Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১২, ২০২৫

শূন্যপদ ছিলই, চাকরি বাতিলের কোপে ধুঁকছে রাজ্যের সরকারি স্কুল। সংকটে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোন বিকল্প ব্যবস্থা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শূন্যপদ ছিলই, চাকরি বাতিলের কোপে ধুঁকছে রাজ্যের সরকারি স্কুল। সংকটে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোন বিকল্প ব্যবস্থা

রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের শূন্যপদ ছিলই। কোনরকমে পঠনপাঠন ও অনান্য কাজ টিকিয়ে রেখেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিমকোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি বাতিলের ফলে শেষ পেরেক পড়ল। বাংলার আগামী প্রজন্মের ভবিস্যৎ প্রবল সংকটে। চাকরিহারাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের করুণ দৃশ্য তুলে ধরা একান্ত প্রয়োজন। অবিলম্বে নেওয়া দরকার বিকল্প ব্যবস্থা।

সুপ্রিমকোর্টের নজিরবিহীন রায়ে ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশ, নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক এবং গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার জন চাকরি হারিয়েছেন। স্কুল নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও কারচুপির অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে বাংলার রাজনীতি ও নাগরিক সমাজ উত্তাল। আন্দোলনে রাজপথে দিন কাঠাচ্ছেন চাকরিহারারা। রাজ্যসরকারের তরফে সমস্যা না মেটা পর্যন্ত চাকরিহারাদের স্কুলে ফিরে যাবার অনুরোধ করা হয়েছে। যদিও চাকরি ও মর্যাদা খুইয়ে স্কুলে যেতে নারাজ অধিকাংশ আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বেতন পাওয়া নিয়েও রয়েছে জটিলতা। তবে, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে এবং ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে একাংশ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী স্কুলে যাচ্ছেন। আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তা বুকে চেপে রেখেই তাঁরা ক্লাস নেওয়া থেকে শুরু করে নিজেদের কর্তব্য পালন করছেন। এমত অবস্থায় রাজ্যের লাখ লাখ পড়ুয়ার ভবিস্যৎ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের শূন্যপদ ছিলই। কোনরকমে পঠনপাঠন ও অনান্য কাজ টিকিয়ে রেখেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বাতিলের ফলে সুষ্ঠ পঠন পাঠনের ক্ষেত্রে শেষ পেরেক পড়ল।

