- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
ভারতীয় ফুটবলে ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তৃতীয় লিঙ্গের জন্য চালু হল ফুটবল লিগ
পুরুষ ও মহিলা ফুটবলের কথা নতুন করে কিছু বলা নেই। তাই বলে তৃতীয় লিঙ্গের ফুটবল! হ্যাঁ, দেশে এই প্রথম শুরু হল তৃতীয় লিঙ্গের ফুটবল লিগ। ভারতীয় ফুটবলের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে। জামশেদপুর ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ফুটবল লিগের সূচনা প্রত্যক্ষ করল, যা ভারতীয় খেলাধুলায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
দেশের এই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ফুটবল লিগ শুরু হল জামশেদপুরে। নাম দেওয়া হয়েছে জামশেদপুর সুপার লিগ। ৭ ডিসেম্বর জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের কৃত্রিম ফুটবল টার্ফে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই তৃতীয় লিঙ্গের লিগে মোট ৭টি দল অংশ নিয়েছে। দলগুলি হল জামশেদপুর এফটি, চাইবাসা এফসি, চক্রধরপুর এফসি, জামশেদপুর ইন্দ্রনগর এফসি, নাওমুন্ডি এফসি, সরাইকেলা এফসি এবং কোলহান টাইগার এফসি।
ফাইভ-এ-সাইড ফর্ম্যাটে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৭টি দলে মোট ৭০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ফুটবলার অংশ নিয়েছেন। প্রত্যেক রবিবার খেলা হবে। ৬ মাস ধরে এই প্রতিযোগিতা চলবে। উদ্বোধনী দিনে তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে জামশেদপুর এফটি ৭–০ ব্যবধানে হারায় চাইবাসা এফসি–কে। অন্যম্যাচে, কোলহান টাইগার এফসি ৩–০ ব্যবধানে জেতে চক্রধরপুর এফসি–র বিরুদ্ধে। জামশেদপুর ইন্দ্রনগর এফসি এবং নোয়ামুন্ডি এফসি–র মধ্যে ম্যাচ ড্র হয়।
তৃতীয় লিঙ্গের এই ফুটবল লিগ শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুরুষ ও মহিলাদের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ এবং ইতিবাচক পরিবেশে সমান তালে প্রতিযোগিতা করার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুযোগ এনে দিয়েছে। আর এই সুযোগ পেয়ে প্রত্যেকেই আপ্লুত। জামশেদপুর এফটি–র হয়ে খেলা পূজা সয় বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা এই ধরণের ফুটবল লিগে খেলার সুযোগ পেলাম। আমাদের তৃতীয় লিঙ্গের ক্রীড়াবিদদের কাছে এর গুরুত্ব অনেক।’ পূজা আরও বলেন, ‘মনে হয়েছিল, লিঙ্গের জন্য নয়, আমাদের খেলা দেখার জন্য সবাই এসেছে।’
জামশেদপুর এফটির অধিনায়ক পিয়ারি হেসা এই ফুটবল লিগকে তাদের সম্প্রদায়ের জন্য একটা গভীর অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্ত হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই যুগান্তকারী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। এটা আমাদের এমন একটা প্ল্যাটফর্ম দেয়, যা আমরা আগে কখনও পাইনি এবং আশা করি অন্যান্য রাজ্যগুলিও অনুসরণ করবে।’
খেলাধুলা লিঙ্গ এবং সামাজিক সীমানা অতিক্রম করে অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। এই বিশ্বাস থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামশেদপুর ফুটবল ক্লাবের গ্রাসরুটস এবং যুব ফুটবলের প্রধান কুন্দন চন্দ্র তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষমতায়নের প্রতি ক্লাবের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফুটবলকে এমন একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে হবে, যেখানে বৈষম্য ছাড়াই প্রতিভা লালন করা হয় এবং যেখানে লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে সকল খেলোয়াড়কে অংশগ্রহণ, প্রতিযোগিতা এবং উৎকর্ষ অর্জনের সমান সুযোগ দেওয়া হয়।’
তৃতীয় লিঙ্গের এই জামশেদপুর সুপার লিগ ভারত জুড়ে ক্রমবর্ধমান একটা আন্দোলনের অংশ, যা খেলাধুলার মাধ্যমে লিঙ্গ অধিকারকে সমর্থন করে। একই রকম মনোভাব নিয়ে, ১৯ এবং ২০ ডিসেম্বর রায়পুরে ‘সমতা কা মহোৎসব’ থিমের অধীনে জাতীয় ট্রান্সজেন্ডার স্পোর্টস মিট ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। এই ইভেন্টটি সারা দেশের ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের একত্রিত করবে। এই উদ্যোগগুলি একটা অন্যরকম দিক প্রতিফলিত করে, যেখানে প্রতিটি ক্রীড়াবিদ, লিঙ্গ বা পটভূমি নির্বিশেষে, খেলার এবং নিজেকে মেলে ধরার জায়গা খুঁজে পায়।
❤ Support Us







