Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • মে ২১, ২০২৫

‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল, তিন বছরের মধ্যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ট্রাম্পের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল, তিন বছরের মধ্যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ট্রাম্পের

দেশকে বিদেশি আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত করতে ‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ ক্ষেপণাস্ত্র শিল্ড সিস্টেমের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনা ৩ বছরের মধ্যে কার্যকর হবে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে শেষ পর্যন্ত মোট প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে ট্রাম্প বলেন, ‘‌প্রচারের সময় আমি আমেরিকান জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, একটা অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল তৈরি করব। আজ আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি, আমরা এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপত্য নির্বাচন করেছি। ‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে নির্মিত হলে বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলেও, এমনকি মহাকাশ থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলেও দেশ সুরক্ষিত থাকবে। এটা আমাদের দেশের সাফল্য,  এমনকি টিকে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’‌

গোল্ডেন ডোমের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ‘‌এটা স্থল, সমুদ্র এবং মহাকাশে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি স্থাপন করবে, যার মধ্যে রয়েছে মহাকাশভিত্তিক সেন্সর এবং ইন্টারসেপ্টর।’‌ ট্রাম্পের পাশাপাশি বক্তব্য রাখতে গিয়ে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বলেন, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক মিসাইল, হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোনকে আকাশ পথেই ধ্বংস করা, তা সে প্রচলিত হোক কিংবা পারমাণবিক। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর জেনারেল মাইকেল গুয়েটলিন এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেবেন এবং কানাডা এর অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ প্রকল্পের মোট খরচ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হলেও মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অফিস ২০ বছরে সীমিত সংখ্যক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টরের খরচ অনুমান করেছে ১৬১ বিলিয়ন থেকে ৫৪২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে।

‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ নামটি ইজরায়েলের ‘‌আয়রন ডোম’‌ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে এসেছে, যা ২০১১ সালে কার্যকর হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার স্বল্প পাল্লার রকেট এবং অন্যান্য আক্রমণকে বাধা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইদানিং বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে ইজরায়েলের আয়রন ডোম যে স্বল্পপাল্লার অস্ত্র মোকাবেলা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, তার থেকে এগুলি আলাদা। ২০২২ সালের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পর্যালোচনায় রাশিয়া এবং চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বেজিং ওয়াশিংটনের সাথে ব্যবধান কমিয়ে আনছে। অন্যদিকে, মস্কো তার আন্তঃমহাদেশীয় পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করছে এবং উন্নত নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম, এমন উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ড্রোনের হুমকি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং উত্তর কোরিয়া ও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির কাছ থেকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

এই মাসের শুরুতে রাশিয়া এবং চীন ‘‌গোল্ডেন ডোম’‌ পরিকল্পনাকে গভীরভাবে অস্থিতিশীল বলে সমালোচনা করে বলেছিল যে এটি মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার ঝুঁকি নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর ক্রেমলিন কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‌এই পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে মহাকাশে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনার জন্য অস্ত্রাগারের উল্লেখযোগ্য শক্তিশালীকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’‌

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ইউক্রেনে, উন্নত রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় মার্কিন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকান বিমান এবং যুদ্ধজাহাজ গত বছর ইরানি আক্রমণের বিরুদ্ধে ইজরায়েলকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে এবং ইয়েমেনের তেহরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের জাহাজে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন বারবার ভূপাতিত করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!