এতজন শিক্ষক, শিক্ষিকা, কর্মচারীদের একযোগে চাকরি বাতিল হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষায় আশঙ্কা আর সংকটের পরিস্থিতি। ২০১৬ সালের পর স্কুলগুলিতে নতুন করে নিয়োগ হয়নি। ফলে শিক্ষক ও কর্মচারীর অভাব সব জায়গাতেই ছিল। শিক্ষিক শিক্ষিকাদের নিতে হত বেশি ক্লাস, কর্মচারীদের করত হত বরাদ্দের বেশি কাজ। এখন এতজন মাস্টার-ম্যাডাম ও শিক্ষাকর্মীর ‘উধাও’ হয়ে যাওয়াতে স্কুলপরিকাঠামো একদম ভেঙে পড়েছে। কোথাও শিক্ষকরা পিরিয়ড শেষের ঘন্টা বাজাচ্ছেন, কোথাও একজন শিক্ষক একসঙ্গে দুটি ক্লাসের সম্মিলিত ক্লাস নিচ্ছেন, কোথাও বা প্রধান শিক্ষক নোটিশ নিয়ে ছুটোছুটি করছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম বাংলার জেলাগুলিতে স্কুলে ঢুকলেই করুণ দৃশ্য চোখে পড়ছে। কোথাও শিক্ষকের অভাবে প্রথম ধাপের পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কুল, কোথাও বন্ধ সায়েন্স ও কমার্স বিভাগের পঠনপাঠন। কোথাও সিভিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও আবার পরীক্ষার হলে গার্ড দিচ্ছে উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে এ নিয়ে রাজ্য সরকার থেকে বিরোধী দল সকলেই প্রায় নিশ্চুপ। বেসরকারী স্কুলের জাঁকজমক ব্যবস্থার সঙ্গে অসম লড়াই, প্রতিবছর স্কুল ড্রপআউটের সংখ্যা উত্তরত্তর বৃদ্ধি একাধিক সমস্যার কারণে ছাত্রশূন্য বহু সরকারি স্কুল চিরকালের মতো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নয়া সংকটে বাংলার হাজার হাজার সরকারি স্কুল ও তাতে পাঠ্যরত কচিকাঁচাদের পড়াশোনা। কোন মাস্টার যোগ্য আর কে অযোগ্য তা বোঝা না গেলেও সমস্ত ছাত্রছাত্রীই কিন্তু যোগ্য। সঠিক শিক্ষা পাওয়ার অধিকার এদের প্রত্যেকের আছে। গ্রাম-মফস্বলের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাধ্য হবে তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য মহার্ঘ শিক্ষা বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে কিনতে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যের বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার পর তার প্রভাব কতখানি সূদুর প্রসারি তা বোধকরি শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তা, শিক্ষামন্ত্রী কেউই উপলব্ধি করতে পারছেন না। এর ফল আগামী কয়েক প্রজন্মকে ভুগতে হবে। এখনো পর্ষদ বা ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর-এর তরফ থেকে থেকে শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিক ‘বাতিল পত্র’ দেওয়া হয়নি। ধোঁয়াশায় আছন্ন চাকরিহারা শিক্ষকরা। প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ‘হারিয়ে’ শোকে আছন্ন, মুহ্যমাণ বাংলার কয়েক লক্ষ শিশু-কিশোরেরা। মেদিনীপুরের শালবনী ব্লকের কলাইমুড়ি নেতাজি সুভাষ হাইস্কুলের একজন দর্শনের শিক্ষিকা ও ৩ জন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেই শিক্ষিকা মঙ্গলবার ও বুধবার স্কুলে এসেছিলেন। শুক্রবার তিনি ব্যক্তিগত কারণে স্কুলে আসেন নি। স্কুলের কাজ যাতে থমকে না যায় এ কথা ভেবে চাকরিহারা ৩ শিক্ষাকর্মী স্কুলে এসেছেন, দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু সব স্কুলের জন্য এই ছবি নয়। মেদিনীপুরেরই আরেক স্কুল গুড়গুড়িপাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। চাকরি বাতিলের নির্দেশ শোনার পর তাঁরা কেউ স্কুলে আসেন নি। কেবল অঙ্কের এক শিক্ষিকা শুক্রবার স্কুলে এসে নেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম ভৌমিক জানান, ‘রেজিস্ট্রারে সই নিয়ে কিছুটা সংশয়ে ছিলাম, কারণ কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাইনি।’ শেষ পর্যন্ত সেই শিক্ষিকাও সই করেন বলে জানা গেছে। মুর্শিদাবাদের ভাসাইপাইকড় হাইস্কুলের অবস্থাও উদ্বেগজনক। ৮,৫০০ পড়ুয়ার জন্য আগে ছিলেন ৪০ জন শিক্ষক, যার মধ্যে ১৬ জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মহম্মদ তাসিকুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞান বিভাগ পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়েছে – ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি-র কোনো শিক্ষক নেই। একা ২৪ জন শিক্ষকের পক্ষে সব ক্লাস চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে সুতির ছাবঘাটি কে ডি বিদ্যালয়ে এক ধাক্কায় ২৪ জন শিক্ষক ও একজন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে, যার ফলে স্কুলের পঠনপাঠনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ঝাড়গ্রামের এক স্কুলে একমাত্র শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। আবার ইন্দাস ব্লকের শান্তাশ্রম জুনিয়র গার্লস হাই স্কুলে একমাত্র স্থায়ী শিক্ষিকা শতাব্দী রায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মী গোলক মজুমদারকে ক্লাস সামলাতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও গোলক স্নাতকোত্তর এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষিত, তাঁর শিক্ষাদানের দায়িত্ব আইনি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চাঁদগ্রাম জুনিয়র হাই স্কুল ও টাসুলি জুনিয়র হাই স্কুলেও শিক্ষকের অভাবে পড়ুয়াদের সংখ্যা কমে আসছে আশঙ্কাজনক হারে। অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের দূরের স্কুলে পাঠানোর কথা ভাবছেন।

