- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫
ভোটের ময়দানে আব্বাস সিদ্দিকী ? ক্যানিং পূর্ব থেকে লড়ার ইঙ্গিত ফুরফুরা শরিফের পীরজাদার
এ সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী? বিশ্ব নবী দিবস উপলক্ষে ভাঙড়ের এক ধর্মীয় সভা থেকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন আইএসএফ প্রতিষ্ঠাতা। ২০২১ সালের নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়ে ভাঙর বিধানসভায় ভাই নওশাদ সিদ্দিকীকে লড়াইয়ে নামিয়ে জিতিয়েছিলেন ‘কিংমেকার’ আব্বাস। এবার সরাসরি নিজের নাম ঘোষণা না করলেও ক্যানিং পূর্ব আসন থেকে লড়তে পারেন, এমন জল্পনা জোরালো হয়েছে তাঁর কথাতেই। ঘটকপুকুরে সভার মঞ্চ থেকে আব্বাস বলেন, ‘যেখানে অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার হবে, সেখানেই প্রতিবাদ করতে হাজির হব। মানুষের স্বার্থে লড়াইয়ে নামতে হলে পিছপা হব না।’ ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট যত কাছে আসছে, জল্পনা ততই তীব্র হচ্ছে—এবার কি তবে সরাসরি ভোটের ময়দানে নামছেন আব্বাস!
তবে শুধু ইঙ্গিত দিয়েই থেমে থাকেননি আব্বাস। সভা থেকেই আক্রমণ শানিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার দিকে। সভার আগের দিন মঞ্চ প্রস্তুতির সময় সেখান দিয়ে শওকতের কনভয় গেলে, আইএসএফ কর্মীরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। বলে অভিযোগ। ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শওকত বলেন, ‘নবী দিবসের মঞ্চ থেকে এমন স্লোগান অত্যন্ত লজ্জাজনক। ঢিল ছুড়লে রসগোল্লা ফেরত যাবে না। জবাবে মঞ্চ থেকেই কড়া ভাষায় তৃণমূল বিধায়ককে আক্রমণ করেন আব্বাস। বলেন, ‘ওকে আমি মানুষ বলেই মনে করি না।’ এরপরই নাম না করেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বেশি ঘাটাসনি, তোর ঘাড়ে এসে বসব। তখন দম নিতে পারবি না।’ এর মন্তব্যের জেরেই শুরু হয় ‘ভাইজান’-এর ভোটে দাঁড়ানোর জল্পনা। এদিন, ধর্মীয় ভাষণের পাশাপাশি এ দিন রাজনীতি এবং নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন আইএসএফ নেতা। ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে মোদি সরকারকে নিশানা করে বলেন, নতুন বিলের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় সম্পত্তি—মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান দখল করতে চাইছে সরকার। জানিয়ে দেন, উৎসবের মরসুম কেটে গেলে এ ইস্যুতে ব্রিগেডে বড়ো জমায়েতও করবেন।
২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ক্যানিং পূর্ব আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের শওকত মোল্লা প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সিপিএমের দুর্গে তৃণমূলের এই প্রবেশ অনেকটা ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেই দেখা হয়েছিল। ২০১১ সালের পর থেকেই ক্যানিং পূর্বে তৃণমূলের আধিপত্য বেড়ে চলে। একসময় এ আসন ছিল সিপিএমের প্রবাদপ্রতিম নেতা পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়া আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার অভেদ্য গড়, এই বিধানসভা থেকে টানা ৭ বার বিধায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০৬ সালের পর তাঁর রাজনৈতিক গ্রাফ নিম্নগামী হয়। এরপরই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে তৃণমূল। এবার আব্বাস সিদ্দিকীর নিজেই ক্যানিং পূর্বে লড়বার সম্ভাবনায় শাসকদলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তাদের আশঙ্কা আব্বাস প্রার্থী হলে ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বিধানসভার পর ধীরে ধীরে ওই এলাকায় নিজেদের সংগঠন বাড়িয়েছে আইএসএফ। আব্বাস সিদ্দিকীর জনপ্রিয়তা যে হারে বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে ক্যানিং পূর্বে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তবে, শওকত মোল্লাও এখনো পর্যন্ত নিজের ঘাঁটি ধরে রেখেছেন। সংগঠন, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় মুসলিম জনসমাজের একটা বড়ো অংশের ওপর তাঁর প্রভাব রয়েছে। কিন্তু আইএসএফ যেভাবে মাটি ধরতে চাইছে এবং আব্বাস সিদ্দিকীর জনপ্রিয়তা যে হারে বাড়ছে, তা নিঃসন্দেহে ক্যানিং পূর্বে তৃণমূলের নির্ভার রাজনীতিকে অস্বস্তিতে ফেলছে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, যুযুধান এ লড়াই যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে ক্যানিং পূর্ব হতে পারে রাজ্যের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোর একটি। ভোটের ময়দানে একে অপরকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়বেন না দুই সংখ্যালঘু নেতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালী মুখ। দু-দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রবল সংঘাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
❤ Support Us







