- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ৩০, ২০২৩
রাহুলের সাংসদ পদ খারিজের প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি : ভারতে বিচারব্যবস্থায় স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি
গণতন্ত্র কোন পথে চলবে, নজর রাখছে গোটা বিশ্ব। বিদেশি রাষ্ট্রশক্তি ভারতের অভ্যন্তরীণ মামলায় নাক গলাচ্ছে কেন ? প্রশ্নের জবাব দেবে গণশক্তি
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধির সাংসদ পদ খারিজ হয়েছে।সম্প্রতি এই ঘটনার পরে দেশজুড়ে প্রতিবাদে উত্তাল কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। বিষয়টি নিয়ে আগেই তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছে মার্কিন প্রশাসন এবার প্রতিক্রিয়া দিল জার্মানি। এপ্রসঙ্গে তারা বলেছেন, লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা বজায় থাকে এবং একইসঙ্গে ভারতে বজায় থাকে নাগরিক অধিকার। নাগরিক অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
বিজেপি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করার অভিযোগে রাহুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। প্রসঙ্গত, এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন স্থগিত রাখা হয়েছে আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
ভারতের নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টার লিন্ডনার বলেছেন, জার্মান সরকার মনে করে ভারতে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার বজায় রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।তিনি আরও বলেছেন, বিচারবিভাগকে অবশ্যই স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। বাইরে থেকে কোনও চাপ সৃষ্টি করা অথবা বিচারবিভাগের কাজে নাক গলানো একেবারেই কাম্য নয়।
Congress MP Digvijaya Singh thanked the German Foreign Affairs Ministry and Richard Walker for “taking note of how Democracy is being compromised in India through the persecution of Rahul Gandhi” pic.twitter.com/CRdQp5NouM
— ANI (@ANI) March 30, 2023
রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস ও অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও ভারতে বিচারব্যবস্থা কতদূর পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ করছে, সেব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জার্মানির প্রতিক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কেননা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় রাজনীতিক, সমাজকর্মী থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের ওপর পর্যন্ত অহেতুক মামলা দায়ের করছে সরকার। এমনকি তাঁদের গ্রেফতার করাও হচ্ছে। অনেকসময়েই রাষ্ট্র্দ্রোহের মামলা কিংবা ভারতীয় দন্ডবিধির অন্যান্য ধারায় দায়ের করা হচ্ছে মামলা।
ভারতে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ওয়াল্টা লিন্ডনার যা বলেছেন, তাতে কার্যত ভারতে গণতন্ত্রের মান্যতা সম্পর্কেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভারতে গণতন্ত্র কোন পথে চালিত হবে, সেদিকে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বেরই।
ভারত সাধারণত অন্য কোনো দেশের ঘরোয়া বিষয় আশয় নিয়ে নাক গলায় না। চুপ করে নজর রাখে, কিন্তু মন্তব্য করতে চায় না। স্বাধীনতার পর থেকে এই রেওয়াজ বজায় থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করে আসছে। এখনও যথাসম্ভব তার সত্য দর্শনের ঐতিহ্য বজায় রাখছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ মামলায় বিদেশ কেন নাক গলাবে? আমাদের সমস্যা আমরাই মেটাব, এটাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রীতি ও নীতি হওয়া বাঞ্ছনীয়। ভারতের সাম্প্রতিক বহু কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকা অহেতুক চর্চা করছে। আমরাই তাদের এ সুযোগ করে দিচ্ছি। গণতন্ত্রের ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠলে এরকম হয়ে থাকে। ভারত শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষমতায় যেই থাক না কেন, ভারতের জনশক্তি বিদেশের পরচর্চার মোক্ষম জবাব দেবে।
❤ Support Us