নদিয়া জেলার বহু স্কুল ইতিমধ্যেই শিক্ষক-সংকটে ভুগছে। দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ না পূরণ হওয়ার ফলে তৈরি হয়েছে চাপের পরিস্থিতি, আর তার উপরে সাম্প্রতিক চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। এখন পঠনপাঠন বজায় রাখাই স্কুলগুলোর কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। চাপড়ার বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রানাবন্ধ সেন্ট মেরিজ় হাইস্কুলে প্রায় ১৮০০ পড়ুয়া পড়ে। সেখানে ৪০ জন স্থায়ী শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ২৯ জন। স্কুলে জীবনবিজ্ঞানের কোনও শিক্ষক না থাকায়, ওই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কর্মশিক্ষার শিক্ষককেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক জয়ন্ত ঘোষ বলছেন, ‘স্কুলে ক্লাস পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে তা সামলানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’ করিমপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৪০ জন শিক্ষিকার মধ্যে রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। কেচুয়াডাঙ্গা বিধানচন্দ্র বিদ্যানিকেতনে ২৬ জন শিক্ষকের জায়গায় রয়েছেন ১৫ জন। অঞ্জনগড় হাই স্কুলে যেখানে ৩০ জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে রয়েছেন ২০ জন। শান্তিপুরের বাগআঁচড়া হাই স্কুলে ৪০টির মধ্যে ২৭টি পদ পূর্ণ রয়েছে। পলাশির মীরা হাই স্কুলে ৪৫ জনের জায়গায় মাত্র ২৭ জন শিক্ষক রয়েছেন, যদিও ছাত্রসংখ্যা প্রায় ১৯০০। লাখুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থাও তেমনই—প্রায় ১৫০০ পড়ুয়ার জন্য যেখানে আগেই ছ’টি পদ শূন্য ছিল, সেখানে আরও চারজন শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। এখন মাত্র ২৭ জন শিক্ষককে দিয়েই সমস্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

রাজ্যের সব জেলার চিত্র কমবেশি একই। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন, নবম-দশম শ্রেণির ১২,৯৪৬ জন শিক্ষক, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ৫,৭৫৬ জন শিক্ষক, গ্রুপ সি বিভাগের ২,৪৮৩ জন কর্মী, গ্রুপ ডি বিভাগের ৪,৫৫০ জন কর্মী। এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পবে রাজ্যের ৩,১২৫টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, ৫,৪২৬টি নবম-দশম শ্রেণির বিদ্যালয়ে। গ্রুপ সি ও ডি ছাঁটাইয়ে প্রভাবিত হতে পারে যথাক্রমে ২,২১৫ ও ৩,৮৮৫টি বিদ্যালয়। এই পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পঠনপাঠনের গুণগত মান বজায় রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, এই সংকটের মূল কারণ বহু বছর ধরে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকা। এবিটিএ-র জেলা সম্পাদিকা অস্মিতা দাশগুপ্ত জানান, বাঁকুড়ার বিভিন্ন স্কুল যেমন বিক্রমডিহি, মুকুন্দপুর, সোনামুখী খাগ প্রভৃতি জুনিয়র হাই স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে। এই সংকট মেটাতে শিক্ষা সংসদ ‘ক্লাস্টার মডেল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থাৎ, একাধিক স্কুলের পড়ুয়াদের একত্রিত করে যে স্কুলে শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে পাঠদান চালানো হবে। ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক রাজা দে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের স্কুলে বহু দিন ধরে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নেই। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়েছে।’ অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ধরনের যৌথ পাঠদানই আপাতত বিকল্প পথ হতে পারে। তবে অনেক শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবক এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান।

এত সবের মাঝে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় শিক্ষকমহল ও পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবছর উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা কমছে। বর্তমানে তা মাত্র ১৪ শতাংশ। শিক্ষক সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এই সংখ্যা আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে কিছুটা কাজ চালানো হচ্ছে, তা স্থায়ী সমাধান নয়। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের মতো টেকনিক্যাল বিষয়ের জন্য দক্ষ শিক্ষক অপরিহার্য। তাই শিক্ষা মহল জোরালোভাবে স্থায়ী নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আশু সমাধান খুঁজতে প্রধানশিক্ষকদের তরফ থেকে ফোন যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের দফতরে।

কোর্টের রায়ে চাকরি খুইয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে পূর্ব বর্ধমানের ১০২৪ জন। এর কমবেশি প্রভাব পড়েছে জেলার শতাধিক স্কুলে। জেলার বহু স্কুলে চলছে ইউনিট টেস্ট। আবার ‘বছরের পর বছর ধরে’ নানারকম বঞ্চনার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে টানা তিনদিন স্কুল বয়কটের ডাক দেয় পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। এর ফলে বহু স্কুলে পরীক্ষা চালানোই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় ‘পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা ভেবে’ অবশ্য বহু স্কুলে হাজির হচ্ছেন পার্শ্বশিক্ষকরা। ক্লাস করাই শুধু নয়। চাকরিহারাদের শূন্যতা পূরণে নির্ধারিত ক্লাসের তুলনায় বেশি ক্লাস করছেন। পরীক্ষায় গার্ড দিচ্ছেন। সকলেরই এক কথা, ‘আমরা বঞ্চিত, এটা ঠিক। কিন্তু ছাত্রদের স্বার্থ সবার উপরে। তাই দাবি রেখেও স্কুল যাচ্ছি।’

