Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • আগস্ট ১৯, ২০২৫

যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির জন্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ইজরায়েলের নতুন প্রস্তাবে সম্মত হামাস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির জন্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ইজরায়েলের নতুন প্রস্তাবে সম্মত হামাস

গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং দুই ধাপে জিম্মিদের মুক্তির জন্য হামাসদের একটা নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইজরায়েল। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিসহ প্রস্তাবিত জিম্মি মুক্তি চুক্তিতে রাজি হয়েছে হামাস। তবে প্রস্তাবের কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিটি পর্যায়ে কতজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে তাও স্পষ্ট নয়। মধ্যস্থতা করার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি মিশর যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফিলিস্তিনি কর্তা সংবাদসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‌এই প্রস্তাব স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা শুরু করার একটা কাঠামোগত চুক্তি। হামাসের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যে এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলগুলির নেতাদের সঙ্গে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’‌ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন গাজা শহর দখলের ইজরায়েলি পরিকল্পনা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে, তখন নতুন করে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী যখন মিশরের এল আলামিনে যাচ্ছিলেন তখন তাঁকে এই প্রস্তাবের কথা জানানো হয় এবং হামাস প্রতিনিধিদলকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়।

কাতার, মিশর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা রবিবার আলোচনা বসেছিলেন। আলোচনায় সন্তোষজনক ফলাফল না হওয়ায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী আল থানি মিশরে যাচ্ছেন। হামাস প্রতিনিধি এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল–ফাত্তাহ আল–সিসির সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার কথা। সেখানেই তিনি নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। নতুন প্রস্তাবটিতে আংশিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান এবং সমস্ত জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ের কথা বলে হয়েছে। এমনই দাবি করেছে ইজরায়েল। প্রস্তাবটিতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য একটা কাঠামোগত চুক্তি সম্পর্কিত প্রস্তাবের প্রতি হামাসের প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা বলা হয়েছে।
সোমবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ মুস্তাফা মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি সঙ্গে গাজা ও রাফা পরিদর্শনে যান। গাজা ও রাফা পরিদর্শন করে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেন, ‘‌আমরা এখন যেমন কথা বলছি, মিশরের মাটিতে ফিলিস্তিনি এবং কাতারি প্রতিনিধিদল উপস্থিত রয়েছে। তারা পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড এবং অনাহার বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার করার জন্য কাজ করছে।’‌ মুস্তাফা বলেন, ‘‌আমরা শীঘ্রই ফিলিস্তিনি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় উপত্যকার বিষয়গুলি পরিচালনার জন্য একটা অস্থায়ী কমিটি প্রতিষ্ঠা করব। এই সংস্থাটি নতুন হবে না। বরং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং গাজায় এর সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলির পুনঃসক্রিয়করণ হবে।’‌ মুস্তাফা আরও বলেন, ইজরায়েলের সামরিক অভিযান গাজা উপত্যকায় ‘‌ব্যবস্থা’‌ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য কোনও স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বৈধতা দেয় না। তিনি গাজাবাসীদের মিশরের ভূখণ্ডে গ্রহণ করার জন্য মিশরের ওপর মার্কিন চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইজরায়েল যদিও বলেছে যে, তারা এমন একটা চুক্তি চায়, যাতে সমস্ত জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে। তবুও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসের সঙ্গে আংশিক যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি চুক্তি বিবেচনা করতে প্রস্তুত। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য বিপরীত। একজন ইজরায়েলি কর্তা সম্প্রতি জিম্মিদের আত্মীয়দের বলেছেন যে, যদি হামাস এখানে গ্রহণযোগ্য শর্তে আংশিক চুক্তিতে সম্মত হয়, তাহলে হঠাৎ করে যদি লাল রেখাটি সরে যায় তবে অবাক হবেন না।‌‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!