Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

নির্বাচনে জিতেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে দিল্লিকে চাপ বিএনপির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নির্বাচনে জিতেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে দিল্লিকে চাপ বিএনপির

দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রত্যার্পন চেয়ে ভারত সরকারের কাছে বারবার চাপ দিয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দিল্লি সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি। সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে এবার একই দাবি তুললেন বিএনপি–র শীর্ষনেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, তাঁর দল আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করবে।

ঢাকার গুলশানে বিএনপি–র দলীয় কার্যালয়ে বসে তিনি বলেন, ‘‌আমরা আইন অনুসারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর চাপ দেব। এটা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটা বিষয়। আমরা ভারত সরকারকে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ফেরত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই হাসিনার প্রত্যর্পণের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন এবং আমরাও এটাকে সমর্থন করি।’‌

২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। সেই থেকেই ভারত সরকারের আশ্রয়ে দিল্লিতে তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বিদ্রোহ দমনের সঙ্গে সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সহিংসতার তদন্তের কারণে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলকতার সমালোচনাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‌দেশের মানুষ জানে যে এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আসলে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।’‌ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ২০২৫ সালে বিদ্রোহের সময় দলের আচরণের তদন্তের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আহমেদ বলেন, ‘‌আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এটি প্রক্রিয়াধীন।’‌

ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। এমনই জানিয়েছেন বিএনপি–র এই শীর্ষ নেতা। তবে সেই সম্পর্ক হবে সমতার ভিত্তিতে। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‌আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সমতার ভিত্তিতে ভারতসহ সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই।’‌ তিনি জুলাইয়ের জাতীয় সনদের কথাও উল্লেখ করে বলেন যে, এটি ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি অংশীদারদের মধ্যে একটা রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁর কথায়, ‘‌জাতীয় সনদ রাজনৈতিক চুক্তির একটা দলিল এবং এটা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা হবে।’‌

অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয়ের দিনই ভোটপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক তীব্র বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন ছিল ‘পূর্বপরিকল্পিত প্রতারণা ও প্রহসন’, এবং মুহাম্মদ ইউনূসের-নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। আওয়ামী লীগের ঢাকা কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে হাসিনা দাবি করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ‘দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক লজ্জাজনক অধ্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁর কথায়, নির্বাচন জনগণের মতামতের প্রতিফলন নয়, বরং ‘সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এক প্রশাসনিক অনুশীলন’-এ পরিণত হয়েছে। ইউনুস প্রশাসনকে নিশানা করে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকা সত্ত্বেও ভোটদানের হার বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। ‘ভোটকেন্দ্রে ভোটার ছিল না, কিন্তু গণনার টেবিলে ভোট ছিল’—এই মন্তব্য করে তিনি সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

হাসিনার দাবি, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ১৪.৯৬ শতাংশ, যা দুপুরের মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৩২.৮৮ শতাংশে। তাঁর মতে, এই বৃদ্ধির অর্থ দাঁড়ায় সারা দেশে প্রতি মিনিটে কয়েক লক্ষ ভোট পড়েছে, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সাধারণত সকালেই ভোটদানের হার বেশি থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চূড়ান্তভাবে ঘোষিত ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোটদানের হারকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ফাঁকা ভোটকেন্দ্র, নিষ্ক্রিয় বুথ এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠীর কম অংশগ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বন্দি ভোটারদের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ এবং প্রবাসী ভোটারদের প্রায় ৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন।

ভোটের আগের রাতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে বিবৃতিতে—ভোটকেন্দ্র দখল, আগেভাগে ব্যালটে সিল মারা এবং ভোট শুরুর আগেই ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভোটের দিন দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাই, জোরপূর্বক ভোটদান ও ভুয়ো ভোটের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। অতীতের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা বলেছেন, বিএনপি  আগে নির্বাচন বয়কট করলেও এবার আওয়ামী লীগ-কে ‘অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ও জোরপূর্বক বাদ’ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর দলের শান্তিপূর্ণ বয়কটের ডাক জনগণ মেনে নিয়েছে। বিবৃতির শেষে তিনি নির্বাচন বাতিল, ইউনুসের পদত্যাগ, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জনিয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!