে সরব হয়েছে তারা। গত ৩১ অক্টোবর ইম্ফলের থাউ গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশ থেকে এই দাবিগুলি জানানো হয়। একই সঙ্গে মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর দাবিও উঠেছে। সে দাবি পূরণ না হলে বর্তমান রাজ্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হবে বলেও প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি (কোকোমি), ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি) ও একাধিক নাগরিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি, পাহাড় ও উপত্যকার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের প্রতিফলন এই গণসমাবেশ। সমাবেশে উপস্থিত সংগঠনগুলির মধ্যে ছিল ‘কোকোমি’, ‘ইউএনসি’, ‘জয়েন্ট ট্রাইবস কাউন্সিল’, ‘ফুটহিলস নাগা কো-অর্ডিনেশন কমিটি’, ‘নাগা পিপলস ইউনিয়ন’, ‘ইম্ফল, নাগা হিউম্যানিটারিয়ান এইড কমিটি মণিপুর’, ‘মণিপুর নাগা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’ এবং ‘অল নাগা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, মণিপুর’-সহ একাধিক সংগঠন।  সমাবেশে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়। আয়োজকদের দাবি, ভারত সরকারের কথিত ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। হিংসা, সশস্ত্র আগ্রাসন এবং মাদক পাচার-সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নেটওয়ার্কগুলির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ পদক্ষেপ করতে হবে।

কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’ (এসওও) চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে। সমাবেশে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। চুক্তির আওতায় থাকা সমস্ত নির্দিষ্ট শিবির ভেঙে দেওয়া, গোষ্ঠীগুলির হাতে থাকা অস্ত্রের হিসাব প্রকাশ এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলি। মণিপুরে ঘরছাড়া মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়টিও উঠে এসেছে সমাবেশে। ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে জাতিগত সংঘাতের জেরে ঘরছাড়া হওয়া সমস্ত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্থায়ী ভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের ঘরে ফেরানোর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, জীবিকার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়েও সরব হয়েছেন তাঁরা। সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব থেকে অসম রাইফেলসকে সরিয়ে তাদের জায়গায় নিরপেক্ষ, পেশাদার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং জবাবদিহিমূলক সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। বেআইনি অনুপ্রবেশ, সীমান্ত পেরিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর যাতায়াত এবং পাচার রুখতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ হিসাবে ধরে মণিপুরে ‘এনআরসি’ চালুর দাবি উঠেছে সমাবেশ থেকে। সে প্রক্রিয়া আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হওয়া প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে। সম্মিলিত ঘোষণাপত্রে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মণিপুরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে হবে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, জবাবদিহি, পারস্পরিক সম্মান এবং সব সম্প্রদায়ের সমান মর্যাদা। গৃহীত প্রস্তাবগুলির ভিত্তিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই সমাবেশে পাহাড় এবং উপত্যকা — উভয় এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল। রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!