পূর্বস্থলী শ্রীরামপুর ভারতী ভবন উচ্চবিদ্যালয়ে ১৪০০ পড়ুয়া। শিক্ষক-শিক্ষিকা ২১। আদালতের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২ জন। কিন্তু স্কুলের পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে না ৫ পার্শ্বশিক্ষক বয়কটে শামিল না হওয়ায়। ব্রজগোপাল বিশ্বাস নামে এক পার্শ্বশিক্ষকের কথায়, ‘আমরা না এলে সমস্যায় পড়ত স্কুল। সেটা ভাল হত না। তাই তিনদিনই স্কুলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ প্রধানশিক্ষক তাপস রায়ও কবুল করলেন, ‘পার্শ্বশিক্ষকরা না এলে সত্যিই সমস্যা হত।’ পূর্বস্থলীর পাটুলি উচ্চবিদ্যালয়ের ৪ পার্শ্বশিক্ষকই স্কুলে আসছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই স্কুলের চাকরি গেছে ২ শিক্ষকের। পূর্বস্থলী নীলমণি ব্রহ্মচারী হাইস্কুলের ৫ পার্শ্বশিক্ষকই স্কুলে আসছেন। ‘স্কুলের ছাত্রদের ক্ষতি করে ধর্মঘটে শামিল হবেন না’ বলে স্কুলে আসছেন মন্তেশ্বরের মালডাঙা রাজেন্দ্র স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের ২ পার্শ্বশিক্ষকই। কালনার অম্বিকা মহিষমর্দিনী উচ্চবিদ্যালয়ের ২ জন পার্শ্বশিক্ষক। একজন ছুটিতে। অন্যজন স্কুলে আসছেন। স্কুলের স্বার্থে নিজেদের দাবি পূরণে পার্শ্বশিক্ষকরা ধর্মঘটে শামিল না হওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি খুইয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে পূর্ব বর্ধমানের ১০২৪ জন। এর কমবেশি প্রভাব পড়েছে জেলার শতাধিক স্কুলে। জেলার বহু স্কুলে চলছে ইউনিট টেস্ট। আবার ‘বছরের পর বছর ধরে’ নানারকম বঞ্চনার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে টানা তিনদিন স্কুল বয়কটের ডাক দেয় পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। এর ফলে বহু স্কুলে পরীক্ষা চালানোই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় ‘পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা ভেবে’ অবশ্য বহু স্কুলে হাজির হচ্ছেন পার্শ্বশিক্ষকরা। ক্লাস করাই শুধু নয়। চাকরিহারাদের শূন্যতা পূরণে নির্ধারিত ক্লাসের তুলনায় বেশি ক্লাস করছেন। পরীক্ষায় গার্ড দিচ্ছেন। সকলেরই এক কথা, ‘আমরা বঞ্চিত, এটা ঠিক। কিন্তু ছাত্রদের স্বার্থ সবার উপরে। তাই দাবি রেখেও স্কুল যাচ্ছি।’

পূর্বস্থলী শ্রীরামপুর ভারতী ভবন উচ্চবিদ্যালয়ে ১৪০০ পড়ুয়া। শিক্ষক-শিক্ষিকা ২১। আদালতের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২ জন। কিন্তু স্কুলের পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে না ৫ পার্শ্বশিক্ষক বয়কটে শামিল না হওয়ায়। ব্রজগোপাল বিশ্বাস নামে এক পার্শ্বশিক্ষকের কথায়, ‘আমরা না এলে সমস্যায় পড়ত স্কুল। সেটা ভাল হত না। তাই তিনদিনই স্কুলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ প্রধানশিক্ষক তাপস রায়ও কবুল করলেন, ‘পার্শ্বশিক্ষকরা না এলে সত্যিই সমস্যা হত।’ পূর্বস্থলীর পাটুলি উচ্চবিদ্যালয়ের ৪ পার্শ্বশিক্ষকই স্কুলে আসছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই স্কুলের চাকরি গেছে ২ শিক্ষকের। পূর্বস্থলী নীলমণি ব্রহ্মচারী হাইস্কুলের ৫ পার্শ্বশিক্ষকই স্কুলে আসছেন। ‘স্কুলের ছাত্রদের ক্ষতি করে ধর্মঘটে শামিল হবেন না’ বলে স্কুলে আসছেন মন্তেশ্বরের মালডাঙা রাজেন্দ্র স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের ২ পার্শ্বশিক্ষকই। কালনার অম্বিকা মহিষমর্দিনী উচ্চবিদ্যালয়ের ২ জন পার্শ্বশিক্ষক। একজন ছুটিতে। অন্যজন স্কুলে আসছেন। স্কুলের স্বার্থে নিজেদের দাবি পূরণে পার্শ্বশিক্ষকরা ধর্মঘটে শামিল না হওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!